শনিবার | ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

পরিচালন দক্ষতায় এগিয়ে ট্রাস্ট, সাউথইস্ট ও এনসিসি ব্যাংক

মেহেদী হাসান রাহাত

ব্যাংকের মোট পরিচালন ব্যয়কে মোট পরিচালন আয় দিয়ে ভাগ করে পরিচালন দক্ষতা নিরূপণ করা হয়। এর মাধ্যমে ধারণা পাওয়া যায় একটি ব্যাংক কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় ব্যবস্থাপনা করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে পরিচালন দক্ষতায় সবার উপরে রয়েছে বেসরকারি খাতের ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। এর পরই রয়েছে সাউথইস্ট এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড। অন্যদিকে পরিচালন দক্ষতায় সবার নিচে রয়েছে এবি ব্যাংক লিমিটেড। এর পরই রয়েছে রূপালী ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন করেছে ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন অনুসারে দেশের ব্যাংকিং খাতের পরিচালন দক্ষতার গড় হচ্ছে ৫৩ শতাংশ। যে ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার যত কম সে ব্যাংক তত ভালো অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিচালন দক্ষতার ভিত্তিতে সবার শীর্ষে রয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটির ২৯০ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে ৮৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মইনুদ্দীন বলেন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে ব্যাংকের ভিত্তিকে শক্তিশালী রাখতে পেরেছি। তাছাড়া আমাদের যে পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে, সেটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া। কস্ট অব ইফিশিয়েন্সির মাধ্যমে নিজেদের আমরা আরো সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

পরিচালন দক্ষতায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির পরিচালন দক্ষতার হার ৩৫ দশমিক শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটি ৩৭৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে হাজার ৬৬ কোটি টাকা পরিচালন আয় করেছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ছিল ৩২৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামাল হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে সাউথইস্ট ব্যাংক সব নির্দেশকেই ভালো করছে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের কারণে আমরা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। আর পরিচালন দক্ষতায় শীর্ষে থাকা এসব প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।

পরিচালন দক্ষতায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনসিসি ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির পরিচালন দক্ষতার হার ৩৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটি ৩১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে আয় করেছে ৮৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

পরিচালন দক্ষতায় এগিয়ে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৪১ শতাংশ। ব্যাংকটি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ৩৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে ৮১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিচালন আয় করেছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির ১৩২ কোটি ১০ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে।

এছাড়া ব্যাংক এশিয়ার পরিচালন দক্ষতার হার ৪২ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটির ৫০৩ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে হাজার ২০৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিচালন আয় হয়েছে। আর আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ইবিএলের পরিচালন দক্ষতার হার ৪৩ শতাংশ। ব্যাংকটির বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ৪৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে পরিচালন আয় হয়েছে হাজার ১১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২২৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৪৪ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটির ৩৫৮ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে ৮০৯ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিচালন আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

যমুনা ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৪৫ শতাংশ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটির ৩৯৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে ৮৬৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিচালন আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এর বাইরে পূবালী ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৪৬ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটির ৬৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে হাজার ৩৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিচালন আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৭৯ কোটি ৬০ লাখ টাকায়। একই সময়ে ঢাকা ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৪৬ শতাংশ। ব্যাংকটির বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ৩৫৩ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে ৭৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিচালন আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১০৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৪৭ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটির হাজার ৫০৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে হাজার ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিচালন আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৩৫৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৪৮ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটির ৪৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে হাজার ২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিচালন আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৫১ শতাংশ। ব্যাংকটির বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ৪৭১ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে ৯৩১ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিচালন আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২২১ কোটি টাকায়।

এমটিবির পরিচালন দক্ষতার হার ৫১ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটির ৫০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে ৮০৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকায়।

প্রিমিয়ার ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৫৩ শতাংশ। ৫৬ শতাংশ হারে পরিচালন দক্ষতা রয়েছে উত্তরা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এসআইবিএল ওয়ান ব্যাংকের। এক্সিম ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৬০ শতাংশ। তাছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৬২ শতাংশ এবং ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতার হার ৬৯ শতাংশ।

পরিচালন দক্ষতায় সবার নিচে রয়েছে এবি ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির পরিচালন দক্ষতার হার ৮০ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটির ৪১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে ৫১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা পরিচালন আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা।

এবি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান বলেন, বর্তমান ব্যাংকটির যে পরিস্থিতি, সেটি আগেকার অব্যবস্থাপনার কারণে হয়েছে। ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে মোহাম্মদ রুমী আলী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন। তার নেতৃত্বে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সামনের দিনগুলোয় খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আনাসহ বিভিন্ন নির্দেশকে আমরা ভালো করব।

পরিচালন দক্ষতায় পিছিয়ে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির পরিচালন দক্ষতার হার ৭৯ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে ব্যাংকটির ৬৮৬ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে ৮৬৯ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিচালন আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

পরিচালন দক্ষতায় পিছিয়ে থাকার তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির পরিচালন দক্ষতার হার ৭৩ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটির হাজার ৪৪৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয়ের বিপরীতে হাজার ৯৭০ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিচালন আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ কোটি ৩০ লাখ টাকায়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন