রবিবার | ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

টানা ছয় প্রান্তিক ধরে নিম্নমুখী ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি

বণিক বার্তা ডেস্ক

কয়েক বছর ধরে ধুঁকছে ভারতের অর্থনীতি। ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি। সর্বশেষ জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশমিক শতাংশে নেমে এসেছে বলে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে টানা ছয় প্রান্তিক ধরে নিম্নমুখী রয়েছে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি। এতে আগামী দিনগুলোয় বিশ্বের দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভারতের আর্থিক খাতে সংকট আরো জোরালো হতে পারে। মন্দার মুখে পড়তে পারে দেশটি। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ভারত সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করেছে আর্থিক খাত বিশ্লেষক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। 

ভারতের মিনিস্ট্রি অব স্ট্যাটিস্টিক অ্যান্ড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেনটেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশটিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল দশমিক শতাংশ। এরপর থেকে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ক্রমাগত কমতে শুরু করে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তা শতাংশে নেমে আসে। একই অর্থবছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরো কমে দাঁড়ায় দশমিক শতাংশে। ক্রমাগত পতনের ধারাবাহিকতায় চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হার দশমিক শতাংশে নেমে এসেছে।

এর আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দশমিক শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর সর্বশেষ প্রান্তিকে দেশটিতে সবচেয়ে কম জিডিপি প্রবৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল দশমিক শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধি শতাংশের নিচে নেমে আসার জের ধরে ওই সময় চীনের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির তকমা হারায় ভারত। উল্লেখ্য, ২০০৯-১৪ সালের মধ্যে ভারতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল দশমিক শতাংশ।

ভারতীয় অর্থনীতি ক্রম শ্লথ হয়ে আসার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আগে থেকেই সতর্ক করে এসেছে। গত আগস্টে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি মুডি জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াতে পারে দশমিক শতাংশে। সেপ্টেম্বরে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাসে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি থেকে দশমিক শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। অক্টোবরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশমিক শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে শতাংশে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত মার্কিন ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ফিচ রেটিংসের প্রতিবেদনে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দশমিক শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি ক্রমাগত কমে আসার পেছনে উৎপাদন চাহিদা খাতের মন্দা ভাব, পর্যাপ্ত বিদেশী বিনিয়োগের অভাব, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অকার্যকর নীতিকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, চাহিদা ক্রমেই কমে যাওয়ার বিষয়টি নরেন্দ্র মোদি সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। অথচ অর্থনৈতিক শ্লথতার পেছনে এটা অন্যতম একটি কারণ। মানুষের চাহিদা বাড়লে উৎপাদন খাত চাঙ্গা হয়ে উঠবে। গতি ফিরবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। নতুবা ভারতীয় অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে।

এদিকে বিশ্লেষক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তার পরও সম্ভাব্য মন্দার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। গতকাল দেশটির পার্লামেন্টে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি টানা নিম্নমুখী রয়েছে, এটা সত্যি। তবে এর মানে এটা নয় যে আগামীতে ভারতীয় অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়বে। দুই সপ্তাহ আগেও নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্মলা সীতারমণ বলেছিলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়া আমার পক্ষে অনুমান করা কঠিন হবে যে ভারতীয় অর্থনীতির মন্দা ভাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এটা সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে, স্ক্রলডটইন এবং এনডিটিভি অবলম্বনে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন