শনিবার | ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মেয়াদ পার হওয়ার চার বছর পর অনুষ্ঠেয় সম্মেলন ঘিরে বেশ দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে পদপ্রত্যাশীদের। আগ্রহীরা তুলে ধরছেন দলের দুঃসময়ে নিজেদের অবদান।

সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এতে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নির্মল রঞ্জন গুহ জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে সম্মেলনস্থলের মঞ্চ প্যান্ডেলসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের সম্মেলনে হাজার ৯৭৫ জন কাউন্সিলর প্রায় ১৮ হাজার ডেলিগেট উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া অতিথি থাকবেন প্রায় ১৫ হাজার। সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে ১৩টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, স্বেচ্ছাসেবক লীগের জন্ম ১৯৯৪ সালে। এরপর আহ্বায়ক কমিটি পার করে দেয় নয় বছর। ২০০৩ সালে প্রথম কমিটি হয় সংগঠনটির। ওই সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাহাউদ্দিন নাছিম সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন পঙ্কজ দেবনাথ। এর নয় বছর পর ২০১২ সালে হয় দ্বিতীয় কমিটি। দ্বিতীয় সম্মেলনে সভাপতি হন মোল্লা মো. আবু কাওছার সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ। এর সাত বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংগঠনটির তৃতীয় সম্মেলন। গঠনতন্ত্র অনুসারে প্রতি তিন বছর পরপর সম্মেলন করার কথা থাকলেও গত ২৫ বছরে তা হয়েছে মাত্র দুবার।

সম্প্রতি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের শুরুতেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা কাওছারের নাম আলোচনায় চলে আসায় ইমেজ সংকটে পড়ে যায় সংগঠনটি। বিতর্কের মধ্যে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। অন্যদিকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয় সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথকে। বর্তমানে ইমেজ সংকট দূর করাকেই নতুন নেতৃত্বের বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগসংশ্লিষ্টরা।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদের দাবি, শীর্ষ দুই নেতার কর্মের দায় সংগঠন বহন করবে না। তাদের ভাষ্যমতে, ব্যক্তির দায় সংগঠন বহন করবে না। এটি একটা বৃহৎ সংগঠন। সংগঠনের দায়িত্ব নেয়ার পর কেউ অন্যায় করলে দল সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তাই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বর্তমানে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে বেশ আশাবাদী সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বলেন, ইমেজ সংকট একটু হয়েছে আমাদের। তার পরও আমরা মনে করি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ তার জায়গায় ঠিক আছে। অন্য সংগঠনের যে বদনাম হয়, এখন পর্যন্ত তা আমাদের বিরুদ্ধে হয়নি। আমরা যে যা- করি না কেন, সংগঠনটা করেছি সততার সঙ্গে।

নতুন সম্মেলনে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নির্মল রঞ্জন গুহ, সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক, মতিউর রহমান মতি, আফজালুর রহমান বাবু, নির্মল চ্যাটার্জি, কাজী শহীদুল্লাহ লিটন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেসবাউল হোসেন সাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম আজিম, আব্দুল আলিম, শেখ সোহেল রানা টিপু, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, খায়রুল হাসান জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ টুটুল, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক নাফিউল করিম নাফা, পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক আবুল ফজল রাজু প্রমুখ।

সম্মেলন নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ভালো নেতা নির্বাচিত করা হবে। যিনি বিতর্কের ঊর্ধ্বে, যার ক্লিন ইমেজ রয়েছে, যিনি দস্যু, টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসী মাদকসেবী না; এমন কেউই নির্বাচিত হবেন। দুঃসময়ের পরীক্ষিত এবং জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন উপেক্ষা করে যারা দলের রাজনীতি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে তার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনার পেছনে থেকে কাজ করেছেন; তাদের ভেতর থেকে দেশপ্রেমিক নেতা নির্বাচিত করা হবে।

অন্যদিকে সংগঠনের সহসভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে সারা দেশের কর্মীদের একটা মিলন মেলা হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে, সংগঠনকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন-২০২১, ২০৪১ ২১০০-কে বাস্তবায়নের জন্য স্বেচ্ছাসেবক লীগকে করে তুলবে তার ভ্যানগার্ড।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সহসভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, একটা চমত্কার সম্মেলন হবে বলে আমরা আশা করছি। সম্মেলনের মাধ্যমে একটা ভালো নেতৃত্ব আসবে।

তিনি বলেন, আমি কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি, একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছি। আমি ছাত্রলীগের দায়িত্বে ছিলাম। এক-এগারোর সময় নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। সংগঠনের দুঃসময়ে বাহাউদ্দিন নাছিম (সাবেক সভাপতি) যখন যা নির্দেশ দিয়েছিলেন, সব কাজই করেছি।

সংগঠনের আরেক সহসভাপতি আফজালুর রহমান বাবু বলেন, নেতৃত্ব নিয়ে আমাদের আপা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটার সঙ্গে আমরা একমত। স্বেচ্ছাসেবক লীগ যে ইমেজবহুল একটা সংগঠন, সেটিকে ঠিক রাখার জন্য যিনি নেতৃত্ব দেবেন, তার মাধ্যমেই আমরা কাজ করব।

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম আজিম বলেন, একটা সুন্দর সম্মেলন আশা করি। সম্মেলনের মাধ্যমে যে কমিটি আসবে, সেটা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করি। ন্যায়নিষ্ঠভাবে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো হলো আমাদের কর্তব্য, সে অনুযায়ী সংগঠন কাজ করছে এবং করবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা বলেন, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, দুঃসময়ের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা; সর্বোপরি নেত্রী দলের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ নেতারা আগামীতে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে আসবেন; এমন আশা করছি।

শেখ সোহেল রানা টিপু বলেন, মেধাবী, দক্ষ, স্বচ্ছ, ক্লিন ইমেজ, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিল, তাদের মধ্য থেকেই আগামীর নেতৃত্ব উঠে আসবে বলে আমরা মনে করি। সর্বোপরি জননেত্রী নির্দেশিত সব কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করবে, এমন নেতৃত্বই আগামীতে আসবে।

খায়রুল হাসান জুয়েল বলেন, দুঃসময়ে যারা ছাত্রলীগ করেছেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগে যারা সততা, দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং যাদের সারা দেশে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে; তাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব এলে আমি মনে করি স্বেচ্ছাসেবক লীগ ভালোভাবে চলবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন