রবিবার | ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

অর্থমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান ও এমডিরা

৯% সুদহারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মুনাফায় টান পড়বে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংক সুদহার শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশনা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো নির্দেশনাটি পরিপালন করছে। যদিও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখনো তা মানছে না। ফলে বাজারে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতিতে শতাংশ সুদহারের নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে নিজেদের মুনাফায় টান পড়তে পারে বলে অর্থমন্ত্রীকে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।

গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। সেখানে অর্থমন্ত্রীকে কথা জানান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান এমডিরা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকগুলো নির্দেশনা না মানায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পরবর্তী সময়ে বৈঠক করা হবে। সেখানে তাদের মতামত নেয়া হবে। তারপর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তবে সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই।

গতকালের বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান . জায়েদ বখত, জনতা ব্যাংকে চেয়ারম্যান . জামালউদ্দিন আহমেদ, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিইও মো. আতাউর রহমান প্রধান, রূপালী ব্যাংকের এমডি মো. ওবায়েদ উল্লাহ্ আল্ মাসুদ, অগ্রণী ব্যাংকের এমডি মো. শামস-উল-ইসলাম জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একাধিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান এমডি জানান, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা ঋণের সুদহার এক অংকে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতেই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অনেক আগেই সুদহার এক অংকে নামিয়ে এনেছে। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলো সেটি করেনি। এজন্য কীভাবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহারও কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে পর্যালোচনা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর বার্তা সত্ত্বেও দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলছে। অবস্থায় গতকালের বৈঠকেও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর হতে বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ডিসেম্বরের মধ্যেই খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার জন্য ব্যাংকগুলো প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে নীতিমালার আওতায় আবেদনের সীমা তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে। অবস্থায় কীভাবে আরো বেশি পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা যায়, সে বিষয়েও ব্যাংকের চেয়ারম্যান এমডিদের পরামর্শ চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত তারল্য না থাকায় উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না। এজন্য বড় গ্রুপগুলো এখন ঋণের জন্য সরকারি ব্যাংকমুখী। কোনো বড় গ্রুপ যদি সব ঋণ সরকারি ব্যাংকগুলোতে স্থানান্তর করতে চায়, সেক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে বলেছেন অর্থমন্ত্রী।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন