বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২১, ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

দেশের খবর

বাগেরহাট উপকূলে এখনো সাগরে মাছ ধরছেন অনেক জেলে

বণিক বার্তা প্রতিনিধি, বাগেরহাট

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, খুলনাসহ কয়েকটি জেলায় ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘোষণার পর থেকে জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলার গ্রামে গ্রামে মাইকিং করছে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজন। এর পাশাপাশি বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৬টি ইউনিট বিভিন্ন এলাকায় লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করছেন। পুলিশও রয়েছে সতর্ক অবস্থায়। ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত জানার পর সামান্য কিছু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছে। বেশিরভাগই অপেক্ষা করছেন চরম পর্যায়ের জন্য। এছাড়া বুলবুলের খবরে সাগরে থাকা মাছধরা ট্রলার ও নৌকা তীরে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখনও নদীতে এখনও অনেক নৌকা ও ট্রলারকে মাছ ধরতে দেখা গেছে।

এদিকে বুলবুল‘র মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন।

শনিবার সকালে বাগেরহাট দড়াটানা নদী সংলগ্ন দড়াটানা নদীতে দেখা যায় প্রায় দুই শতাধিক মাছ ধরা ট্রলার সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে। ট্রলারে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন, বুলবুলের খবর পেয়ে তরিঘরি করে চলে এসেছেন তারা। ফিরে আসা এক জেলে বলেন, ‘সাগরে প্রচুর মাছ ছিল। তারপরও প্রাণ বাঁচাতে চলে এসেছি। তবে এখনও অনেক জেলে সাগরে রয়েছে। আসলে গভীর সাগর থেকে ইচ্ছে করলেই চলে আসা যায় না। আসতে অনেক সময় লাগে বলে জানান তারা।


শরণখোলার দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আমিনুল খানা জানান, ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত জানার পর থেকে আমরা এলাকায় মাইকিং করছি। যাতে মানুষ দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যায় সে জন্য বলছি। 

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মাসুদ সরদার বলেন, ‘বুলবুলের প্রভাব মানুষকে জানিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য আমাদের ৬টি টিম বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করছে। এছাড়া জেলার ৫টি স্টেশনে ৮টি টিম প্রস্তুত রয়েছে। পার্শ্ববর্তী জেলাতেও কথা বলা আছে প্রয়োজনে সেখান থেকে কিছু ইউনিট বাগেরহাটের জন্য আনা হবে।’

জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে ৩০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি খাবারের আরও প্যাকেট তৈরির ব্যবস্থা চলছে। দূর্যোগের সময় চিড়া যেহেতু বেশি প্রয়োজন হয়, তাই আমরা বাজারে কয়েকটি চিরা কলকে তৈরি রেখেছি যাতে প্রয়োজন হলে তারা আমাদের চিড়া সরবরাহ করতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা ও প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম দূর্যোগের অধিক ঝুকিপূর্ণ উপজেলা শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলাতে অবস্থান করছে।’

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন