মঙ্গলবার | মে ২৬, ২০২০ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

আন্তর্জাতিক খবর

হংকংয়ের ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নির্বাচন: বেইজিংপন্থীদের ভরাডুবি

চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ের ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নির্বাচনে বেইজিংপন্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী নগরীর ৪৫২টি স্থানীয় পরিষদ আসনের মধ্যে এ পর্যন্ত গণতন্ত্রপন্থি প্রার্থীরা ২৭৮টিতে জয় পেয়েছেন আর বেইজিংপন্থি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৪২টিতে। খবর বিবিসি।

সর্বজনীন ভোটাধিকার জুন থেকে একটি বহিঃসমর্পণ বিল কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভের অন্যতম দাবি। ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে বিলটি প্রত্যাহার করা হলেও এখনো মেনে নেয়া হয়নি অন্য দাবিগুলো। এমন পরিস্থিতিতে সেখানকার ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের নির্বাচনে তীক্ষ নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। এ নির্বাচনকে দেশটির বেইজিংপন্থী প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামের জন্য অগ্নিপরীক্ষা বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

এদিকে গতকালের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোয় পুলিশের উপস্থিতি ছিল কম। গত ছয় মাস ধরে চলা অস্থিরতার ধারাবাহিকতায় ভোট গ্রহণে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার অথবা ভোট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও রবিবার তেমন কিছু ঘটেনি, শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটের দিনটি পার হয়।

হংকং সরকার ও বেইজিংয়ের ধারণা ছিল, এই নির্বাচন তাদের প্রতি তথাকথিত ‘নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ’ ভোটারদের সমর্থনকে তুলে ধরবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তার বদলে বেইজিংপন্থি উল্লেখযোগ্য কিছু প্রার্থীও তাদের আসন হারিয়েছেন।

আসন হারানো এসব প্রার্থীদের মধ্যে বিতর্কিত বেইজিংপন্থি জুনিয়াস হো বলেছেন, ‘স্বর্গ-মর্ত্য ওলটপালট হয়ে গেছে।’

উল্লেখ্য, হংকংয়ের স্থানীয় পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতা বেশি না হলেও একেবারে কম নয়। তারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ নিজ আসনের ব্যয়, পুনর্ব্যবহার ও গণস্বাস্থ্যের বিষয়গুলো তদারকি করতে পারবেন।

তারপরও স্বাভাবিক সময়ে স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এখানে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যায় না। কিন্তু এবার পরিস্থিতি পুরো বিপরীত ছিল। টানা সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর প্রথমবারের মতো ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মনোভাব তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছিল হংকংবাসী, যা তারা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে।

প্রায় ৭৪ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রেকর্ড ৪১ লাখ লোক ভোটার হিসেবে নাম রেজিস্ট্রি করে। এর মধ্যে ২৯ লাখেরও বেশি লোক ভোট দেয়। এবার ভোট পড়ার হার ছিল ৭১ শতাংশ, যা আগেরবার ২০১৫ সালের ৪৭ শতাংশ থেকে অনেক বেশি। 

অন্যদিকে শহরটির প্রধান নির্বাহী টেলিভিশন ক্যামরার সামনে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত আমাদের সরকারকে জনগণ থেকে অনেক দূরবর্তী একটি অংশ মনে করা হতো। আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের সরকার আরো বেশি জনবান্ধব হবে। ভবিষ্যতে আমরা ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলরদের কথা আরো বেশি মনোযোগ দিয়ে শুনব।

ভোটের পর হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম বলেন, ‘অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখে, আমি সন্তুষ্টির সঙ্গে জানাচ্ছি, আজকের নির্বাচনের দিনটিতে আমরা তুলনামূলকভাবে শান্ত ও শান্তির পরিবেশে ছিলাম।’ নির্বাচনের পরও এই পরিবেশ বজায় থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন