মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

খবর

এফআর টাওয়ারে নির্মাণে জালিয়াতি

জমির মালিক ফারুক ও দুই রাজউক কর্মকর্তা কারাগারে

আদালত প্রতিবেদক

বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুদকের দায়ের করা জাল-জালিয়াতির মামলায় ভবনটির জমির মালিক প্রকৌশলী এসএমএইচআই ফারুকসহ তিনজনের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

অন্য দুই আসামি হলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক আওরঙ্গজেব সিদ্দিকী এবং সাবেক উপ-পরিচালক (স্টেট) মুহাম্মদ সওগত আলী।

হাইকোর্ট থেকে জামিন বাতিল হওয়া এ আসামিরা রোববার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করেন।

বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে আদেশ দেন।

এর আগে মামলাটিতে একই আদালত গত ২০ আগস্ট ফারুকের এবং পরবর্তীতে অপর দুই আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। ওই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক হাইকোর্টে আবেদন করলে গত ৫ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ তাদের জামিন বাতিল করে এক সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল বিভাগে গেলেও আপিল বিভাগের চেম্বর বিচারপতি তা বহাল রেখে গত ১১ নভেম্বর ১ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে আদেশ দেন। ওই আদেশ অনুযায়ী রোববার আসামিরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের পাশের ১৭ নম্বর সড়কে ফারুক রূপায়ন (এফআর) টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ঘটনাস্থলে ২৫ জন ও হাসপাতালে ১ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত হন আরো শতাধিক লোক। এ ছাড়া, ওই ঘটনায় আহত হয়ে ফ্যায়ারম্যান সোহেল রানাও মারা যান।

ওই ঘটনায় দুদকের করা মামলায় অভিযোগ, ভবনের জমির মালিক প্রকৌশলী এসএমএইচআই ফারুক, টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভিরুল ইসলাম এবং রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান ওরফে মুকুল এফ আর টাওয়ার বিল্ডিং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ অসৎ উদ্দেশ্যে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার লোভে নির্মাণ বিধিমালা লংঘন করে টাওয়ারে ভবিষ্যতে থাকা সম্পত্তি ও লোকজনের জানমালের নিরাপত্তার বিষয় লক্ষ্য না রেখে কেবলমাত্র নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ  করার মানসিকতায় চরম অবহেলা ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ কার্যকলাপের ফলে এফ আর টাওয়ারে এই মর্মান্তিক ভয়াবহ অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়।

এ ঘটনায় হতাহত ছাড়াও এফআর টাওয়ারের বিল্ডিংসহ পার্শ্ববর্তী বিল্ডিং সংলগ্ন তথা রাষ্ট্রের সম্পত্তি মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতিসহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। ১৯৯৬ সালের এফআর টাওয়ারের নকশা অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদিত নকশা ভবনের উচ্চতা ১৮তলা, যদিও নির্মাণ করা হয়েছে ২৩তলা। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে এফ আর টাওয়ারের মালিকপক্ষ রাজউকের কাছে আরেকটি নকশা জমা দেয়। ১৯৯৬ সালে মূল যে নকশা রাজউক অনুমোদন দিয়েছিল তার সাথে নির্মিত ভবনটির অনেক বিচ্যুতি রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন