মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

আবরার হত্যা

বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৫ শিক্ষার্থীকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখায় সংবাদ সম্মেলন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে ১১ জন সরাসরি হত্যায় অংশ নেন। বাকি ১৪ জন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এবং অন্যভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

কিলিং মিশনে অংশ নেয়া সব শিক্ষার্থীই উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, শিবির সন্দেহের বিষয়টি ছিল আবরারের ওপর নির্যাতনের একটি কৌশল। আসলে বুয়েট ছাত্রলীগের ওই নেতাকর্মীরা অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে মোট ২১টি আলামত আটটি জব্দ তালিকা যুক্ত করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দ তালিকায় উচ্ছৃঙ্খল আচরণের প্রমাণ রয়েছে।

অভিযোগপত্রের বিস্তারিত তুলে ধরে পুলিশের কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে ১৯ জনের নাম এজাহারেই উল্লেখ ছিল। পুলিশ তদন্তে নেমে আরো ছয়জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। তদন্ত শেষে তাদেরও অভিযোগপত্রে যুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রের ২৫ আসামির মধ্যে ২১ জনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক চারজনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগপত্রে মোট ৩১ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাদীপক্ষের ছয়জন ছাড়াও বুয়েটের সাতজন শিক্ষক, ১৩ জন শিক্ষার্থী পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগপত্রে উল্লিখিত ২৫ আসামির পরিচয় তুলে ধরা হয়। তারা হলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (১৩তম ব্যাচ), সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (১৫তম ব্যাচ), তথ্য গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি, সদস্য মুজাহিদুর রহমান (১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (১৭তম ব্যাচ), আকাশ হোসেন (১৬তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (১৬তম ব্যাচ), মোয়াজ আবু হোরায়রা (১৭ ব্যাচ), এএসএম নাজমুস সাদাত (১৭তম ব্যাচ) মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (১৭তম ব্যাচ) আসামিদের মধ্যে ছাত্রলীগের পদধারী সবাইকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন