বুধবার| জানুয়ারি ২২, ২০২০| ৯মাঘ১৪২৬

আন্তর্জাতিক খবর

নমুরার প্রতিবেদন

খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বড় মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে

বণিক বার্তা ডেস্ক

 জাপানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান নমুরার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে খবর সিএনবিসি

একটি প্রতিবেদনে নমুরার বিশ্লেষকরা বলছেন, যে দেশগুলো খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে, তারা বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষুদ্র অংশ হলেও বৈশ্বিক জনসংখ্যার বড় অংশের বসবাস সেখানে তাই ক্রমাগত খাদ্যের মূল্য বাড়তে থাকলে হয়তো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে না, তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে মানবিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে

ব্যাংকটি বলছে, তাদের তালিকায় থাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৫০টি দেশ বৈশ্বিক জিডিপির মাত্র ২৬ দশমিক শতাংশ, কিন্তু জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের ৫৯ দশমিক শতাংশ অন্যদিকে চারটি ছাড়া বাদবাকি দেশগুলো উন্নয়নশীল অর্থনীতি

আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে নমুরা বলছে, অঞ্চলের দেশগুলোয় মাথাপিছু জিডিপির হার কম, পারিবারিক ব্যয়ের অধিকাংশ যায় খাদ্য কিনতে, এরা বিপুল পরিমাণে খাদ্য আমদানি করে ব্যাংকটি আরো বলছে, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই যুদ্ধবিধস্ত এবং চরম দরিদ্রতায় ভুগছে

নমুরা ফুড ভালনারেবিলিটি ইনডেক্স অনুসারে ক্রমাগত খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ পাঁচ দেশ হলো লিবিয়া, তাজিকিস্তান, মন্টেনিগ্রো, সিরিয়া আলজেরিয়া

এসব দেশের মানুষ নিজেদের আয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় করে খাদ্য, নিরাপত্তা অন্যান্য প্রয়োজনীয়তার পেছনে অবস্থায় মূল্যবৃদ্ধি পেলে খাদ্যের পেছনে তাদের আরো বেশি ব্যয় করতে হবে; এর ফলে অন্যান্য প্রয়োজনের পেছনে ব্যয় কমাতে হবে অথবা বন্ধ করে দিতে হবে

যেমন জাতিসংঘের খাদ্য কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যানুসারে, লিবিয়া নিজেদের জিডিপির দশমিক শতাংশ খাদ্য আমদানি করতে ব্যয় করে অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড (খাদ্য মূল্যবৃদ্ধির দিক থেকে সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে রয়েছে দেশটি) যে পরিমাণ খাদ্য রফতানি করে, তার মূল্যমান জিডিপির দশমিক শতাংশ

এফএওর ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুসারে লিবিয়ার ২২ শতাংশ মানুষ শস্য আবাদ বা পশুপালনের মতো কৃষিকাজে জড়িত; কিন্তু তারা যা উৎপাদন করে, তার প্রায় পুরোটা তারাই ভোগ করে এর পরও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি লিবিয়ার মানুষদের জন্য খাদ্যনিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সহায়তা করবে

এফএও বলছে, এটি ব্যক্তি-পরিবার বা সার্বিকভাবে লিবিয়ার জন্য প্রযোজ্য দেশটির কৃষি খাতে স্থবিরতা বজায় রয়েছে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে এর ফলে কয়েক বছর ধরে সেখানে সংকট তৈরি হয়েছে

নমুরা বলছে, যেসব দেশ খাদ্য আমদানির ওপর যত বেশি নির্ভরশীল, তারা মূল্যবৃদ্ধিতে তত বেশি স্পর্শকাতর খাদ্যমূল্য যত বাড়বে, বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকট সৃষ্টির সম্ভাবনাও তত দেখা দেবে

নমুরা দাবি করেছে, জলবায়ু পরিবর্তন, তেলের উচ্চতর দাম মার্কিন ডলারের মূল্য পতনে খাদ্যের দাম বাড়তে পারে ব্যাংক বলছে, যখন খাদ্যের মূল্য বাড়বে, তখন খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এবং এর ফলে জনগণ সরকারকে খাদ্য রফতানি কমিয়ে মূল্য ঠিক রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে

২০১০ সালের জুন থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এফএওর খাদ্য মূল্যসূচক বেড়েছে ৪১ শতাংশ নমুরার প্রধান অর্থনীতিবিদ রবার্ট সুব্বারামান জানিয়েছেন, আরব বসন্ত আনতে বৃদ্ধি ভূমিকা রেখেছিল তিনি বলেন, বাণিজ্য সুরক্ষাবাদ পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলতে পারে

রবার্ট বলেন, এটি খাদ্যের মূল্য আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে তখন কেউ তাদের খাদ্য বিক্রি করতে চাইবে না, বিশেষ করে বড় খাদ্য রফতানিকারক দেশগুলো

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন