শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেশের খবর

হাঁসের হ্যাচারিতে স্বাবলম্বী রোপেজুন নেছা

বণিক বার্তা ডেস্ক

 হাঁসের হ্যাচারি পাল্টে দিয়েছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার রোপেজুন নেছার জীবন। মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে এ হ্যাচারি তার সংসারে সচ্ছলতা এনে দিয়েছে। তার সাফল্য দেখে এখন হাঁসের হ্যাচারি দিতে আগ্রহী হয়ে হয়েছেন আশপাশের আরো অনেকে।

জানা গেছে, রোপেজুন নেছা ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জাহানিটিলা গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী সাদ মিয়া হবিগঞ্জে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। স্বামীর একার আয়ে ছয় সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছিল রোপেজুন নেছাকে। সন্তানদের লেখাপড়া করানোও দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিল রোপেজুনের এ অবস্থা দেখে তাকে হাঁস পালনের পরামর্শ দেন লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা এফআইডিভিডি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের কর্মীরা। এ বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে তাকে তিনদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে রোপেজুন ২০০টি হাঁসের ডিম কিনে হ্যাচারি স্থাপনের উদ্যোগ নেন। তার আগ্রহ দেখে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে আরো ৭০০ হাঁসের ডিম বিনামূল্যে দেয়া হয়। এসব ডিম নিয়েই একটি হ্যাচারি চালু করেন রোপেজুন। ছেলের নামের সঙ্গে মিলিয়ে এর নাম দেন মামুন হ্যাচারি। এরপর আর রোপেজুনকে পেছনে তাকাতে হয়নি।

রোপেজুন জানান, এপ্রিলে তার হ্যাচারিতে ৭২০টি ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে। এর মধ্য থেকে একদিন বয়সী ৩০০ বাচ্চা তিনি বিক্রি করেন ১২ হাজার টাকায়। অবশিষ্ট বাচ্চাগুলো ২০ দিন পর্যন্ত লালন-পালন করে বিক্রি করেন ৩৫ হাজার ১৫০ টাকায়। সব মিলিয়ে প্রথমবার হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে তার নিট লাভ হয় ২৫ হাজার টাকা। এ সাফল্য পাওয়ার পর তিনি নিজের টাকায় এক হাজার ডিম কেনেন। দ্বিতীয়বার বাচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করে তার আয় হয় ১০ হাজার টাকা।

তিনি জানান, বর্তমানে তার হ্যাচারির তৃতীয় ব্যাচের ৫০০টি বাচ্চা এখন বিক্রির উপযুক্ত। চতুর্থ ব্যাচে আরো এক হাজার ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশীরাও আমার সাফল্য দেখে আনন্দিত। তাদের অনেকে এসে আমার হ্যাচারি থেকে হাঁসের বাচ্চা নিচ্ছেন। বাইরে থেকেও অনেকে বাচ্চা কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এখন আমি আমার সংসারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারছি। আমি আমার সন্তানদের লেখাপড়া করানোর সাহস ফিরে পেয়েছি।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ও সিএসআর ম্যানেজার হাবীবা ইসলাম জানান, রোপেজুন নেছার মতো পরিশ্রমী নারীর পাশে দাঁড়াতে পেরে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশও গর্বিত। নারীদের সহায়তায় আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন