শনিবার | ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

বিদ্যুৎ বিভাগ

প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহারে অনিয়মের খোঁজে সংসদীয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকল্প শেষে গাড়ির যথাযথ ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সাব-কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। কোন কোন কর্মকর্তার নির্দেশে গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহারের বিধানসহ সাব-কমিটিকে সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়ম হলে দায়ী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলেরও সুপারিশ করেছে কমিটি।

গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে প্রকল্পের গাড়ি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে সমাপ্ত প্রকল্পের গাড়ির বিস্তারিত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রকল্প শেষে প্রকল্পের জন্য কেনা গাড়ির বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় বিভিন্ন সময়ে সমাপ্ত প্রকল্পের ৩৮০টি গাড়ি বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সংস্থাগুলো নিজেরাই ব্যবহার করছে বলে জানানো হয়।

কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আবু জাহরি, মো. নূরুল ইসলাম তালুকদার, মো. আছলাম হোসেন সওদাগর, মোছা. খালেদা খানম বেগম নার্গিস রহমান অংশগ্রহণ করেন।

সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বিভাগের প্রকল্প শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ব্যবহূত যানবাহন পরিবহন পুলে জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। কোনো কারণে বা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে ছয় মাস আগে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। কিন্তু অনেকে সময়মতো তা ফেরত দেন না। নিয়ে সম্প্রতি একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উষ্মা প্রকাশ করেন।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ৫৪টি প্রকল্পের ৩৮০টি সচল গাড়ি বিদ্যুৎ বিভাগ তার অধীন সংস্থাগুলো ব্যবহার করছে। এর মধ্যে কয়েকটি গাড়ি নতুন শুরু হওয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককেও দেয়া হয়েছে। অবশ্য ৩৮০টি গাড়ির মধ্যে দেড় শতাধিক মোটরসাইকেল রয়েছে। ফোর হুইলারের মধ্যে শতাধিক পিকআপ একশর কাছাকাছি জিপ রয়েছে। এছাড়া কার রয়েছে পাঁচটি, অ্যাম্বুলেন্স দুটি মাইক্রো বাস রয়েছে নয়টি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিবো) ১০টি প্রকল্পের ৫৭টি, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) ১২টি প্রকল্পে ২২৫টি, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (নওপাজিকো) সাতটি প্রকল্পে ৩০টি, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) সাতটি প্রকল্পের ১৫টি, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) তিনটি প্রকল্পে ২২টি, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নয়টি প্রকল্পে ১৬টি, ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (ইজিসিবি) পাঁচটি প্রকল্পে ১৪টি এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) একটি প্রকল্পে একটি গাড়ি রয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর গাড়িগুলো কোথায় যাবে তা জানতে চেয়েছিলাম। উনাদের ব্যাখ্যা হচ্ছে, বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলা নেই। গাড়িগুলো উনারা ব্যবহার করছেন। আমরা পাঁচটি বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সাব-কমিটি গঠন করেছি। এগুলো হলো সমাপ্ত প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহার বৈধ কিনা? প্রকল্প শেষে গাড়ি ফেরত দেবে না ব্যবহার করবে? বৈধ না হলে গাড়িগুলো সরকারের গোচরে হচ্ছে না অগোচরে ব্যবহার হচ্ছে? কোন কোন কর্মকর্তার নির্দেশে গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কোন কোন কর্মকর্তা ব্যবহার করছেন? এছাড়া গাড়িগুলোর গতি কী হবে?

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন