শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

বণিক বার্তা ডেস্ক

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশে। এছাড়া এখন পর্যন্ত মেঘনা নদীতে ঝড়ে নিখোঁজ পাঁচ জেলের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মৃতদের অধিকাংশ নিজ আবাসস্থল থেকে নিরাপদ স্থানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তাদের অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছচাপায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার তীব্র স্রোত ঘূর্ণিবায়ুর তোড়ে নৌকা উল্টে পাঁচ জেলে নিখোঁজ হন। ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ছয় হাজার ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলার প্রধান নির্বাহী সাইফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আটকে পড়া প্রায় হাজার ২০০ পর্যটককে উদ্ধারের জন্য গতকালই একটি জাহাজের সেখানে যাওয়ার কথা ছিল।

এদিকে প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ঘূর্ণিঝড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে। রাজ্য সরকারের দুর্যোগমন্ত্রী জাভেদ খান রোববার সন্ধ্যায় কথা জানান।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে উপকূলীয় জেলাগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

ভোলা: ভোলায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। এছাড়া মেঘনায় একটি মাছ ধরা ট্রলার ডুবে পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফা ঝড়ে লালমোহন চরফ্যাশন উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশেষত লালমোহন উপজেলার গজারিয়া চরপেয়ারী মোহন এবং চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর, নজরুল নগর, ওসমানগঞ্জ কলমিতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেশি। এছাড়া প্রবল বর্ষণে আমন ধানসহ প্রায় ৫০ শতাংশ ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলার লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের নং ওয়ার্ড পশ্চিম চর উম্মেদ ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে কয়েক মিনিটের টর্নেডোর আঘাতে অর্ধশত ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। উপড়ে পড়ে শতাধিক গাছ।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার রাব্বী বলেন, ওই সময় ঝড়ে মুহূর্তেই অর্ধশত বাড়িঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে। উপড়ে পড়ে বহু গাছপালা। ঘরের নিচে চাপা পড়ে আহত হয়েছেন ১০-১২ জন।

বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হোসেন রুমি জানান, ঝড়ে উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ২০টি ঘর সম্পূর্ণ ২৫টি আশিংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

অন্যদিকে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিন জানান, ঝড়ে উপজেলার চার ইউনিয়নের শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া সকাল থেকেই গোটা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় ভারি বর্ষণে বাঁধের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দুদিনের টানা বর্ষণে চলতি মৌসুমের আমন ধানসহ এখানকার প্রায় ৫০ শতাংশ ফসল নষ্ট হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ভোলায় এবার আমন আবাদ হয়েছে লাখ ৭৯ হাজার ২৮০ হেক্টর। এর মধ্যে টানা দুদিনের ভারি বর্ষণে ৫৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর ধান নষ্ট হয়েছে। ৫১৮ হেক্টর খেসারির পুরোটাই ক্ষতি হয়েছে। হাজার ৭৪২ হেক্টর শীতকালীন আগাম সবজির পুরোটাই নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ৫৩৬ হেক্টর বরজের মধ্যে ক্ষতি হয়েছে ১৩৪ হেক্টরের।

ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে টানা দুদিনের ভারি বর্ষণে জেলার কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেছেন। জেলার প্রায় ৫০ শতাংশ ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ আলম সিদ্দিক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে দুই বান্ডিল টিন, হাজার টাকা ২০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।

এছাড়া ভোলা- আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ ইসলাম জ্যাকব তার নিজ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন।

বাগেরহাট: বুলবুলের তাণ্ডবে বাগেরহাটে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড়ে জেলার ৬২টি ইউনিয়নের ৪৪ হাজার ৫৬৩টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৭৭৫টি আংশিক এবং হাজার ৭৮৮টি ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমির ফসল হাজার ২৩৪টি মত্স্য ঘের। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েক লাখ গাছ উপড়ে ভেঙে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে অর্ধশতাধিক বিদ্যুতের খুঁটি। বিদ্যুত্লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলায় ঘূর্ণিঝড়ে নিহতরা হলেন ফকিরহাট উপজেলার মাসুম শেখের স্ত্রী হিরা বেগম এবং রামপাল উপজেলার বাবুল শেখের মেয়ে সামিয়া খাতুন। এছাড়া সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকার বিপুল পরিমাণ গাছগাছালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, জেলায় মোট ৪৪ হাজার ৫৬৩টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু ফসলি জমি মত্স্য ঘেরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুজন নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে।

মিরসরাই: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও ফসল সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। জমিতে পানি জমে কাটা ফসল ডুবে গেছে। নুইয়ে পড়েছে ক্ষেতের ফসল।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি বছর মিরসরাইয়ে ২০ হাজার ৫০০ হেক্টর আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭০০ হেক্টর ধান ৫০ হেক্টর জমির সবজি। এছাড়া ১০০ হেক্টর খেসারি আবাদকৃত জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, কেটে রাখা পাকা ধানের জমিতে পানি জমে গেছে। অনেক জমির ধান নুইয়ে পড়েছে। হিঙ্গুলী ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত দীপক কুমার দে জানান, তিনি হাজার ৫০০ শতক জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। কিছু ধান পেকে গেছে। কয়েক দিন আগে পাকা ধান কেটে জমিতে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়সৃষ্ট বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে ধান পচে যাচ্ছে।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুল আলম জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে মিরসরাইয়ে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে যেসব ফসলি জমি সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বৃষ্টি বন্ধ হয়ে পানি নেমে গেলে ক্ষতি পুষিয়ে যাবে।

লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে বুলবুলের তাণ্ডবে রামগতি উপজেলার চরগজারিয়া তেলির চরে অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সময় ঘরে চাপা পড়ে অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

মেঘনা নদীর একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে অবস্থিত রামগতির চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নে কোনো সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেননি স্থানীয়রা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার চর আলেকজান্ডার এলাকায় অবস্থিত সাইক্লোন শেল্টারে অবস্থান নিতে বলা হলেও তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। গুটিকয়েক ব্যক্তি নদীর ওপারে আশ্রয়কেন্দ্রে গেলেও বেশির ভাগই নিজ বাড়িতে অবস্থান নেন।

চর আবদুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, সকাল ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড় শুরুর পর পরই চরগজারিয়া তেলির চর এলাকায় ছোট-বড় অন্তত ২৫টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়ে ভেঙে যায়। এছাড়া নদীর জোয়ারের পানি বেড়ে কিছু কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়া বৃষ্টি অব্যাহত থাকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে আমন ধান শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণের কাজ চলছে।

সাতক্ষীরা: বুলবুলের তাণ্ডবে সাতক্ষীরার ৪৭ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩০ হাজার ঘরবাড়ি। সময় হাজার ১৭টি মত্স্য ঘের, ১৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন সম্পূর্ণ ১০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে শীতকালীন সবজি, পান, সরিষা কুলসহ অন্যান্য ফসলেরও।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে জেলায় ১৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এছাড়া শীতকালীন ৮৪০ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, যার ক্ষতির পরিমাণ ৩৬২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। একইভাবে ৬০ হেক্টর জমির পান নষ্ট হয়েছে, যার মূল্য কোটি ১৮ লাখ টাকা। ৫০০ হেক্টর জমির সরিষা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং ১০০ হেক্টর জমির কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মূল্য কোটি টাকা।

প্রবল ঝড়ে শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী ইউনিয়নের তারাণীপুরে দেয়াল চাপা পড়ে ভ্যানচালক পলাশ তার স্ত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া শনিবার রাত ৯টার দিকে শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের আবুল কালাম (৬০) আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, তার ইউনিয়নের চার হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অধিকাংশ গাছ উপড়ে পড়েছে। তবে স্থানীয়রা সাইক্লোন শেল্টারে নিরাপদে আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ কাঁচা ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। অঞ্চলের অধিকাংশ মাছের ঘের ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। গাছপালা পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সেনাবাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।

সাতক্ষীরা জেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানান, আশাশুনি, শ্যামনগর কালীগঞ্জ উপজেলার হাজার ১৭টি চিংড়িঘের তলিয়ে গেছে। ৪১৪ টন চিংড়ি সাদা মাছ ভেসে যায়, যার আনুমানিক মূল্য ১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান, বুলবুলের আঘাতে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় ৪৭ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি মাছের ঘের। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ত্রাণসহায়তা দেয়ার কাছ শুরু হয়েছে।

খুলনা: খুলনার নয় উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নে ৪৭ হাজার ২৭৫টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল। এর মধ্যে শুধু রোপা আমনই রয়েছে ২৫ হাজার হেক্টর। সব মিলিয়ে নয় উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা তিন লাখ।

খুলনা জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল জানান, এখন পর্যন্ত এটি চূড়ান্ত তথ্য না। তালিকা চূড়ান্ত করতে আরো দু-তিনদিন লাগবে।

তিনি বলেন, বুলবুলে জেলার কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা পাইকগাছা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। তবে রূপসাসহ অন্যান্য উপজেলায়ও যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা চূড়ান্ত হতে সময় লাগবে।

কয়রা উপজেলা কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. জাফর রানা বলেন, এখন পর্যন্ত কয়রায় হাজার ৮০০ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যানরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পঙ্কজ কুমার মজুমদার জানান, খুলনায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন, ৮৬৪ হেক্টর শাকসবজি, ৫২ হেক্টর কলা, ১০০ হেক্টর পেঁপে, ৪০ হেক্টর সরিষা ৩৬ হেক্টর জমির পান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া জেলায় দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কয়রা দাকোপে হাজার ৪৬৫টি ঘরবাড়ি, ৭৫০টি ঘের পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দাকোপ উপজেলা পরিষদের বুলবুল কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, দাকোপ উপজেলায় প্রমিলা মণ্ডল (৫২) নামে এক নারী সকাল ৯টার দিকে ঝড়ের সময় নিজ বাড়িতে গাছচাপায় মারা গেছেন। শনিবার বিকালে দক্ষিণ দাকোপ সরকারি সাইক্লোন সেন্টারে অবস্থান নিয়েছিলেন প্রমিলা মণ্ডল। রোববার সকালে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে পাশেই থাকা নিজ বাড়িঘর দেখতে যান। সেখানেই তিনি গাছচাপা পড়ে নিহত হন। তার স্বামীর নাম সুভাস মণ্ডল।

দীঘলিয়ার সেনহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রদীপ কুমার বিশ্বাস জানান, বুলবুলের আঘাতে রোববার সকালে দীঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকায় আলমগীর নামে এক যুবক গাছচাপায় নিহত হন। ঝড়ে ভেঙে পড়া ডালপালা সরাতে গিয়ে তিনি নিজেই গাছচাপা পড়ে মারা যান। মৃত ব্যক্তির নাম আলমগীর হোসেন (৩০) তিনি স্থানীয় কাটানী পাড়া নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফি মিস্ত্রীর ছেলে।

এছাড়া খুলনার ৯১ হাজার ৮০০ হেক্টর আমন তিন হাজার হেক্টর জমির সবজির ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

সুন্দরবনের পশ্চিমে বন বিভাগের সাত স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত: এদিকে বরাবরের মতো এবারো খুলনাসহ উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করেছে সুন্দরবন। তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের গাছপালা উপড়ে পড়া ডালপালা ভেঙে যাওয়ার তথ্য জানা গেছে। সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের অভ্যন্তরে থাকা বন বিভাগের সাতটি স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো বন্যপ্রাণী ক্ষতি হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন জানান, সুন্দরবনের সামগ্রিক ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা চলছে। সার্ভে না করে সুন্দরবন বিষয়ে অনুমান করে কিছু বলা ঠিক হবে না। প্রাথমিকভাবে কোনো বন্যপ্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। কারণ ভাটার সময় ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে। ফলে জলোচ্ছ্বাস ছিল না। দমকা হাওয়ার কারণে বনের অভ্যন্তরের গাছপালা উপড়ে পড়া ডাল ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কারণে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এখনই করা কঠিন। আমরা চেষ্টা করছি স্বচক্ষে অবজারভেশনের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্ভুল ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তুলে ধরতে। সেজন্য দু-তিনদিন সময় লাগতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন