শুক্রবার| জানুয়ারি ২৪, ২০২০| ১১মাঘ১৪২৬

খবর

সৌদিতে নারী কর্মী সুরক্ষায় চালু হচ্ছে ‘মুসানেদ সিস্টেম’

নারী কর্মীদের সব দায়দায়িত্ব রিক্রুটিং এজেন্সির

নিজস্ব প্রতিবেদক

নারী কর্মীরা যতদিন সৌদি আরবে কর্মরত থাকবেন, ততদিন তাদের সব দায়দায়িত্ব বাংলাদেশ সৌদি আরবের রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে। যেসব নারী কর্মী প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছেন, প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত তাদের আবাসন অন্যান্য দায়িত্বও বহন করবে রিক্রুটিং এজেন্সি। অন্যদিকে নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ একটি আইটি প্লাটফর্ম মুসানেদ সিস্টেম স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশ সৌদি আরবের যৌথ কারিগরি কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গতকাল প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রতি সৌদি আরব সফরের তৃতীয় জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা। গত ২৭ নভেম্বর সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত কারিগরি সভায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা। ওই বৈঠকের অগ্রগতি জানাতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সেলিম রেজা বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুমতি ছাড়া নিয়োগকর্তা (কফিল) পরিবর্তন করা যাবে না। এছাড়া নারী কর্মী নির্যাতন বা মৃত্যুর ঘটনা আলাদা করে তদন্ত করবে সৌদি সরকার। তিনি বলেন, এই মুসানেদ সিস্টেমে কর্মীদের বিস্তারিত ঠিকানা, সৌদি বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি এবং নিয়োগকর্তার পূর্ণ যোগাযোগের ঠিকানা, নারী কর্মীদের নিয়োগকর্তা পরিবর্তন-সংক্রান্ত তথ্যাদি, নারী কর্মীর আগমনের তারিখ নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তরের তারিখ, প্রত্যাবর্তনকারী গৃহকর্মীর এক্সিট সংক্রান্ত তথ্যাদি সন্নিবেশিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য তথ্যাদি হালনাগাদ করা হয়েছে। অবশিষ্ট তথ্যাদি হালনাগাদের কাজ চলছে।

সেলিম রেজা বলেন, বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি সাধারণ চুক্তি সইয়ের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিষয়টি এখনো পরীক্ষাধীন রয়েছে আগামী জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভায় এটি নিয়ে আলোচনা হবে। এবার সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষকে অনেক আন্তরিক মনে হয়েছে। তারা এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আরো নেবে বলেও জানিয়েছেন। তারা বাংলাদেশী কর্মীর ওপর নির্যাতন করায় এক দম্পতিকে কারাগারে পাঠিয়েছে। কর্মীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনা হবে। যেমন, যেসব নারী কর্মী কর্মস্থল থেকে পালিয়েছেন, পুলিশ তাদের নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করবে না। যদি নারী কর্মী মেয়াদ শেষে কাজ করতে চান, তাহলে অবশ্যই চুক্তি নবায়ন তা বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে। চুক্তি নবায়নের পর সংশ্লিষ্ট এজেন্সি -সংক্রান্ত তথ্যাদি মুসানেদে আপলোড করবে।

ভিসা ট্রেডিং বন্ধের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সেলিম রেজা বলেন, উভয় পক্ষ ভিসা বাণিজ্য বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ ধরনের অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি আরোপ করা হবে মর্মে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেছে। ভিসা বাণিজ্য বন্ধের বিষয়ে উভয় দেশ একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

সৌদিতে কর্মীদের স্বাস্থ্যবীমা নিয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ সচিব বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীদের বিদ্যমান স্বাস্থ্যবীমা পর্যাপ্ত নয়। অসুস্থ কর্মীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যবীমা করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ কোম্পানি নিয়োগকর্তাদের বাধ্য করার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন।

গৃহকর্মীদের ওপর নিয়োগকর্তাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলা করার কতটুকু সুযোগ সৌদি সরকার দেবেএমন প্রশ্নের উত্তরে সেলিম রেজা বলেন, সৌদি শ্রম আদালতে মামলা করার পদ্ধতি আরো সহজ করার বিষয়ে দুপক্ষ একমত হয়েছে। বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোকে শিগগিরই অবহিত করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, অতিরিক্ত সচিব মো. নাজীবুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব সাবিহা পারভীন প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন