রবিবার | ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্র সমাজের সর্বস্তর থেকে অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অপরাধী যে- হোক, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে অনুসন্ধানপূর্বক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ক্যাসিনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তত্পর রয়েছে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে দেশের প্রকৃত আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ক্যাসিনো, জুয়া, মাদক, দুর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এরই মধ্যে ক্যাসিনো, দুর্নীতি অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮, অস্ত্র আইন-১৮৭৮, বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪সহ অন্যান্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তত্পর রয়েছে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুদক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অর্থাৎ দুর্নীতি অনুসন্ধানে তদন্ত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ বছরে দুদক ১৩ হাজার ২৩৮টি অভিযোগের অনুসন্ধান, হাজার ৬১৭টি মামলা রুজু হাজার ১৭৯টি চার্জশিট দাখিল করেছে।

তিনি বলেন, তাত্ক্ষণিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট সদা তত্পর রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ইউনিট সারা দেশে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তরে তাত্ক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করছে। এছাড়া আসামি গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। ২০১৯ সালে পর্যন্ত দুদক ১৬টি ফাঁদ মামলা করেছে। ৬৮ জন আসামি গ্রেফতার করেছে। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দুদক ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দপ্তরে পত্র প্রেরণ করেছে।

রওশন আরা মান্নানের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি একটি বহুমাত্রিক ব্যাধি। দুর্নীতি যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়ন, এমনকি রাজনীতি পরিবেশের প্রধান অন্তরায়। দুর্নীতি গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করে। তাই দুর্নীতি দমনে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ উচ্চ আয়ের দেশ হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। লক্ষ্যে দুর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সারা দেশে ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এরই মধ্যে দুর্নীতি অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মসিউর রহমানের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মোংলা বন্দর ব্যবহারে ভারতের সঙ্গে এসওপি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে ভারত আমদানি-রফতানির জন্য বন্দর দুটি ব্যবহার করতে পারবে। এটি উভয় দেশের জন্যই লাভজনক। ভারতের পাশাপাশি অদূরভবিষ্যতে নেপাল ভুটান আমাদের বন্দর ব্যবহারের সুযোগ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মসিউর রহমান ভারতে প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির বিষয়েও জানতে চেয়েছিলেন। বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বিবেচনায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রাজ্যগুলোয় বাংলাদেশ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বাংলাদেশ থেকে ভারতের ত্রিপুরায় বাল্ক এলপিজি রফতানির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে আমদানি করা এলপিজি সিলিন্ডারে ভরে ভারতে রফতানি করে মুনাফা অর্জন করতে পারবে। এতে বাংলাদেশে কোনো ধরনের জ্বালানি সমস্যার সৃষ্টি হবে না।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন ভারতের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামানের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়ে দুটি দেশের সঙ্গেই আমরা আলোচনা করেছি। রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, তারাও চেষ্টা করছে। শুধু ভারত বা চীনই নয়, মিয়ানমারের সঙ্গে যেসব দেশের স্থল সীমানা রয়েছে (ভারত-চীন-থাইল্যান্ড-লাওস), সেসব দেশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন