শুক্রবার| জানুয়ারি ২৪, ২০২০| ১১মাঘ১৪২৬

টেলিকম ও প্রযুক্তি

ফেসিয়াল রিকগনিশনের আন্তর্জাতিক মান ঠিক করে দেবে চীন!

বণিক বার্তা ডেস্ক

নাগরিকদের ওপর নজরদারির নতুন নীতি কার্যকর করেছে চীন সরকার। মোবাইল ফোন সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে ফেস স্ক্যান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে এমন নিয়মের ঘোষণা দেয়া হলেও রোববার থেকে তা কার্যকর করা হলো। এর মাধ্যমে চীন সরকার নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত হতে চায়। খবর বিবিসি এনগেজেট।

উদ্যোগকে নাগরিকদের ওপর নজরদারির নয়া কৌশল বলা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সাইবার জগতে নাগরিকদের আইনি অধিকার স্বার্থ সুরক্ষার উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে। চীন আদমশুমারির জন্য এরই মধ্যে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। যদিও প্রযুক্তিটির নির্ভুলতা, যথার্থতা নিরপেক্ষতা নিয়ে সারা দুনিয়ায়ই ব্যাপক বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় নজরদারির আশঙ্কার কথা বারবার উঠে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিরোধ সত্ত্বেও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির প্রসার থেমে নেই। এর মধ্যে আরেক ধাপ উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসিয়াল রিকগনিশনের আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণে কয়েকটি চীনা কোম্পানি বড় ধরনের প্রভাব খাটাচ্ছে।

পত্রিকাটি দাবি করছে, ফেসিয়াল রিকগনিশনের মান নির্ধারণের বিষয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছে প্রস্তাবনা পাঠাচ্ছে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি জিটিই, দাহুয়া চায়না টেলিকম। জাতিসংঘের সংস্থাটি বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ শিল্পের কারিগরি মান নির্ধারণে কাজ করে।

আইটিইউর নির্দেশিত মান মূলত কারিগরি। তবে এখানে চীনা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, বিষয়ে আলোচনাধীন কোনো প্রস্তাব নীতিনির্ধারণে সুপারিশের নামান্তর।

প্রস্তাবের মধ্যে ফেসিয়াল রিকগনিশনের ব্যবহার সম্পর্কিত কিছু সুপারিশও আছে বলে জানা গেছে। বলা হয়েছে, প্রযুক্তি পুলিশ, কর্মীদের পর্যবেক্ষণে চাকরিদাতা এবং ভিড়ের মধ্যে নির্দিষ্ট জনকে শনাক্ত করতে কাজে লাগবে।

আইটিইউ নির্দেশিত কারিগরি মান অনুসরণ করবে মূলত আফ্রিকার মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশ, যেসব দেশের নিজেদের মান নির্ধারণে যথেষ্ট সক্ষমতা নেই। এসব অঞ্চলে ফেসিয়াল রিকগনিশনের মতো স্পর্শকাতর একটি প্রযুক্তির বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাচ্ছে চীন। এটিই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, হংকংয়ে চলমান বিক্ষোভে ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। জিটিই এবং চায়না মোবাইল স্মার্ট সড়ক বাতির জন্য একটি মান প্রস্তাব করলে গত জুনে সেটি সরকার গ্রহণ করে। এর একটি নকশাও দিয়েছে জিটিই। প্রযুক্তিতে ল্যাম্পপোস্টের ভিডিও মনিটরিং সক্ষমতা থাকবে। হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থীদের চলমান আন্দোলনে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা যায়।

ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির উন্নয়ন ব্যবহারের দিক থেকে চীন বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে। দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এছাড়া সরকারি আবাসন প্রকল্পগুলো পর্যবেক্ষণের জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়।

এটিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং বিনা অনুমতিতে নজরদারির মাধ্যমে নাগরিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করা হচ্ছে। তাছাড়া জিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠী উইঘুর মুসলিমদের দমন-পীড়নে চীন ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার করছে। বিবিসির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সেসব তথ্য উঠে এসেছে। যদিও চীন বারবার বলে আসছে উইঘুরদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা নির্দিষ্ট কিছু প্রশিক্ষণ শিবির গড়ে তুলেছে।

প্রসঙ্গত, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের আসল পরিচয় ব্যবহার নিশ্চিত করতে কয়েক বছর ধরেই নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে চীন সরকার। ২০১৭ সালে অনলাইনে কোনো কনটেন্ট পোস্ট করার আগে পোস্টদাতার আইডেনটিটি ভেরিফিকেশনের আইন করে চীন। একই বছর দেশজুড়ে ১৭ কোটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ২০২০ সাল নাগাদ ক্যামেরার সংখ্যা ৪০ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন