মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আন্তর্জাতিক ব্যবসা

যেভাবে মিডিয়া মুঘল মাইকেল ব্লুমবার্গ

বণিক বার্তা ডেস্ক

উদ্যোক্তা মানবহিতৈষী থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া মাইকেল ব্লুমবার্গকে নিউইয়র্কের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল মেয়র মনে করা হয়। বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী মিডিয়া মুঘল প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আলাবামা রাজ্যের প্রেসিডেন্ট প্রাইমারিতে লড়ার জন্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন ব্লুমবার্গ। এরই মধ্যে তার বড় একজন সমর্থক জুটে গেছেসহযোদ্ধা বিলিয়নেয়ার লিওন কুপারম্যান, যিনি ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়নের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের কড়া সমালোচক। 

ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে এরই মধ্যে দুই ডজনের বেশি সদস্য অংশ নিয়েছেন। সর্বশেষ ব্লমবার্গের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি জনাকীর্ণ লড়াইয়ে আরো মসলা যোগ করল। অন্যদের চেয়ে ব্লুমবার্গ এগিয়ে, এই অর্থে যে তাকে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য তহবিল সংগ্রহে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। নিজের অর্থেই প্রচারণার ব্যয়ভার বহন করতে পারবেন। ফোর্বসের হিসাবে দেখা গেছে মাইকেল ব্লুমবার্গের নিট সম্পদের পরিমাণ হাজার ২৪০ কোটি ডলার। তার এই বিশাল সম্পদ শুধু ট্রাম্পের রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্যকেই বামন হিসেবে উপস্থাপন করবে না, বরং ফেলো মিডিয়া মুঘল রুপার্ট মারডক, টেড টার্নার সুমনার রেডস্টোনের সম্পদ একত্র করলেও তার সমান হবে না। কীভাবে বোস্টন থেকে আসা এক অ্যাকাউন্ট্যান্টের ছেলে এত বিশাল প্রতিপত্তির মালিক হলেন?

আমরা আজকে যেভাবে ওয়াল স্ট্রিটকে দেখছি, তার উদ্ভাবন ছাড়া এমনটা দেখতে পেতাম না। ১৯৬৬ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ শেষ করার পর সলোমন ব্রাদার্স হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কের একটি বিনিয়োগ ব্যাংকের শেয়ারদর গণনার কাজ শুরু করেন তিনি। ওই প্রতিষ্ঠানটির হয়ে ওয়াল স্ট্রিটের বড় তারকা হিসেবে আবির্ভূত হন ব্লুমবার্গ। ১৯৭৯ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির উদীয়মান কম্পিউটার সিস্টেমস ইউনিটে কাজ করেন। এমনকি তিনি প্রতিষ্ঠানটির একজন অংশীদারও হয়ে ওঠেন। তবে ১৯৮১ সালে কমোডিটিজ ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান ফিব্রো করপোরেশনের সঙ্গে সলোমন ব্রাদার্স একীভূত হলে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোটি ডলার পান ব্লুমবার্গ। ওই অর্থ দিয়ে কার্লস জেগার, থমাস সেকুন্ডা ডানকান ম্যাকমিলানের সঙ্গে ইনোভেটিভ মার্কেট সিস্টেমস নামে তিনি একটি ফিন্যান্সিয়াল মিডিয়া সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। 

২০০১ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীব্লুমবার্গ বাই ব্লুমবার্গ’- তিনি লিখেন, ‘পুরনো প্রতিষ্ঠানে কী হচ্ছে, তা দেখার জন্য আমি বসে থাকিনি। আমি কখনো ফিরে যাইনি, পরিদর্শনও করিনি। আমি পেছনে ফিরে তাকাই না। একবার শেষ হলো, মানে শেষ। জীবন চলতে থাকে!’

আর্থিক তথ্যপ্রযুক্তির যে জ্ঞান তিনি সলোমন থেকে রপ্ত করেছিলেন, ১৯৮২ সালে ব্লুমবার্গ টার্মিনালে তা কাজে লাগিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী ব্লুমবার্গ। বিশেষ কিবোর্ডের মাধ্যমে তিনি এমন একটি সফটওয়্যার ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন, যার মাধ্যমে আর্থিক খাতের পেশাজীবীরা সরাসরি বাজার উপাত্ত পেতেন এবং ইলেকট্রনিক উপায়ে লেনদেন করতে পারতেন।

ওই সফটওয়্যার অ্যানালগ যুগে পড়ে থাকা ওয়াল স্ট্রিটকে বড় একটি ধাক্কা দেয়। বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দাঁড়ায়, যা টমসন রয়টার্সের এইকন, ফ্যাক্টসেট এসঅ্যান্ডপি ক্যাপিটালের আইকিউর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়।

১৯৮৬ সালে ইনোভেটিভ মার্কেট সিস্টেমসকে ব্লুমবার্গ এলপি নামকরণ করা হয়। ১৯৯৩ সালে ব্লুমবার্গ ডট কম নামে একটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানও চালু করেন তিনি।

ব্যবসায় সফলতায় তৃপ্ত না হয়ে ২০০১ সালে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে দাঁড়ান মিডিয়া মুঘল। নাইন ইলেভেন-পরবর্তী সময়ে রিপাবলিকান দলীয় মেয়র রুডি জুলিয়ানিকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বৃহৎ শহরের মেয়র হন ব্লুমবার্গ। নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে তাকে নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে; যখন তখন যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুলিশকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান, চার্টার স্কুলের উত্থান, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মেয়াদ সীমা বাতিল, যাতে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন। তবে ব্লুমবার্গের আমলে নিউইয়র্ক সিটির সার্বিক জীবনমানের উন্নতি হয়েছিল। অপরাধের হার কমে গিয়েছিল, স্কুল পাস শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছিল। শহরের রাজস্ব যেমন বেড়েছিল, তেমনি ব্লুমবার্গের নিট সম্পদের পরিমাণও বেড়েছিল।

গত মার্চে ফোর্বসের র্যাংকিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় নবম স্থানে এবং সম্পদশালী মিডিয়া মুঘলের তালিকায় উঠে আসেন মাইকেল ব্লুমবার্গ।      সূত্র: সিএনএন বিজনেস

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন