বুধবার| জানুয়ারি ২২, ২০২০| ৯মাঘ১৪২৬

শেয়ারবাজার

ইওএস টেক্সটাইল অধিগ্রহণ সম্পন্ন করল শাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পুনর্নির্ধারিত দামে ইওএস টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ৮০ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি শাশা ডেনিমস লিমিটেড। গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের এ কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। ইওএস টেক্সটাইল ইতালীয় কোম্পানি বার্তো ইজি ইন্ডাস্ট্রিয়া তেসিলে এসআরএলের সিস্টার কনসার্ন।

গত অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক ইওএস টেক্সটাইলের অধিগ্রহণ মূল্য বাড়িয়ে ১২১ কোটি ৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। এ পুনর্নির্ধারিত মূল্যেই যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) কোম্পানিটির শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ৯৬ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ৬০২ টাকায় ইওএস টেক্সটাইলের ৮০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাশা ডেনিমস। আর ২৪ কোটি ২১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫০ টাকায় বাকি ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে তালিকাবহির্ভূত শাশা স্পিনিংস লিমিটেড।

প্রাথমিকভাবে ইওএস টেক্সটাইলের শতভাগ শেয়ারের অধিগ্রহণমূল্য ১১০ কোটি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরে বাংলাদেশ ব্যাংক তা বাড়িয়ে ১২১ কোটি ৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৫৩ টাকা করে। শাশা ডেনিমসের কর্মকর্তারা জানান, এ মূল্যেই ইওএস টেক্সটাইলকে অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু ইওএস টেক্সটাইলের রিটেইনড আর্নিংসই রয়েছে ১১৬ কোটি টাকার। আর এর পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটি টাকা। ফলে ইওএস টেক্সটাইলের মালিকপক্ষ ১২১ কোটি টাকার কমে এটি বিক্রি করতে রাজি হয়নি। এজন্য শাশা ডেনিমস ও ইওএস টেক্সটাইলের পক্ষ থেকে পূর্বনির্ধারিত অধিগ্রহণমূল্য পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মূল্য নির্ধারণ করে দেয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেড় কোটি ডলারে ইওএস টেক্সটাইল অধিগ্রহণের জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি (এসএসপিএ) স্বাক্ষর করেছিল শাশা ডেনিমস। অধিগ্রহণ শেষে ইওএস টেক্সটাইলের ৪০ শতাংশ শেয়ার শাশা ডেনিমসের কাছে আর বাকি ৬০ শতাংশ শেয়ার শাশা স্পিনিংসের কাছে থাকার কথা ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে শেয়ার ধারণ পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনে কোম্পানিটির পর্ষদ। শেষ পর্যন্ত ইওএস টেক্সটাইলসের ৮০ শতাংশ শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত নেয় শাশা ডেনিমস।

সাভারের গণকবাড়ীতে ঢাকা রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) ১২টি প্লটের ওপর ইওএস টেক্সটাইল মিলসের কারখানা অবস্থিত। ১৯৯৮ সালে ইতালীয় বিনিয়োগকারীদের উদ্যোগে শতভাগ রফতানিমুখী এ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এর পাশেই রয়েছে শাশা ডেনিমসের কারখানা। শাশা ডেনিমস মূলত সব ধরনের ডেনিম জাতীয় কাপড় উৎপাদন করে থাকে। আর অন্যদিকে ইওএস টেক্সটাইল উৎপাদন করে টুইল কাপড়। ইওএস টেক্সটাইলের বর্তমান মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা ১২ লাখ গজ। তবে এর কারখানায় পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, যেখানে অনায়াসে মাসিক আরো ১২ লাখ গজ উৎপাদন সক্ষমতার প্রডাকশন লাইন স্থাপন সম্ভব। কোম্পানিটির বার্ষিক রাজস্বের পরিমাণ বর্তমানে ২০০ কোটি টাকারও বেশি।

শাশা ডেনিমসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইওএস টেক্সটাইলের কারখানায় যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে, সেটিকে কাজে লাগানো হলে বর্তমানে শাশা ডেনিমসের যে পরিমাণ রাজস্ব আসছে, সেখান থেকেও একই পরিমাণ আয় করা সম্ভব। তারা এরই মধ্যে যন্ত্রপাতি আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন বলে জানান।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের শাশা ডেনিমসের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২ কোটি ১৬ লাখ গজ। এ সময়ে কোম্পানিটির সম্মিলিত রাজস্ব আয় হয়েছে ৭৫১ কোটি টাকা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৬২৫ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা, যার আগের হিসাব বছরে ছিল ৫৯ কোটি টাকা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে শাশা ডেনিমসের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ১৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ট্রাস্ট মিলনায়তনে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৫ পয়সা। ৩০ জুন সম্মিলিতভাবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৪৭ পয়সা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন