মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

কানলার হাওড়ের সিংগিদাইর খাল

সেতু নির্মাণের ৪ বছরেও হয়নি সংযোগ সড়ক

বণিক বার্তা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের কানলার হাওড়ের সিংগিদাইর খালে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু। চার বছর আগে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো নির্মাণ হয়নি সংযোগ সড়ক। সংযোগ সড়ক না থাকায় অনেক দূর ঘুরে জেলা শহরে যেতে হচ্ছে তিনটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়ন দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ২২ কিলোমিটারজুড়ে কানলার হাওড়ের অবস্থান। হাওড়ের মধ্যেই অবস্থিত সিংগিদাইর খাল। কানলার হাওড়ের ওপর আগেই নির্মাণ করা হয় প্রায় ১৯ কিলোমিটার সড়ক। দোয়ারাবাজার উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের বাসিন্দা যাতে সড়কটি ব্যবহার করে জেলা সদরে যাতায়াত করতে পারে, সেজন্য সিংগিদাইর খালে একটি সেতু নির্মাণ দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। কারণ সড়কে জেলা শহরে যেতে সময় লাগে ৪০ মিনিট। অন্যদিকে দোয়ারাবাজার উপজেলা সদর দিয়ে জেলা শহরে যেতে সময় লাগে ঘণ্টা।

স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেতুটি নির্মাণ হলেও চার বছরে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি ব্যবহার করতে পারছে না তারা। সংযোগ সড়কটি হলে সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এতে দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা, লক্ষ্মীপুর বোগলাবাজার ইউনিয়নের মানুষের জীবনমান বদলে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতু নির্মাণের পরও সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় তাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে ছোট আইল দিয়ে হেঁটে সেতুটি পার হতে হয় তাদের। সড়কটি হাওড়পাড়ে থাকায় কোনো জনপ্রতিনিধি এদিকে আসেন না। তারা শুধু নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে আসেন। নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর দেখা যায় না। অথচ রাস্তা দিয়ে ওই অঞ্চলের দেড় লক্ষাধিক মানুষ সহজেই জেলা সদরে যেতে পারে।

আতিকুর রহমান আতিক নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা উপজেলার অধিকাংশ মানুষ জেলা শহরে যেতে রাস্তা দিয়ে চলাচল করি। সামান্য জায়গার জন্য সড়কটি সম্পূর্ণ হচ্ছে না। সড়কটি সম্পূর্ণ হলে মানুষ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।

স্থানীয় লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল হক বলেন, সড়কের ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, এলজিইডির আওতায় দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করা হবে।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আধারবাজার থেকে চকবাজার যাওয়ার পথে কানলার হাওড়পাড়ে ৯০ মিটার সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে মেসার্স নুরুল ইসলাম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রায় দুই বছর পর ২০১৫ সালে নির্মাণকাজ শেষ করে তারা।

দোয়ারাবাজার উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী হরজিৎ সরকার বলেন, সিংগিদাইর সেতুর দুই পাশে যে কাঁচা রাস্তা ছিল, তার প্রায় ১৯ কিলোমিটার অংশ পাকা করা হয়েছে। বাকি যে তিন-চার কিলোমিটার রাস্তা আছে, তার কাজও অনুমোদন পেলে সম্পন্ন করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন