বুধবার| জানুয়ারি ২২, ২০২০| ৯মাঘ১৪২৬

খবর

ঢাকা মহানগর

দুই মাসে দখলমুক্ত ২৭ কিলোমিটার ফুটপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর এলাকার ২৭ কিলোমিটারের বেশি ফুটপাত দখলমুক্ত করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। গত দুই মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১৭ কিলোমিটার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ১০ কিলোমিটার দখলমুক্ত করেছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত ১৯ জুন ডিটিসিএর ১২তম বোর্ড সভায় ঢাকা মহানগরীর অবৈধ যানবাহন দূর বন্ধ, ফুটপাত দখলমুক্ত এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধ করতে একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকনকে। গত ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ডিটিসিএর ১৩তম বোর্ড সভায় নিজেদের কার্যক্রম সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে কমিটি। প্রতিবেদনে ঢাকা মহানগর এলাকায় ২৭ কিলোমিটার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি অবৈধ রিকশা অটোরিকশা ডাম্পিং, সড়ক-মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএনসিসি গত দুই মাসে সব মিলিয়ে ৪০টি অভিযান পরিচালনা করেছে। সবচেয়ে বেশি ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে উত্তরা এলাকায়, আট কিলোমিটার। এর বাইরে গুলশান ডিএনসিসি মার্কেটসংলগ্ন রাস্তায় এক কিলোমিটার, বনানীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড মহাখালীর ২০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় তিন কিলোমিটার, মোহাম্মদপুর টাউন হল ফার্মগেট এলাকায় এক কিলোমিটার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে মগবাজার, মিরপুর, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, খিলক্ষেত, ভাষানটেক, গাবতলীসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকা থেকেও।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সড়ক-মহাসড়ক সংলগ্ন হাজার ৬৫৭টি অস্থায়ী ৫৭৭টি স্থায়ী অবকাঠামো অপসারণ করেছে ডিএনসিসি। একইভাবে গাবতলী পশুরহাটসংলগ্ন ১১ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে ৩২টি মামলায় ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা তিনজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ডিএসসিসিতে দখলমুক্ত করা হয়েছে প্রায় ১০ কিলোমিটার ফুটপাত। যাত্রাবাড়ী, পল্টন, মালিবাগ, নিউ মার্কেট, হাতিরপুল, হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের সড়ক, ঢাকা মেডিকেল রোড, ফনিক্স রোড, নর্থসাউথ রোড, পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড, মণি সিংহ রোড, কাকরাইল, বঙ্গভবন, সদরঘাট মতিঝিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ফুটপাত দখলমুক্ত করেছে ডিএসসিসি। ১০ কিলোমিটার ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি এসব এলাকায় আরো প্রায় ৩০ কিলোমিটার ফুটপাত ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এর বাইরে ৫১০টি রিকশা, ৩৯টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ৪৫টি থ্রি-হুইলার ৩৬টি হিউম্যান হলার আটক করে ডাম্পিংয়ের জন্য দেয়া হয়েছে।

ঢাকার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কের পাশে যেসব ভবন নিয়ম না মেনে নির্মাণ করা হয়েছে এবং যেগুলোর কারণে ফুটপাতে পথচারী চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে, সেসব ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে কমিটির প্রতিবেদনে। এসব ভবনের অবৈধ অংশ রাজউকের মাধ্যমে ভেঙে ফেলারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জুনের শেষ দিকে যখন এই কমিটি গঠন করে দেয়া হয়, তার পর পরই ঢাকায় ব্যাপক আকারে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। দুই সিটি করপোরেশন তখন ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম বাড়িয়ে দেয়। ফলে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে অবৈধ যানবাহন, অবৈধ স্থাপনা দখল ফুটপাত উদ্ধার অভিযান কার্যক্রম। ডেঙ্গুর প্রকোপ স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই পুরোদমে কাজ শুরু করে কমিটি। এরই মধ্যে তারা ঢাকায় বিপুল পরিমাণ ফুটপাত দখলমুক্ত করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন