শুক্রবার| জানুয়ারি ২৪, ২০২০| ১১মাঘ১৪২৬

খবর

পণ্য পরিবহনে ভারতের চট্টগ্রাম-মোংলা বন্দর ব্যবহার

নাকুগাঁও স্থলবন্দরকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বাংলাদেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

নৌপথে পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম মোংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে ভারত। তবে পণ্য পরিবহন আরো সহজ করতে চুক্তির আওতায় নাকুগাঁও স্থলবন্দরকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বাংলাদেশ। আগামীকাল বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে -সংক্রান্ত নৌপরিবহন সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে তথ্য জানা গেছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে নৌ সচিব পর্যায়ের বৈঠক - ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। দুই দিনব্যাপী বৈঠকের প্রথম দিন প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং দ্বিতীয় দিন সচিব পর্যায় ইন্টার গভার্নমেন্টাল কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নৌপরিবহন সচিব মো. আবদুস সামাদ এবং ভারতের পক্ষে দেশটির নৌপরিবহন সচিব গোপাল কৃষ্ণ নেতৃত্ব দেবেন।

সূত্র জানায়, নৌপথে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মোংলা বন্দর ব্যবহারে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় নাকুগাঁও স্থলবন্দরকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বাংলাদেশ। ভারতের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নাকুগাঁও স্থলবন্দর সম্ভাবনাময় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ফলে স্থলবন্দরটি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে বলে বাংলাদেশের মত। এতে চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দর হয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে ডালু এবং ডালু থেকে নাকুগাঁও স্থলবন্দর দিয়ে চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দর হয়ে ভারতে পণ্য পরিবহনের রুট নির্ধারণের বিষয়টি বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হবে।

বৈঠকে দুই দেশের নদী খনন, মাতারবাড়ী ডামারা বন্দরকে পোর্ট অব কল ঘোষণা এবং নাবিকদের বন্দরে নামার অনুমতিসহ ১৫টি এজেন্ডা নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে নৌপথে তৃতীয় দেশে বাণিজ্য সুযোগ সৃষ্টিসহ ১১টি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করতে চায় ভারত। এছাড়া বৈঠকে রাজশাহী থেকে পাকশী পর্যন্ত ৭৪ কিলোমিটার নদী যৌথভাবে খননের প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। খনন খরচের ৮০ শতাংশ ভারত ২০ শতাংশ বাংলাদেশ সরকার বহনের প্রস্তাব করা হবে। নৌ প্রটোকলের আওতায় নম্বর রুট হিসেবে নদীটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরই মধ্যে দুই দেশের যৌথ কারিগরি কমিটি (জেটিসি) ওই রুটে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ শেষ করেছে। এতে দেখা গেছে, ধুলিয়ান থেকে রাজশাহী ৯৪ কিলোমিটার পাকশী থেকে আরিচা ১০২ কিলোমিটার নৌরুটে পর্যাপ্ত নাব্যতা রয়েছে। কিন্তু রাজশাহী থেকে পাকশী পর্যন্ত ৭৪ কিলোমিটার নৌরুটে পানির গভীরতা মাত্র দশমিক মিটার। এর মধ্যে ভারতের আট কিলোমিটার নৌপথও রয়েছে। অন্য এক এজেন্ডায় আত্রাই নদীর ভারতের অংশে ৪২ কিলোমিটার নৌপথ খননের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, দুই দেশের নৌ সচিব পর্যায়ের শেষ বৈঠক গত বছরের অক্টোবরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন