বুধবার | জুলাই ০৮, ২০২০ | ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

শেষ পাতা

ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধা নেই ৬৭% পরিবারে

দেবাশীষ দেবু, সিলেট

বাগানের ভেতর বাঁশের বেড়া দিয়ে আড়াল করা গর্তের মতো একটি জায়গা। সেটিই শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিক রবি বুনার্জির পরিবার। আগে বাগানের ভেতরের খোলা জায়গাতেই শৌচকর্ম সারতেন তারা। বছর পাঁচেক হলো, বাঁশের বেড়ায় ঘেরা জায়গাটি নির্দিষ্ট করে নিয়েছেন।

প্রায় ৬০ বছর বয়সী রবি বুনার্জি বলেন, সরকার আর এনজিওর লোকজন কয়েকবার এসে কথাবার্তা বলে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ পাকা পায়খানার ব্যবস্থা করে দেয়নি। নিজেরা করার মতো সংগতিও নেই আমাদের।

কুলাউড়ার লুহাইনি চা বাগানের অলক সাংমাদের রিং দেয়া পাকা পায়খানা আছে। কিন্তু পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য, বিশেষত বয়স্ক পুরুষরা এটি ব্যবহার করেন না। কেন করেন না জানতে চাইলে অলক বলেন, বাইরে অভ্যাস হয়ে গেছে।

সিলেট অঞ্চলের কয়েকটি চা বাগান ঘুরে স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ে এমন দুরবস্থা আর অদ্ভুত সংস্কারের দেখা মিলেছে। মাত্র ১০২ টাকা দৈনিক মজুরি পাওয়া চা শ্রমিকরা জীবনযাত্রার অন্যান্য সূচকের মতো স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহারেও পিছিয়ে রয়েছে। ফলে সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। শিশুরা ভুগছে কৃমি, পেটের পীড়াসহ জীবাণুবাহিত নানা রোগে।

মৌলভীবাজারের বিভিন্ন বাগানে চা শ্রমিকদের স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করেন এনজিওকর্মী রাব্বি ইসলাম। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের মধ্যে, বিশেষত প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাগানগুলোর শ্রমিকদের মধ্যে অদ্ভুত সংস্কার রয়েছে। পরিবারের বয়স্করা যে পায়খানা ব্যবহার করেন, ছোটরা তা ব্যবহার করতে চান না। একে তারা অভদ্রতা মনে করেন।

সিলেটের তিন জেলার চা বাগানগুলোর ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বাগানের মাত্র ৩৩ শতাংশ পরিবারে স্যানিটেশন সুবিধা রয়েছে। ৬৭ শতাংশ পরিবার ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জরিপের তথ্য বলছে, বাগানের মাত্র ২৫ দশমিক শতাংশ শিশুর মল স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পরিষ্কার করা হয়। আর সাবান দিয়ে সবসময় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা আছে মাত্র ৪৯ শতাংশ পরিবারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সহযোগিতায় জরিপ পরিচালনা করে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। দেশে কেবল চা শ্রমিকদের নিয়ে এটাই প্রথম বড় ধরনের জরিপকাজ।

জরিপের তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) দপ্তরের একটি প্রতিবেদনেও। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে দেয়া প্রতিবেদনে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন