মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে ধর্মঘট

সারা দেশে পণ্য পরিবহন বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিকরা। সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে তাদের। শ্রমিকদের কর্মসূচিতে সারা দেশে বন্ধ হয়ে পড়েছে পণ্য পরিবহন। চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস রফতানি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে গতকাল। যশোরের বেনাপোল বন্দর থেকেও পণ্যবাহী কোনো ট্রাক চলাচল করেনি। অচলাবস্থা বিরাজ করছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরেও। একই অবস্থা দেশের প্রায় সব স্থলবন্দরে। গতকাল কোনো জেলা থেকে পণ্যবাহী যানবাহন চলেনি।

অচলাবস্থা নিরসনে গত মঙ্গলবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। তবে ওই বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় গতকাল রাতে ফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা শ্রমিক নেতাদের।

ধর্মঘটে গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর চত্বর থেকে আমদানি পণ্য খালাস এবং ডিপো থেকে রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে বন্দরের ভেতরে পরিচালন কার্যক্রম সচল ছিল।

সাধারণত বন্দর চত্বর থেকে খালাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পণ্য বের হতে না পারলে জাহাজ থেকে নামানো কনটেইনার রাখার জায়গাও কমে আসে। ফলে ধীরে ধীরে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানামাও বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাবে অচলাবস্থা তৈরি হয় বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে জানান, বন্দরের ভেতরে জাহাজ থেকে পণ্য কনটেইনার ওঠানামা স্বাভাবিক গতিতেই হয়েছে। কিন্তু বন্দরের সঙ্গে বাইরে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় অসুবিধা দেখা দিচ্ছে।

বন্দরে রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার আনা হয় বেসরকারি কনটেইনার ডিপো থেকে প্রাইম মুভার ট্রেইলারে করে। গতকাল সকালে ডিপো থেকে রফতানি পণ্যবাহী গাড়ি বের হয়নি। যেসব জাহাজ বন্দর জেটি ছেড়ে যাওয়ার কথা সেগুলোয় আগের রাতেই রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার বোঝাই হয়েছে। গতকাল যেসব জাহাজ বন্দর জেটি ছেড়ে যাবে সেগুলো রফতানি পণ্য বোঝাই করার জন্য মঙ্গলবার রাতেই ডিপো থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানোর অপেক্ষায় ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর প্রাইম মুভার ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকী জানান, কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়ি প্রাইম মুভার কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছে। আইন সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ভাটা পড়েছে যশোর বেনাপোল স্থলবন্দরেও। ভারত থেকে পণ্য আমদানি-রফতানি অব্যাহত থাকলেও থমকে গেছে পণ্য পরিবহন প্রক্রিয়া।

বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল জলিল জানান, দেশব্যাপী ট্রাক ধর্মঘটের প্রভাবে আমদানি পণ্য গন্তব্যে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিন কোনো পণ্য পরিবহন হয়নি।

বন্দরের আমদানিকারক শরিফুজ্জামান পরাগ জানান, ধর্মঘটের কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন পচনশীল পণ্যের আমদানিকারকরা। ট্রাক ধর্মঘটে সব পণ্য পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া আমদানি পণ্যের একটা বড় অংশই বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল। এসব পণ্য সময়মতো পাঠাতে না পারলে দেশের শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হবে।

এদিকে সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। একইভাবে দেশের জেলা শহরগুলো থেকে অভ্যন্তরীণ আন্তঃজেলা রুটে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে।

ধর্মঘটের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। তবে সেখান থেকে ইতিবাচক কিছু আমরা পাইনি। আজ আবারো মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ধর্মঘটের কারণে চালের বাজারে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সড়ক আইনের একাধিক ধারা সংশোধনের দাবিতে ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বিভিন্ন জেলায় টানা তিন-চারদিন ধরে চলছে বাস ধর্মঘট। এসব জেলার যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, দিনাজপুর, যশোর, ঝালকাঠি, খুলনা, কুড়িগ্রাম, মেহেরপুর, নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস ধর্মঘট অব্যাহত থাকার খবর মিলেছে গতকাল। এসব জেলা থেকে অভ্যন্তরীণ আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস না পেয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার যাত্রীরা। ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শহরের ভেতরে বাস চলাচল মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দূরপাল্লার বাসের টিকিট বিক্রি করছে না কাউন্টারগুলো।

ধর্মঘটের নামে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে না ফেলার জন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অনুরোধ করেছেন সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল নোয়াখালীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনায় বসবেন। আশা করছি, ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়ে যাবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন