শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেশের খবর

দাম পান না কৃষক, রংপুর অঞ্চলে কমেছে পেঁয়াজ আবাদ

বণিক বার্তা প্রতিনিধি রংপুর

 সরবরাহ সংকটে দেশে আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের দাম তবে দেশের কৃষকরাই পেঁয়াজ উৎপাদন করে প্রত্যাশিত দাম পান না কারণে টানা দুই মৌসুম পেঁয়াজ আবাদ কমেছে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে চাষীদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অঞ্চলের পাঁচ জেলা গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী রংপুরে ২০১৬-১৭ মৌসুমে হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল ২০১৭-১৮ মৌসুমে তা কমে দাঁড়ায় হাজার ১৭৮ হেক্টরে কৃষকরা দাম না পাওয়ায় ২০১৮-১৯ মৌসুমে পেঁয়াজের আবাদ আরো কমে যায় ওই মৌসুমে অঞ্চলে হাজার ১৪২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল, যা থেকে পেঁয়াজ পাওয়া যায় ৬৬ হাজার ৮৮৬ টন

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার দুবরাজপুর গ্রামের পেঁয়াজচাষী নুরুন নবী পেঁয়াজ আবাদ করে টানা লোকসান গুনেছেন তিনি বলেন, ২০১৭ সালে আশ্বিন মাসের শেষ দিকে ৪০ মণ বীজ পেঁয়াজ রোপণ করেছিলেন অসময়ে বৃষ্টিপাতের কারণে সব বীজই নষ্ট হয়ে যায় কারণে পরে আবার ৬৩ মণ বীজ রোপণ করতে হয়েছিল থেকে পেঁয়াজ পাওয়া যায় ৫০০ মণ ওই সময়ে উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়েছে মণপ্রতি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় লোকসানের কারণে পরের বছর পেঁয়াজ আবাদ কমিয়ে আনেন বলে জানান তিনি

নুরুন নবী বলেন, গত বছর ২৮ শতক জমিতে সাড়ে আট মণ বীজ পেঁয়াজ রোপণ করেছিলাম থেকে পেঁয়াজ পেয়েছি ৪৩ মণ বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় সব পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয় মাত্র ১১ হাজার টাকায় এতে আমার চাষের খরচও উঠে আসেনি

নীলফামারীর সদর উপজেলার চরাই খোলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম বসুনিয়া বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদন করে আমরা দাম পাই না আর এদিকে যখন আমাদের কাছে পেঁয়াজ থাকে না, তখন চড়া দামে বিক্রি হয় দেশী পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করছে আমদানি বন্ধ করে দিলে ভালো হয় এতে আমরা অন্তত খরচটা তুলে আনতে পারতাম

একই অভিমত নুরুন নবীর তিনি বলেন, ভরা মৌসুমে আমদানির কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা সংরক্ষণের উপায় জানি না বা ধরনের কোনো ব্যবস্থাও নেই এসব সমস্যা কাটানো গেলে আবাদ বাড়বে তখন আর পেঁয়াজ নিয়ে সমস্যা হবে না

সূত্র জানায়, রংপুর অঞ্চলে পেঁয়াজ আবাদের ধারা কখনো একমুখী ছিল না বরং ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের দামের সঙ্গে তা ওঠানামা করেছে ২০১০-১১ মৌসুমে অঞ্চলে হাজার ২৩১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল পরের মৌসুমে তা কমে দাঁড়ায় হাজার ৮৯৭ হেক্টরে তবে ২০১২-১৩ মৌসুমে পেঁয়াজ আবাদ আবার সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় হাজার ৯০২ হেক্টরে ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয় ওই মৌসুমে হাজার ৪২২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল তবে ২০১৪-১৫ মৌসুমে তা আবার কমে দাঁড়ায় হাজার ৮৫২ হেক্টরে ২০১৫-১৬ মৌসুমে হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল

কর্মকর্তারা জানান, এবার পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠায় আবাদ আবার বাড়তে পারে চলতি ২০১৯-২০ মৌসুমে হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৫ হাজার ১৮৫ টন এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে হাজার ৭৬৯ হেক্টরে

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মেসবাহুল ইসলাম বলেন, অঞ্চলে চারা ছোট আকারের কন্দ (বাল্ব) বীজ হিসেবে রোপণ করা হয় আবাদ কমলেও নতুন জাতের কারণে ফলন কিন্তু অব্যাহতভাবে বেড়েছে কৃষকদের আগাম পেঁয়াজ আবাদে আগ্রহী করে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে সরবরাহ সংকট কেটে যাবে এজন্য কৃষক যাতে দাম পান, সে ব্যবস্থা করা উচিত বিশেষ করে সরকারি উদ্যোগে পেঁয়াজ সংরক্ষণাগার তৈরি করা গেলে ভালো হয়

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, বতর্মানে কন্দ পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয়েছে আর কিছুদিন পর পেঁয়াজের চারা রোপণ শুরু হবে তাই আশা করি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হবে পেঁয়াজের আবাদ বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের আমরা উদ্বুদ্ধ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন