মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বদ্বীপ

খাদ্যনিরাপত্তায় আশা জাগালেও কার্বন নিঃসরণ ও অ্যান্টিবায়োটিকে শঙ্কা জাগাচ্ছে এশিয়া

বদ্বীপ ডেস্ক

চীনসহ এশিয়ার মাছ, মাংস ও দুগ্ধ উৎপাদকরা বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ও অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে তারা আশঙ্কাজনকভাবে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন ও ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর (সুপারবাগ) বিস্তার নিয়ে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ নিরসনে এশিয়ার খামারগুলোর দায় বাড়ছে। কলার ফেয়ার প্রোটিন প্রডিউসার সূচক অনুযায়ী এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে

কলার ফেয়ার হচ্ছে বিশ্বব্যাপী ৬ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বিনিয়োগকারীদের একটি নেটওয়ার্ক। ৬০টি খাদ্য উৎপাদক কোম্পানির সমন্বয়ে ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ গ্রুপের মান নিয়ে গত বছরের জুনে প্রথম একটি সূচক প্রকাশ করে কলার ফেয়ার। পরিবেশগত, সামাজিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলোয় এসব কোম্পানির অবস্থান সম্পর্কে ধারণা দিতেকলার ফেয়ার প্রোটিন প্রডিউসার ইনডেক্স নামে একটি সূচক প্রকাশ করা হয়।

সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের বেশির ভাগ মাছ, মাংস ও দুগ্ধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানই গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছে। সূচকে বিবেচনাধীন ৬০টি কোম্পানির মধ্যে ৩২টি ছিল এশিয়ার। এ তালিকায় কেএফসি ও ম্যাকডোনাল্ডসের মতো ফুড চেইনে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম চীনের ফুজিয়ান সানার এবং ভারতের ভেঙ্কিস ইন্ডিয়া।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এ সূচক প্রকাশ করেছে কলার ফেয়ার। হালনাগাদ এ সূচকেও এশিয়ার কোম্পানিগুলোর অবস্থার খুব একটা হেরফের হয়নি।

তবে খাদ্যনিরাপত্তায় অবদানের দিক থেকে এশিয়ার চারটি কোম্পানি র্যাংকিংয়ে শীর্ষে জায়গা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বৃহত্তম দুগ্ধ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ইনার মঙ্গোলিয়া ইলি। খাদ্যনিরাপত্তায় ভূমিকা রাখা শীর্ষ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৪ শতাংশই এশীয়।

কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের দিক থেকে সবচেয়ে বাজে অবস্থার মধ্যে আছে চীন। কৃষি খাতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে চীন বিশ্বে প্রথম। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সূচকেউচ্চঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চীনের ১৬টির মধ্যে ১৫টি মাছ, মাংস ও দুগ্ধ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান। এসব কোম্পানি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। এছাড়া গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের সূচকেউচ্চঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এশিয়ার ৯০ শতাংশ কোম্পানি।

এসব আমিষ উৎপাদক কোম্পানির মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নির্বিকার ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।

সার্বিক বিচারে সর্বাধিক স্কোর পেয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে নরওয়ের মেরিন হারভেস্ট। আর এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভালো করছে থাইল্যান্ডের সিপিএফ।


প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদনে অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন চীনের খামারিরা। এ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের বৃহত্তম ভোক্তা দেশে পরিণত হয়েছে চীন। কলার ফেয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর (সুপারবাগ) বিস্তার রোধে বিশ্বব্যাপী প্রচার-প্রচারণার পরও এশিয়ায় লাইভস্টক খাতে এ ব্যাপারে কোনো বিকার দেখা যাচ্ছে না। কলার ফেয়ার সূচকে অন্তর্ভুক্ত এশিয়ার ৩২টি কোম্পানির মধ্যে ৯৭ শতাংশই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারেউচ্চঝুঁকির তকমা পেয়েছে। যেখানে ইউরোপের কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশে এমন চর্চা দেখা গেছে।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্যারিস চুক্তিও মেনে চলছে না এশিয়ার কৃষি খাত। বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ চেইন যেখানে বৈশ্বিক গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের ২৬ শতাংশের জন্য দায়ী, সেখানে এশিয়ার মাছ, মাংস ও দুগ্ধ সরবরাহকারীদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সূচক অনুযায়ী, এশিয়ার ৯০ শতাংশ কোম্পানিই কার্বন নিঃসরণ কমাতে ব্যর্থ। যেখানে ইউরোপের ৫০ শতাংশ কোম্পানির ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে উদাসীনতা লক্ষ করা গেছে।

তবে এর মধ্যে চীন ও ভিয়েতনামের দুটি কোম্পানি প্রাণিজ আমিষের বিকল্প হিসেবে উদ্ভিজ্জ আমিষ উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ফেয়ার ইনিশিয়েটিভের পরিচালক মারিয়া লেটিনি বলেন, ফাস্টফুড থেকে শুরু করে ঘরের খাওয়ার টেবিলে সাজানো খাবারের মধ্যে বেশির ভাগের উৎস এশিয়ার খামার। সূচকে সেসব কোম্পানিরই মূল্যায়ন করা হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা মানের বর্তমান অবস্থা দেখে এশিয়ার উৎপাদকরা উৎসাহিত হতে পারেন। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে তাদের আরো নজর দিতে হবে। এ দুটি বিষয়ে তারা নীতিনির্ধারকদের কথা শুনছেন না।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন