শনিবার | ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

এলএসইতে তালিকাভুক্ত হলো ‘বাংলা বন্ড’

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে (এলএসই) তালিকাভুক্ত হয়েছে বাংলা বন্ড এটিই প্রথম বন্ড, যার কার্যক্রম বাংলাদেশী টাকায় পরিচালিত হবে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশী টাকায় বন্ড ইস্যু করেছে। বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপের পরিচালন সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নে ৮০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করেছে আইএফসি।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে এলএসইতে তালিকাভুক্ত হয়েছে ৮০ কোটি টাকা বা প্রায় ৯৫ লাখ ডলার মূল্যের বন্ড। পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া বন্ড সফলতা পেলে পরবর্তী সময়ে আকার বাড়ানো হতে পারে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশী মুদ্রার বন্ড সাড়া পেলে ভবিষ্যতে তা বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এলএসই-প্রধান বাংলা বন্ডের তালিকাভুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আইএফসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্য পানীয় প্রক্রিয়াকরণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপের জন্য ৮০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার হবে।

লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, বাংলা বন্ডের তালিকাভুক্তি উপলক্ষে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে দ্য রিং দ্য বেল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পরই বিনিয়োগকারীদের নিয়ে ইনভেস্টরস রাউন্ড টেবিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগ সম্ভাবনার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে। আইএফসি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনীম অনুষ্ঠানগুলোয় উপস্থিত ছিলেন।

বন্ডের তালিকাভুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলা টাকার বন্ড মূলত আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছার প্রারম্ভিক যাত্রা।

এলএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আইএফসির উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলা বন্ডের সূচনা হলো, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী টাকাকে আরো সমৃদ্ধ করবে। স্থানীয় মুদ্রায় বন্ড ছাড়ার জন্য লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ অন্যতম। এখান থেকে মাসালা, ডিম সাম কোমোডোর মতো বন্ডগুলো হাজার ৩০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশী টাকাকে আমরা লন্ডনে স্বাগত জানাই।

আইএফসির এশিয়া প্যাসিফিকের ভাইস প্রেসিডেন্ট নেনা স্টলিকোভিচ বলেন, আইএফসির মতো ট্রিপল মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলা বন্ড ইস্যু করেছে, যা প্রাণ গ্রুপকে সহযোগিতা করবে। আমরা বাংলাদেশের যাত্রার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে থাকব।

আইএফসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ট্রেজারার জন গানডলফো বলেন, ক্রমবর্ধমান বাজারগুলোয় স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়নের বিষয়ে আইএফসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমাদের পরিকল্পনা হলো স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন অর্থায়নে আরো টাকা বন্ড ইস্যু করা।

জানা গেছে, বাংলাদেশে গ্রাহকদের ঋণ দিতে বিলিয়ন টাকা সমমূল্যের টাকা বন্ড কর্মসূচির বিষয়ে আইএফসির প্রস্তাবে ২০১৫ সালের অক্টোবরে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সরকার।

একই বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পায় আইএফসি। তবে বিনিয়োগ বোর্ডের (বর্তমানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) যাচাই কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে অনুমতি দেয়া হয়। বিনিয়োগ বোর্ডের যাচাই কমিটির কাছে -সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেয় আইএফসি। প্রাণ গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান প্রাণ এগ্রো নাটোর এগ্রো লিমিটেডের জন্য বন্ড ছাড়ার অনুরোধ করা হয় কমিটিকে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ৮০ কোটি টাকা। এতে সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে শতাংশ। সমান কিস্তিতে তিন পাঁচ বছরে পরিশোধ করতে হবে ঋণ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন