মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

খবর

দুর্ঘটনার আট ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় আট ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বগিগুলো সরিয়ে মূল লাইন মেরামত করে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়। 

এর আগে গতকাল সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথার মধ্যে সংঘর্ষ হলে অন্তত ১৬ জন নিহত হন, ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় আহত হন আরো অর্ধশতাধিক যাত্রী।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়া জাহান জানান, সিলেট থেকে ছেড়ে উদয়ন এক্সপ্রেস যাচ্ছিল চট্টগ্রামে। আর তূর্ণা নিশীথা চট্টগ্রাম থেকে যাচ্ছিল ঢাকায়। মন্দবাগে দুই ট্রেনের ক্রসিংয়ের সময় সিগন্যাল পেয়ে উদয়ন মেইন লাইন থেকে লুপ লাইনে প্রবেশ করছিল। ট্রেনের নয়টি বগি লুপ লাইনে চলে যাওয়ার পর দশম বগিতে আঘাত করে তূর্ণা নিশীথা। ওই ট্রেনের লোকোমাস্টার (চালক) সিগন্যাল অমান্য করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি।

সংঘর্ষের পর তূর্ণা নিশীথার একাধিক বগি উদয়নের কয়েকটি বগির ওপর উঠে যায়। এর মধ্যে দুটি বগি ভীষণভাবে দুমড়ে মুচড়ে যায়। চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেট ও ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

মিয়া জাহান জানান, দুর্ঘটনার পরপরই লাকসাম ও আখাউড়া থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদয়ন এক্সপ্রেস সামনের দিকের অক্ষত নয়টি বগি নিয়ে বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামে পৌঁছায়। আর মূল লাইন মেরামত শেষে বেলা পৌনে ১১টার দিকে তূর্ণা নিশীথা ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, তূর্ণা নিশীথার ইঞ্জিন সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বগিতে তেমন ক্ষতি হয়নি। আরেকটি ইঞ্জিন লাগিয়ে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

এদিকে এ দুর্ঘটনার ফলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ও সিলেটের পথে বেশ কয়েকটি ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে।

ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস সকাল ৭টায় নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রাম ছেড়ে গেলেও রাস্তায় আটকে থাকে দীর্ঘ সময়। চট্টগ্রাম থেকে অন্যান্য ট্রেনের সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

পূর্ব রেলের ডিভিশনাল কমার্শিয়াল অফিসার (ডিসিও) আনসার হোসেন বলেন, আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ছাড়েনি। সাড়ে ১২টার মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ঢাকাগামী মেইল ট্রেন কর্ণফুলী এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছে সকাল ১০টায়।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন