শনিবার | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

খবর

পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত

বণিক বার্তা অনলাইন

জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি, ট্যাংক-লরি ভাড়া বাড়ানোসহ ১৫ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছিল রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের প্রায় দুই হাজার পেট্রলপাম্পে। দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে দেড় দিনের মাথায় ধর্মঘট ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিকরা।

আজ সোমবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে বিপিসির লিয়াজোঁ কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেন মালিক-শ্রমিকদের নেতারা।

বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ওনারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা জনগণের ভোগান্তি চাই না। আগামী ১৫ ডিসেম্বর জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর আহ্বানে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। সে পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি স্থগিত রাখছি।’

জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসির পরিচালক (বিপণন) সৈয়দ মেহদী হাসান বলেন, ‘খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। উনাদের যেসব দাবি, তার মধ্যে বিপিসি সংশ্লিষ্ট বিষয় আছে দুই-তিনটি। বাকিগুলোর বিষয়ের অন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।’

উল্লেখ্য, ১৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত শনিবার দুপুরে বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ট্যাংক-লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

তাদের দাবিগুলোর মধ্য রয়েছে—জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে ৭ শতাংশ করা, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান—বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে ট্যাংক-লরি শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা চালুর জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, ট্যাংক-লরির ভাড়া বাড়ানো, পেট্রল পাম্পের জন্য কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রলপাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কর্তৃক পেট্রলপাম্পের প্রবেশদ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতীত অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক পাঁচ বছর অন্তর বাধ্যতামূলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংক-লরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ব্যতীত সরকারি অন্যান্য দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিলার বা এজেন্টদের অযথা হয়রানি বন্ধ এবং বিভিন্ন জেলায় ট্যাংক-লরি থেকে জোরপূর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করা।

ধর্মঘটে থাকা তিন বিভাগ মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার পেট্রলপাম্প ও প্রায় ১ হাজার ৫০০ ট্যাংক-লরি রয়েছে। এছাড়া খুলনায় একটি, রাজশাহীতে তিনটি, রংপুরে তিনটিসহ মোট সাতটি ডিপো রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন