শুক্রবার| জানুয়ারি ২৪, ২০২০| ১১মাঘ১৪২৬

শেষ পাতা

বিদ্যুতের দাম গ্রাহক পর্যায়ে ৫% বাড়ানোর প্রস্তাব ডেসকোর

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান পাইকারি দর বিবেচনায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) পাইকারি মূল্য বাড়লে সেটি সমন্বয় করতে বলেছে প্রতিষ্ঠানটি। আর ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) বিদ্যমান বিতরণ ব্যয় আগামী বছর ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এসব প্রস্তাব দেয় প্রতিষ্ঠান দুটি।

বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলামের সভাপতিত্বে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন কমিশন সদস্য রহমান মুর্শেদ, মিজানুর রহমান মাহমুদ উল হক ভূঁইয়া।

গণশুনানিতে ডেসকোর পক্ষে মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শহীদ সারোয়ার। তিনি বলেন, আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে সিস্টেম লস দশমিক ১১ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এরপর মনে হয় আর খুব বেশি কমানো সম্ভব হবে না। শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হয়তো কঠিন হবে। এর মধ্যে অনেকটা টেকনিক্যাল লোকসান। আবাসিক গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে টাকা ১২ পয়সা হারে লোকসান হচ্ছে। কারণে দাম বাড়ানো প্রয়োজন।

এছাড়া ১৩২ কেভি লেভেলে অপারেশন রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বিবেচনায় ৩৩ কেভি ১৩২ কেভি লেভেলে ২০ পয়সা পার্থক্য নির্ধারণের আবেদন করেছে ডেসকো। ২০১৭ সালে বিলুপ্ত হওয়া পাওয়ার ফ্যাক্টর শুদ্ধীকরণ চার্জ পুনর্বহালও চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুনানিতে জানানো হয়, ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে ১৫৮ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে ৬৪ কোটি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে ৯৪ কোটি টাকা বকেয়া আছে।

ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন্স) এটিএম হারুণ অর রশিদ বলেন, দুই সিটি করপোরেশনকে বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা না হলে আগামী জানুয়ারিতে তাদের সব বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

দিনের প্রথম ভাগে অনুষ্ঠিত শুনানিতে বিদ্যমান বিতরণ ব্যয় ২০২০ সালে ৪১ পয়সা বাড়িয়ে টাকা ২৪ পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিপিডিসি। তবে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির বর্তমান বিতরণ ব্যয় ৮৩ থেকে পয়সা বাড়িয়ে ৮৭ পয়সা করলেই চলবে।

গণশুনানিতে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দশমিক শতাংশ সিস্টেম লসের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে দশমিক ২৯ শতাংশ অর্জন করায় ৬১ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। বিতরণ ব্যয় বাড়ানোর কারণ হিসেবে অবচয়, সম্পদের পরিবৃদ্ধি, জনবল বৃদ্ধি, পরিচালন রক্ষণাবেক্ষণ এবং আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধিকে উল্লেখ করেছে ডিপিডিসি। বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে শতাংশ হারে রিবেট দেয়ায় দশমিক ২২ কোটি টাকা আয় কম হচ্ছে। তাই হার শূন্য দশমিক শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২০ সালে রিটার্ন অন রেট বেজ বিবেচনায় বর্তমান খুচরা মূল্য সমন্বয় করে ৪২৭ দশমিক ৭৫৯ কোটি টাকা রাজস্ব চাহিদা পূরণ করা প্রয়োজন।

বিইআরসির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বরের দেয়া মূল্যহার আদেশে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিতরণ ব্যয় ছিল প্রতি ইউনিটে শূন্য দশমিক ৮৩ পয়সা। বিদ্যমান পাইকারি সঞ্চালন মূল্যহারের ভিত্তিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এনার্জি রেট ছিল টাকা ৬৩ পয়সা। রেট বেজের ওপর গড়ে দশমিক ৯৬ শতাংশ রিটার্ন বিবেচনায় ২০২০ সালে ডিপিডিসির নিট বিতরণ রাজস্ব চাহিদা প্রতি ইউনিটে শূন্য দশমিক ৮৭ পয়সা।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, যে অবচয়ের কারণে খরচ বাড়ছে সেটা অনেকাংশে মিটারিং সিস্টেমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মিটারের দাম নিয়ে বিইআরসির নজর দিতে হবে। এখন ডাবল লাইনের যে সিস্টেম চালু করা হচ্ছে, সেটাও খরচ বৃদ্ধির কারণ। ডাবল লাইনের পরও মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।

আজ শেষ দিনের শুনানিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন