শনিবার | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

দিয়া-রাজীবের মৃত্যু

জাবালে নূর বাসের দুই চালক ও এক সহকারীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে গত বছর বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল করিম রাজীব দিয়া খানমের মৃত্যুর ঘটনায় জাবালে নূর পরিবহনের দুই চালক এক সহকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অপরাধজনক নরহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচালক মাসুম বিল্লাহ জুবায়ের সুমন এবং সহকারী কাজী আসাদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তাদের মধ্যে কাজী আসাদ এখনো পলাতক। একই মামলায় জাবালে নূরের একটি বাসের মালিক জাহাঙ্গীর আলম চালকের সহকারী এনায়েত হোসেন বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

গত বছরের ২৯ জুলাই যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে ফুটপাতে উঠে যায় একটি বাস। এতে চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় কলেজ শিক্ষার্থী রাজীব দিয়া। ঘটনায় আহত হয় আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী। ফুটপাতে উঠে যাওয়া বাসটি চালাচ্ছিলেন চালক মাসুম বিল্লাহ। ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলনে নামে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। টানা কয়েকদিনের আন্দোলনে কার্যত দেশজুড়ে অচলাবস্থা দেখা দেয়। এর পরই তড়িঘড়ি করে সরকার সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ জাতীয় সংসদে পাস করে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, পরিবহন সেক্টরের ড্রাইভার, হেলপারদের খামখেয়ালিপনা উদাসীনতায় কি ছাত্র-ছাত্রী, কি যুবক, কি বয়স্ক ব্যক্তি কেউই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে জীবন বিনষ্ট হওয়া থেকে রেহাই পায় না। রমিজউদ্দিন কলেজের দুজন মেধাবী উদীয়মান ছাত্র-ছাত্রী নিহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। দিয়া খানম মিম আব্দুল করিম রাজীবের ঘনিষ্ঠরা, সাধারণ মানুষ ছাত্র-ছাত্রী সেদিন রাস্তায় নেমে আসে। গাড়ির ড্রাইভার হেলপারের খামখেয়ালিপনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায়ীদের বিচার চাইতে তারা কুণ্ঠাবোধ করেনি।

তিনি বলেন, পরিবহন সেক্টরের অধিক ভাড়া উপার্জনের জন্য মানুষের জীবনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করে হেভি গাড়ি চালানোর লাইসেন্স বিআরটিএ কর্তৃক অনুমোদন না করা সত্ত্বেও ভারী গাড়ি চালিয়ে যত্রতত্র মানুষের ওপর তুলে দিয়ে হত্যা করে চলছে। যেন দেশের পরিবহন সেক্টরের ড্রাইভার-হেলপারদের খামখেয়ালিপনায় মানুষ হত্যা নেশায় পরিণত হয়েছে, যা বন্ধ হওয়া আবশ্যক।

পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, বেশি লাভের জন্য গাড়ির মালিক চালকদের কাছ থেকে বেশি টাকা জমার নিয়ম বেঁধে দেয়ার ফলে চালক তাদের সহকারীরা বিভিন্ন বাস স্টপেজে অবৈধ প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। ফলে প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনা জীবনহানি ঘটছে। এক্ষেত্রে পরিবহন মালিকের অধিক টাকা উপার্জনের মানসিকতা পরিহার করা যেমন আবশ্যক, তেমনই রাস্তায় নিয়োজিত আইন প্রয়োগকারী সদস্যরা নিয়মিত ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করলে হালকা লাইসেন্স দিয়ে ভারী যান চালানোর সুযোগ থাকত না।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই দুর্ঘটনার দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন নিহত মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম। সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৭৯, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৪ ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয় অভিযোগপত্রে। ওই বছরের ২৫ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। অভিযোগপত্রের ৪১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৭ জন আদালতে এসে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন