মঙ্গলবার| ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০| ৫ফাল্গুন১৪২৬

খবর

রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বলি এমপি লিটন: আদালত

রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অধিপত্য বিস্তার ও সংসদ সদস্য হওয়ার বসনা থেকে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কর্নেল কাদের খান গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে জানিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এই হত্যা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে এই সব কথা উঠে আসে। একইসঙ্গে রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ্য করা হয় খুনিরা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আগে এক বছর ধরে বিভিন্ন  প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। হত্যার সময় তিনটি অস্ত্র ব্যবহার করে এমপি লিটনকে গুলি করে হত্যা করে মোট চার আসামি।

আজ দুপুরে বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক লিটন হত্যা মামলার জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কর্নেল কাদের খানসহ ৭ জনের ফাঁসির রায় দিয়েছেন। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে ছয় জনের উপস্থিতিতে রায় পড়েন তিনি। এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামিরা নিস্তব্ধ হয়ে রায় শোনেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন, কাদের খানের পিএস শামসুজ্জোহা, গাড়িচালক হান্নান, মেহেদী, শাহীন, চন্দন ও রানা। এ মামলায় মোট আসামি ছিলেন ৮ জন, তার মধ্যে সুবল নামে এক আসামি মারা গেছেন। চন্দন কুমার নামের আরেক আসামি এখনও পালাতক রয়েছেন। রায়ে প্রকাশ করে ওই আদালতের পিপি শফিকুল ইসলাম বলেন, “দ্রুত এই রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে এই রকম একটি জঘন্য ঘটনার কলঙ্কমুক্ত হতে চায় সুন্দরগঞ্জবাসী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল হামিদ বলেন, সংসদ সদস্য মুনজুরুল ইসলামকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। একইসঙ্গে এই মামলায় কাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মনজুরুল ইসলাম লিটন। এঘটনায় অজ্ঞাত পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলী বুলবুল। তদন্ত শেষে কাদের খানসহ আটজনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া থেকে আসামি কাদের খানকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি জেল হাজতে রয়েছেন। এছাড়াও কাদেরের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক আবদুল হান্নান, মেহেদি হাসান, শাহীন মিয়া ও আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে রানা গ্রেফতার করা হয়। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। লিটন হত্যার ঘটনায় অস্ত্র আইন মামলায় গত ১১ এপ্রিল আবদুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন