শুক্রবার| জানুয়ারি ২৪, ২০২০| ১১মাঘ১৪২৬

শেষ পাতা

জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এটাই সময়

বণিক বার্তা ডেস্ক

শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে শুরু হওয়া জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের লিডার্স সামিটে দেয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে প্রতিটি দেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জলবায়ুজনিত অরক্ষিত দেশগুলোর জন্য অস্তিত্বের হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। আমরা সম্ভবত আমাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক অতিক্রম করছি। আমরা যদি শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদের শিশুরা আমাদের ক্ষমা করবে না। খবর বাসস।

স্থানীয় সময় গতকাল সকালে স্পেনের ফারিয়া দা মাদ্রিদে কপ-২৫ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা। এটি বর্তমানে মানবজীবন এবং পরিবেশ, প্রতিবেশ প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ। ১৯৯২ সালে ধরিত্রী সম্মেলন শুরু হওয়ার পর আমরা গ্রিনহাউজ গ্যাস হ্রাসের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জনে সক্ষম হইনি। এর নিঃসরণ এখনো বাড়ছে। প্রবণতা বিশ্বের জন্য এখনো টেকসই নয়।

শেখ হাসিনা বলেন, মোকাবেলার সীমিত সক্ষমতা সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে আমাদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির ধকল বয়ে বেড়াচ্ছি, অথচ এক্ষেত্রে আমাদের যৎসামান্য অথবা কোনো দায়ই নেই। এটা একটা মারাত্মক অবিচার। বিশ্বসম্প্রদায়কে এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে। মালেতে ২০০৯ সালের নভেম্বরে ফোরামের প্রথম বৈঠকের পর থেকে বৈশ্বিক জলবায়ু ভূপৃষ্ঠের যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। হতাশার বিষয় হলো, ইউএনএফসিসিসি প্রক্রিয়ার আওতায় অগ্রগতি খুবই ধীর অত্যন্ত অপ্রতুল। বিশেষত আমাদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে জাতীয়ভাবে দৃঢ় অভিযোজন উদ্যোগের সমর্থনে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ এখনো কঠিন বিষয়। যেসব দেশ এরই মধ্যে যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে, বিশেষত সেসব দেশের ক্ষেত্রে শর্ত ক্রাইটেরিয়াসহ তহবিল এবং প্রযুক্তির সরাসরি সহজ প্রাপ্তি সহায়ক হতে পারে। আমাদের মতো সর্বাপেক্ষা ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, যেগুলোকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন, সেসব দেশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছে না।

অভিযোজন প্রচেষ্টা জোরদার করতে নেদারল্যান্ডসে ২০২০ জলবায়ু অভিযোজন সম্মেলনের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সদস্যরা যদি বিষয়ে আমাদের সম্মান জানাতে সদয় হন, তবে বাংলাদেশ ফোরামের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রয়েছে। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্টের সাফল্য ম্যাডাম হেইনের ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি আমাদের উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে।

মিয়ানমার থেকে আসা ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের ঝুঁকি, প্রভাব মোকাবেলার সক্ষমতার অভাব রয়েছে এমন অরক্ষিত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার জন্য একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তন সমর্থনও অব্যাহত রাখতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ুর প্রভাব মানবজাতির অভিবাসনের ওপরও যে ব্যাপক, তা সবাই অবগত। সহিংস সংঘাতের চেয়েও আবহাওয়ার বৈরী আচরণের কারণে অনেক বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি মরুকরণের মতো ধীরগতির ঘটনা বিশ্বব্যাপী আরো কম মনোযোগ পেয়েছে। যখন আমরা ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অভিযোজনক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করছি, সে সময় আমাদের ভারসাম্যহীনতা সংশোধনের লক্ষ্যে কাজ করা উচিত। আমাদের অবশ্যই প্রশংসা করা উচিত যে অভিবাসনগুলো কার্যকর অভিযোজন কৌশল হতে পারে। বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের স্থানান্তর সুরক্ষা নিশ্চিতে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় যথাযথ মনোনিবেশ করা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজন মেটানোর জন্য আমাদের একটি উপযুক্ত কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা শুরু করা দরকার।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস, ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট কার্লোস আলভারাডো কুইসাদা, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা হেইন, ইউএনএফসিসিসির নির্বাহী সম্পাদক প্যাট্রিসিয়া এস্পিনোসা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাচলেট জেরিয়া বক্তব্য রাখেন।

প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী এদিন পরিবেশের আরো অবনতি রোধকল্পে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ প্যারিস চুক্তির ধারাগুলোসহ প্রাসঙ্গিক সব বৈশ্বিক চুক্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। কপ২৫-এর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ব্যর্থতার ফলাফল সব দেশের ওপর সমান ভাগে, বিশেষ করে যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি দায়ী তাদের ওপর বর্তাবে। আমাদের নিষ্ক্রিয়তা প্রতিটি মানুষের জন্য হবে মারাত্মক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিস চুক্তির কাঠামো বাস্তবায়নের আলোকে সমতা অথবা স্বচ্ছতার ধারণা একটি মৌলিক ইস্যু, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সহযোগিতায় চুক্তির সুফল পাওয়া যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সভ্যতার ক্ষতি করছে এবং পৃথিবীকে ধ্বংস করছে। এটি বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছি আমরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন