মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

উৎপাদন ও ব্যবহারে নিম্নমুখী

চ্যালেঞ্জের মুখে বৈশ্বিক রাবার খাত

বণিক বার্তা ডেস্ক

রাবারের শীর্ষ উৎপাদক দেশ থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়াকে এখন ছত্রাকজনিত রোগের সঙ্গে লড়াই করে উৎপাদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এর বিপরীতে বাণিজ্যযুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতির কারণে শীর্ষ রাবার ব্যবহারকারী দেশ ভারত চীনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমছে। এছাড়া পাঁচ-ছয় বছর ধরে রাবারের বাজার নিম্নমুখী হওয়ায় খাতে বিনিয়োগও কমে এসেছে। ফলে খারাপ সময় পার করছে বৈশ্বিক রাবার খাত। খবর ইকোনমিক টাইমস, বিজনেস লাইন।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইপার্টাইট রাবার কাউন্সিলের (আইটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শীর্ষ তিন উৎপাদক দেশ থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়ায় প্রাকৃতিক রাবারের উৎপাদন আট লাখ টন কমে যেতে পারে। বৈশ্বিক রাবারের ৭০ শতাংশ তিন দেশ থেকে সরবরাহ করা হয়। ফলে ছত্রাকজনিত রোগে দেশ তিনটিতে বছর রাবার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আইটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত দেশ তিনটি প্রাকৃতিক রাবার রফতানি লাখ ৪১ হাজার ৬৪৮ টন কমিয়েছে। যেখানে লাখ ৪০ হাজার টন রফতানি কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। মূলত উৎপাদন কমে যাওয়ায় রফতানি প্রাক্কলনের তুলনায় কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া রফতানি কমালেও দেশ তিনটিতে মুহূর্তে মজুদের মতো পর্যাপ্ত সরবরাহও নেই বলে জানিয়েছে আইটিআরসি। তবে দেশ তিনটি এককভাবে ঠিক কী পরিমাণ রফতানি উৎপাদন করতে পারে, সেটির কোনো তথ্য উল্লেখ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

শীর্ষ রাবার উৎপাদক দেশ তিনটির প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান আইটিআরসি তাদের প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করেছে, অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় লাখ ৮২ হাজার হেক্টর আবাদি জমি ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ার উপদ্বীপ অঞ্চলে হাজার ১৩৫ হেক্টর আবাদি জমির রাবার গাছ থেকে ৫০-৯০ শতাংশ পাতা ঝরে পড়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার সীমান্তসহ থাইল্যান্ডে মোট ৫০ হাজার হেক্টর জমির রাবার বাগান ছত্রাকে আক্রান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে রাবার গাছ রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে আইটিআরসি বলছে, গত পাঁচ-ছয় বছর পর্যন্ত রাবারের বাজার নিম্নমুখী ছিল। ভালো দাম না পাওয়ায় রাবার খাতে বিনিয়োগও কমে যায়। বিশেষ করে কীটনাশকের ব্যবহার পরিচর্যা কমে যাওয়ায় বিদ্যমান রাবার গাছ তাদের উৎপাদন ক্ষমতা হারাতে বসেছে; রোগাক্রান্ত হওয়া শুরু করেছে বলেও মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে অন্যতম শীর্ষ রাবার উৎপাদক দেশ ইন্দোনেশিয়ায় গত বছর ৩৭ লাখ ৬০ হাজার টন রাবার উৎপাদন হয়েছিল। আর সে বছর দেশটির রফতানি ছিল ২৯ লাখ ৫০ হাজার টন। তবে চলতি বছর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রফতানিও কমে যাবে বলে জানিয়েছেন রাবার অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্দোনেশিয়ার চেয়ারম্যান মোয়েনারডিজি সোয়েডারগো।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, চলতি বছরে ইন্দোনেশিয়া থেকে রাবারের রফতানি লাখ ৪০ হাজার টন পর্যন্ত কমিয়ে দেয়া হতে পারে। রাবারের বাজারমূল্য নিয়ে উৎপাদকরা চাপে আছে বলেও জানান তিনি। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রাবার খাত থেকে যে আয় আসছে, সেটা অর্থনৈতিকভাবে টেকসইপূর্ণ নয়। যে কারণে কৃষকরা রাবার চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

এদিকে উৎপাদন কমতির সঙ্গে বৈশ্বিকভাবে রাবারের ব্যবহারও কমে যাওয়ায় খাতকে আরো বেশি দুর্দশাগ্রস্ত করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শীর্ষ ভোক্তা দেশ ভারত চীনের বাজারে পণ্যটির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ভারতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) প্রাকৃতিক রাবারের ব্যবহার কমে যাওয়ায় আমদানি কমেছে ১৪ শতাংশ। আর চলতি বছরে আমদানি ১৭ শতাংশ কমে লাখ ১৫ হাজার টনে দাঁড়াতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের রাবার বোর্ড।

এছাড়া শীর্ষ ভোক্তা দেশ চীনেও বছর রাবারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাবে। বৈশ্বিক মোট ব্যবহারের ৪০ শতাংশ রাবার এককভাবে ব্যবহার করে চীন। তবে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব, অর্থনৈতিক শ্লথগতির কারণে দেশটিতেও এবার রাবারের ব্যবহার কমতির দিকে থাকবে। আর চলতি বছর রাবারের বৈশ্বিক ব্যবহার দশমিক শতাংশ কমে দাঁড়াতে পারে কোটি ৩৬ লাখ ৯৯ হাজার টনে। সবমিলিয়ে প্রাকৃতিক রাবারের নিম্নমুখী বাজার ব্যবহার, বাণিজ্যযুদ্ধ, ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত রাবার খাতের চ্যালেঞ্জ সহসাই কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন