শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানি শুরু করেছে ভারত

বণিক বার্তা ডেস্ক

কাশ্মীর ইস্যুতে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে করা সমালোচনা মোটেই ভালোভাবে নেয়নি ভারত সরকার। ফলে দেশটির পাম অয়েলের শীর্ষ ভোক্তা দেশ হওয়া সত্ত্বেও অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি বন্ধ করে দেন পরিশোধনকারীরা। তবে প্রায় এক মাস আমদানি বন্ধ থাকার পর নতুন করে মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল কেনা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে শীর্ষ উৎপাদক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে টনপ্রতি ডলার কম মূল্যে পাম অয়েল বিক্রি করছে মালয়েশিয়া। খবর রয়টার্স।

আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে ৭০ হাজার টন অপরিশোধিত পাম অয়েল (সিপিও) কিনেছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে দিয়ে মালয়েশিয়ান অপরিশোধিত পাম অয়েলের ভবিষ্যৎ মূল্য দুই বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মাসে কাশ্মীর ইস্যুতে কুয়ালালামপুরের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হয় নয়াদিল্লি। যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানিতে সরকার শুল্ক বাড়াতে পারে বা অন্য কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে, এমন শঙ্কাও দেখা দেয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে। যে কারণে দেশটি থেকে অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি বন্ধ করে দেন পরিশোধনকারীরা। অন্যদিকে রফতানি কমে যাওয়ার জেরে সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় কম মূল্যে পাম অয়েল সরবরাহ করতে শুরু করে মালয়েশিয়া।

দাম কমিয়ে দেয়ায় সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ডিসেম্বর সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম অয়েলে (সিপিও) বিক্রি হয়েছে ৬০৩ ডলারে। যেখানে ইন্দোনেশিয়ার প্রতি টন সিপিওর দাম ৬০৮ ডলার।

মুম্বাইভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার বন্দরে পণ্যজট রয়েছে। এরই মধ্যে টনপ্রতি ডলার কম মূল্যে পর্যাপ্ত পাম অয়েল সরবরাহ করছে মালয়েশিয়া। কয়েকটি পরিশোধন প্রতিষ্ঠান অল্প পরিমাণে মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল কেনা শুরু করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুম্বাইভিত্তিক একজন আমদানিকারক বলেন, দুই দেশের মধ্যে এখনো বিবাধ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে কিছু ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে সিপিও আমদানি করছে। কারণ তারা মনে করছেন, ভারত সরকার আপাতত আমদানি শুল্ক বাড়াবে না।

ভারতের বাজারে আমদানি করা ভোজ্যতেলের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পাম অয়েল। দেশটি প্রতি বছর ৯০ লাখ টনের মতো পাম অয়েল আমদানি করে। যার সিংহভাগ আসে মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়া থেকে।

মালয়েশিয়া পাম অয়েল বোর্ডের (এমপিওবি) তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশটি থেকে ভারতের বাজারে ৪১ লাখ টন পাম অয়েল রফতানি হয়েছে। তবে সম্প্রতি ভারতের বাজারে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি উল্লেখযোগ্য কমেছে।

এমপিওবির তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ভারতের বাজারে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানি কমে দাঁড়িয়েছে লাখ ১৯ হাজার ৯৫৬ টন। যেখানে সেপ্টেম্বরে রফতানি ছিল লাখ ১০ হাজার ৬৪৮ টন। আর আগস্টে রফতানি ছিল লাখ ৫০ হাজার ৪৫২ টন।

ভোজ্যতেলটির দ্বিতীয় শীর্ষ উৎপাদক দেশ মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে পাম অয়েলের গুরুত্ব অনেক। দেশটির জিডিপির দশমিক মোট রফতানির দশমিক শতাংশ আসে পাম অয়েল থেকে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন