শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

এনসিআরবির প্রতিবেদন

ভারতে দিনমজুরদের মধ্যে আত্মহত্যা সবচেয়ে বেশি

বণিক বার্তা ডেস্ক

ভারতে ২০১৬ সালে ২৫ হাজার ১৬৪ দিনমজুর আত্মহত্যা করেছেন বলে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন পেশাজীবী গ্রুপের মধ্যে দিনমজুরদের আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি, যা বিস্ময়কর। খবর লাইভমিন্ট।

২০১৬ সালে দেশটিতে যত সংখ্যক দিনমজুর আত্মহত্যা করেছেন, তা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ২০১৫ সালে দেশটিতে আত্মহত্যা করেছিলেন ২৩ হাজার ৭৯৯ দিনমজুর। অন্যদিকে আগের বছর দেশটির কৃষি খাতে যত সংখ্যক শ্রমিক ও কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, ২০১৬ সালে খাতটিতে আত্মহত্যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তার প্রায় দ্বিগুণ। ওই খাতে ২০১৫ সালে আত্মহত্যা করেন মোট ১১  হাজার ৩৭৯ জন।

রোজগারের দিকে থেকে নিম্ন আয়ের লোকদের মধ্যে ভারতে দিনমজুরদের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প গ্রহণ সত্ত্বেও ২০১৬ সালে যে পরিমাণ দিনমজুর আত্মহত্যা করেছেন তা অকল্পনীয়। গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৩৩টি রাজ্যে ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে কৃষি খাতের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ অন্যতম। এছাড়া দেশটিতে বয়স্ক ভাতার একটি প্রকল্পও রয়েছে, যা ২০০৬ সাল থেকে স্থগিত আছে।

এদিকে কৃষি খাতের সঙ্গে কৃষিবহির্ভূত খাতের সম্পর্কের কারণে দিনমজুরের আত্মহত্যার সংখ্যা এতটা বেড়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনানুষ্ঠানিক ও শ্রম অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অনামিত্র রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০১৪ ও  ২০১৫ সালে টানা দুই বছর খরা থাকায় কৃষিবহির্ভূত খাতে শ্রমিক সরবরাহ বেড়েছে, যা মজুরি ও কাজের সুযোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অনামিত্র রায় বলেন, ২০০৪-১১ ও ২০১১-১৭ সালের মধ্যে সাধারণ শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ পরিসংখ্যান থেকেও আমরা কৃষিবহির্ভূত খাতের একটি করুণ চিত্র পাই। 

সম্প্রতি রাজ্য সরকারগুলো কৃষি শ্রমিক বা কৃষকদের আত্মহত্যাকে দিনমজুরের আত্মহত্যা বলে গণনা করায় এ গ্রুপের আত্মহত্যার সংখ্যা এতটা বেড়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কৃষক আত্মহত্যার রাজনৈতিক গুরুত্ব কমাতে রাজ্য সরকারগুলো এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, হরিয়ানাসহ নয়টি রাজ্যের কথা বলা যায়, যারা ২০১৬ সালে স্ব-স্ব রাজ্যে কোনো কৃষক আত্মহত্যা করেননি বলে জানিয়েছে। 

এদিকে ২০১৬-তে ২০১৪ সালের তুলনায় দিনমজুরের আত্মহত্যা ৬০ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ১৬৪-তে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালে তা ছিল ১৫ হাজার ৭৩৫। অন্যদিকে ২০১৬ সালে ২১ হাজার ৫৬৩ গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। ২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ১৪৮। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন এনসিআরবি ২০১৪ সাল থেকে দিনমজুর আত্মহত্যার একটি নতুন ক্যাটাগরি তৈরি করে, যা কৃষি শ্রমিকদের আত্মহত্যার সংখ্যা বাদ দিয়ে তৈরি করা হয়।

গত শুক্রবার প্রকাশিতঅ্যাক্সিডেন্টাল ডেথস অ্যান্ড সুইসাইডস ইন ইন্ডিয়া (এডিএসআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সাল পর্যন্ত টানা দুই বছর ভারতে গৃহবধূর তুলনায় দিনমজুরের আত্মহত্যা বেড়েছে। যদিও ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশটিতে গৃহবধূর আত্মহত্যার সংখ্যাই ছিল সর্বোচ্চ।

২০১৬ সালে ভারতের যাবতীয় আত্মহত্যার মধ্যে দিনমজুরের পরিমাণ ১৯ দশমিক ২ শতাংশ, যা দেশটির মোট আত্মহত্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। একই সময়ে দেশটির কৃষি খাতে ও গৃহবধূর আত্মহত্যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৭ ও ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এডিএসআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় দেশটির তামিলনাডুতে দিনমজুর আত্মহত্যা করেছেন সবচেয়ে বেশি। ২০১৬ সালে তামিলনাডুতে ৪ হাজার ৮৮৮ দিনমজুর আত্মহত্যা করেন। অন্যদিকে ৩ হাজার ১৬৮ দিনমজুরের আত্মহত্যা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র।  

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন