মঙ্গলবার | নভেম্বর ১২, ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬

শেষ পাতা

শ্রমিক লীগের সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন আজ। বেলা ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বেলা ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় অধিবেশন। অধিবেশনেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হবে।

শ্রমিক লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর অন্তর সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা থাকলেও টানা সাত বছর পার করছেন বর্তমান নেতৃত্ব। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই শ্রমিক লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুকুর মাহমুদ সভাপতি এবং জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ সাত বছর পর সম্মেলন হওয়ায় শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সেই সঙ্গে পরবর্তী নেতৃত্বে কারা আসছেন নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। বর্তমান সভাপতি শুকুর মাহমুদ স্বপদে বহাল থাকতে জোর তদবির করছেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামও সভাপতি হতে তদবির করছেন। সভাপতি পদে জোর আলোচনায় আছেন হাবিবুর রহমান আকন্দ, সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম, ফজলুল হক মন্টু, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, আমিনুল হক ফারুকসহ অনেকে। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন হুমায়ুন কবির, আলাউদ্দিন মিয়া, শাহাবুদ্দিন মিয়া, আহসান হাবীব মোল্লা, আবদুল হালিমসহ একাধিক শ্রমিক নেতা।

ইসরাফিল আলম বলেন, আমি ১৯৮৬ সাল থেকে শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে রয়েছি। নেত্রী যদি প্রয়োজন মনে করেন, তা হলে দায়িত্ব দেবেন। সেই দায়িত্ব আমরা সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করব। অতীতেও করেছি, এখনো করব।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব মোল্লা বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী ক্লিন ইমেজ কনসেপ্ট দিয়েছেন। যার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নিই, যিনি পারিবারিক সূত্রে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত, এমন মানুষকেই নেতা নির্বাচিত করা হবে। শেখ হাসিনা যে নেতৃত্ব আমাদের উপহার দেবেন, তার সঙ্গেই আমরা কাজ করব।

শ্রমিক নেতারা বলেছেন, বর্তমানে শ্রমিক রাজনীতি করতে হলে মানবাধিকার আইন, লেবার এগুলো জানতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাসহ (আইওএম) দেশে-বিদেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তাই শ্রমিক নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিষয়গুলোও নজর দেয়া দরকার। তাহলে শ্রমিক লীগ আরো বেশি শক্তিশালী হবে।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, দলের হাইকমান্ডও অপেক্ষাকৃত তরুণ, ত্যাগী স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব চাচ্ছে। তাই কৃষকলীগের মতো সংগঠনের শীর্ষ দুই পদেও আসতে পারে পরিবর্তন।

১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবরে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় শ্রমিক লীগ আগে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বলে বিবেচিত হতো। তবে নির্বাচন কমিশনের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ-২০০৮-এর বিধিমালা অনুযায়ী দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন করায় শ্রমিক লীগ ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা হারায়। অবশ্য সংগঠন দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মর্যাদা পাচ্ছে এখনো।

দেশের বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন শ্রমিক লীগের ৭৮টি জেলা ইউনিট ছাড়াও রয়েছে অনেক শাখা সংগঠন। রেলওয়ে শ্রমিক লীগ, বিদ্যুৎ শ্রমিক লীগ, বিএডিসি, ওয়াসা সিবিএ, বিসিআইসি, ঘাট শ্রমিক লীগ, চা-শ্রমিক লীগ, রিকশা-ভ্যান, মোটর-শ্রমিক, বাস পরিবহন, ট্রাক-লরি, ভূমিসহ বেশকিছু শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের নিয়ন্ত্রণে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন