শুক্রবার| জানুয়ারি ২৪, ২০২০| ১১মাঘ১৪২৬

খবর

বিআইডিএস রিসার্চ অ্যালমানাক-২০১৯

সরকারি সুবিধার বিকৃতিতে প্রবৃদ্ধির সুফল পাচ্ছে না সবাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এলেও ভর্তুকি কর রেয়াত সুবিধায় বিকৃতির কারণে সে সুফল সবাই পাচ্ছে না। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত হতে হলে প্রবৃদ্ধি সুশাসন অপরিহার্য।

গতকাল রাজধানীর লেকশোর হোটেলে দুই দিনব্যাপী বিআইডিএস রিসার্চ অ্যালমানাক-২০১৯-এর সমাপনী দিনে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিআইডিএস মহাপরিচালক . কেএএস মুরশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। প্যানেল আলোচক ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট . জাহিদ হোসেন, বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক . বিনায়ক সেন, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা . রিজওয়ানুল ইসলাম।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, প্রবৃদ্ধির ফল অনেকটাই হুমকির মধ্যে। বৈষম্যের কারণে প্রবৃদ্ধির ঢেউ সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। ভর্তুকি, কর রেয়াতসহ সরকারের বিভিন্ন সুবিধা বিতরণে বিকৃতি রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত প্রবৃদ্ধি হলে নানা আশঙ্কা থাকে। বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। এখানে সরকারের অনেক কিছু করার আছে। কীভাবে ফাঁকফোকর বন্ধ করা যায় সে বিষয়ে আপনারা পরামর্শ দেবেন।

প্রবৃদ্ধি উন্নয়নের একমাত্র মাপকাঠি নয়, এমন মন্তব্য করে . রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, প্রবৃদ্ধি অর্জনে সফলতা আছে যদিও সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক ধাঁধা আছে। তবে অর্থনীতিতে ছয়টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হলো টেকসই প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত পরিবর্তনের শ্লথগতি, আয়বৈষম্য বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচনের হার কমে আসা এবং প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা।

তিনি বলেন, সাম্যের সঙ্গে প্রবৃদ্ধি হওয়াটাই বড় কথা। প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমরা ভারতের সঙ্গে পার্থক্য কমিয়েছি, পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছি। কিন্তু ভিয়েতনাম অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হতে হবে বিনিয়োগ। কিন্তু শিল্প বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও বেসরকারি বিনিয়োগ এখনো স্থবির। অর্জনের কোথায় ঘাটতি আছে সেটা স্বীকার করে নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এটাই প্রত্যাশা।

সময় জাইদী সাত্তার বলেন, প্রবৃদ্ধির কৌশলে বাণিজ্যনীতি অনেকটাই মিসিং (অনুপস্থিত) আমরা এখানে তৃতীয় ভালো জিনিসটি গ্রহণ করছি। বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। তাই বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর আগামী পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তার মধ্যে আবার শোভন কর্মসংস্থান তৈরি আরো চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট . জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে বিভিন্ন খাতে কাঠামোগত সংস্কারের কারণে। শিল্প, কৃষি, ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন খাতে কিছু না কিছু সংস্কার হয়েছে, যার ফল পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এগুলো ধরে রাখতে হলে পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পসহ বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করা এবং কাঠামোগত সংস্কার চলমান রাখতে পারলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়তে পারে।

পোশাক খাতে বছর বছর ভর্তুকি দেয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেএএস মুরশিদ বলেন, একটা খাতের ওপর নির্ভর করে কখনই চলতে পারি না। একটি খাতের ওনারা সবসময়ই মারা যাচ্ছেন বলে সুবিধা নিয়ে থাকেন। প্রত্যেক বছরই সেটি চাচ্ছেন। এটি যৌক্তিক কিনা দেখতে হবে।

ব্যাংক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে . বিনায়ক সেন বলেন, আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে মানবসম্পদ উন্নয়ন করতেই হবে। এছাড়া সামষ্টিক অর্থনীতি উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আগামী ১০ বছর যদি শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা যায়, তাহলে দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব। বলতে গেলে দারিদ্র্য হার শতাংশে নামিয়ে আনা যাবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন