রবিবার | ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

খবর

এফবিসিসিআইয়ের গোলটেবিল বৈঠক

পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্য মজুদকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

পেঁয়াজসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। গতকাল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা, সরবরাহ ও যৌক্তিক মূল্যের ব্যবস্থাপনা নিয়ে এফবিসিসিআই আয়োজিত সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, মো. সিদ্দিকুর রহমানসহ বিভিন্ন পণ্য ও খাতের ব্যবসায়ীরা। সরকারি সংস্থার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম, শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম ও খাদ্য সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, সার্বিকভাবে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি, সেটা হলো পণ্য মজুদ ও বিপণনের ক্ষেত্রে কনসোলিডেটেডভাবে পাবলিক ও প্রাইভেট এনগেজমেন্টের মাধ্যমে আমরা একটা সময় বেঁধে দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থাপনার মধ্যে নিয়ে আসব। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেগুলো যেন আর দেখা না দেয়। আর ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ী থাকলে, আমাদের সংগঠন বাজার সমিতির মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও তদারকির মাধ্যমে সামনের দিনগুলোয় কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, এ বিষয়ে আলোচনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভ্যালু চেইন ম্যানেজমেন্টে পাবলিক এবং প্রাইভেট যে অংশীজনরা আছেন, সবাই মিলে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি করতে আমরা নীতিগত সম্মত হয়েছি।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখানে বড় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের একটি সোজা বার্তা দেয়া হয়েছে, যদি কেউ মজুদদারি বা মজুদ করেন কিংবা অহেতুক দাম বাড়ান, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, নৈতিকতার দিকে তাদের খেয়াল রাখতে হবে সবসময়। বাজারে কোনো দ্রব্যের এখন সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। এছাড়া আলোচনার মধ্যে আরো ছিল এনবিআর থেকে এ রকম দ্রব্যাদি যেগুলো আছে, সেগুলো কী আমদানি হয়েছে, কোথায় আমদানিকারকরা এগুলো বিক্রি করেছেন, কবে বিক্রি করেছেন, এসব তথ্য সংগ্রহের জন্য আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। বিশেষ করে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও এগুলো পর্যায়ক্রমে করা হবে। আশা করছি ভবিষ্যতে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি এ ধরনের পণ্যগুলো নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

পেঁয়াজ সংকটের কারণ মূলত দুটোগতকালের সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমন মত প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংকট হয়েছে দুটো কারণে। বড় কারণটা হলো ভারতের রফতানি বন্ধ করে দেয়া। বছরের এ সময় যেখানে মাসে এক লাখ টন পেঁয়াজ আসত, সেখানে ভারত বন্ধ করার পর ২৫ হাজার টন আসছে। এর মানে আমদানিতে প্রায় ৭৫ হাজার টন ঘাটতি। বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, দ্বিতীয় কারণটি হলো, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে মিয়ানমার থেকে কয়েক দিন আমদানি বন্ধ থাকা।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের মহারাষ্ট্রের বিধানসভার নির্বাচনের পর দেশটি পেঁয়াজ রফতানি আবার চালু করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কথা দিয়েছিল। দুর্ভাগ্য, তারা খুলে দেয়নি।

ভারতের রফতানি বন্ধের পর তাত্ক্ষণিকভাবে বিশ্বের অন্য দেশগুলো থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য দেশ থেকে জাহাজে আনতে ১২-১৪ দিন লাগে বলে মনে করেছিলাম। কিন্তু ধারণা ছিল না ২৪-২৫ দিন লাগবে।

১০ দিনের মধ্যে আমদানি করা পেঁয়াজের বড় চালান  দেশে এসে যাবে ও দেশী পেঁয়াজ উঠবে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উড়োজাহাজে আনতে অনেক খরচ। এ পেঁয়াজ বাজারে ছাড়লে উপকার হবে না। সরকার সেটা ৪৫ টাকা কেজিতে মানুষকে খাওয়াচ্ছে। আর জাহাজে আনা পেঁয়াজ বড় কোম্পানিগুলো বিক্রি করবে। সেটার খরচ কম হবে। আমার ধারণা, জাহাজে আনা পেঁয়াজ ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন