শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

চা উৎপাদন ও রফতানির লক্ষ্য পূরণ নিয়ে শঙ্কায় শ্রীলংকা

বণিক বার্তা ডেস্ক

প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে অক্টোবরে শ্রীলংকায় চা উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এতে চলতি বছর পানীয় পণ্যটির উৎপাদন রফতানির লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হতে পারে দেশটি। যদিও শীতকাল সামনে রেখে সময় কলম্বো চা নিলামে মানসম্মত সিলোন টির চাহিদায় চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। খবর ডেইলি মিরর কলম্বো পেজ।

বৈশ্বিক শীর্ষ চা উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় শ্রীলংকার অবস্থান চতুর্থ। এছাড়া পানীয় পণ্যটির রফতানিতে দেশটির অবস্থান তৃতীয় শীর্ষ। তবে অক্টোবরে দেশটির চা উৎপাদন কমে বছরের সর্বনিম্নে ঠেকেছে। এশিয়া সিয়াকা কমোডিটিসের তথ্য অনুযায়ী, সময় দেশটির বাগানগুলো থেকে সব মিলিয়ে কোটি লাখ কেজি চা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম এবং চলতি বছরের অন্য মাসের তুলনায় সর্বনিম্ন।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনিল কোকে বলেন, চলতি মৌসুমে শ্রীলংকায় দেরিতে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। কিন্তু অক্টোবরে এসে দেশটিতে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এর পর থেকে দেশটিতে টানা মেঘাচ্ছন্ন ঝড়ো বাতাস বিরাজ করছে। ফলে দেশটির চা ফলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি বলেন, সময়ে দেশটিতে উচ্চফলনশীল চায়ের উৎপাদন আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৫১ দশমিক শতাংশ কমে অর্ধেকে নেমেছে। এছাড়া মাঝারি নিম্ন ফলনশীল চায়ের উৎপাদন কমেছে যথাক্রমে ৩৫ দশমিক ১৯ দশমিক শতাংশ।

তবে চলতি বছরের শুরু থেকে শ্রীলংকার চা উৎপাদনে চাঙ্গা ভাব বজায় ছিল। বছরের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) দেশটির সম্মিলিত চা উৎপাদন ২৫ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার কেজিতে উন্নীত হয়েছে, যা প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম হলেও আগের বছরের তুলনায় দশমিক শতাংশ বেশি।

দেশটির টি এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শ্রীলংকা আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৩১ কোটি কেজি চা রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে বছর শেষে দেশটি থেকে পানীয় পণ্যটির রফতানি দাঁড়াতে পারে ৩০ কোটি ৩০ লাখ কেজি থেকে ৩০ কোটি ৫০ লাখ কেজি।

এদিকে বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) দেশটি চা রফতানি বাবদ আয় করেছে ১০২ কোটি মার্কিন ডলার। বছর শেষে শ্রীলংকা খাতে মোট ১৫০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু খাতে এবার দেশটির আয় দাঁড়াতে পারে ১৩০ কোটি থেকে ১৪০ কোটি ডলার।

একটু দেরিতে শুরু হলেও শীতকাল সামনে রেখে দেশটির চা নিলামে মানসম্মত সিলোন টির চাহিদা দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে অনেক বাগান পানীয় পণ্যটির মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় নিলামে মূল্য হারাচ্ছে।

দেশটি থেকে এবার সর্বাধিক সিলোন টি রফতানি হয়েছে ইরাকে। এছাড়া পণ্যটির শীর্ষ ১০ ক্রেতা দেশের তালিকায় রয়েছে তুরস্ক, রাশিয়া, ইরান, লিবিয়া, চীন, আজারবাইজান, সিরিয়া জার্মানি। তবে ইরাক, রাশিয়া ইরান আগের বছরের তুলনায় পণ্যটির ক্রয় কমিয়েছে। বিপরীতে চীন, আজারবাইজান, সিরিয়া জার্মানি সিলোন টির ক্রয় বাড়িয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন