বুধবার | নভেম্বর ২০, ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

বিপ্লব বা সংহতি নয় ৭ নভেম্বর সৈনিক হত্যা দিবস —তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক . হাছান মাহমুদ বলেছেন, নভেম্বর বিপ্লব বা সংহতি দিবস নয়, এটি সৈনিক হত্যা দিবস। দিনে দেশে কোনো বিপ্লব বা সংহতি হয়নি, হয়েছে সৈনিক হত্যা। দেশপ্রেমিক সৈনিকদের হত্যা করে জেনারেল জিয়া তাদের মরদেহের ওপর দিয়ে ক্ষমতা দখল করেন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গতকাল বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতপক্ষে ১৯৭৫ সালের নভেম্বর যা ঘটেছিল, তা হলো হত্যাকাণ্ড। সেদিন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, উপসেক্টর কমান্ডারসহ অনেককে হত্যা করা হয়েছে। খালেদ মোশাররফকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনের তিন কর্মকর্তাকেও হত্যা করা হয়। এটা আসলে বিপ্লব তো নয়ই, সৈনিক হত্যার মিশন। তাই বিপ্লব সংহতি দিবস হিসেবে দিনটি পালন করার কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখি না।

. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য সব হত্যার বিচার হওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে। বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। বিচার চলছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। নভেম্বর জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার হয়েছে। নভেম্বর অনেককে হত্যা করা হয়েছে, তাদের সবার বিচার হয়নি। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, তবে কুশীলবদের বিচার হয়নি মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নভেম্বরের অনেকের বিচার হলেও সংশ্লিষ্ট অনেকের বিচার হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য একটি কমিশন গঠন করে সত্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার বিচার হওয়া উচিত। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড, নভেম্বর নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড একই ধারাবাহিকতায় হয়েছে।

ক্র্যাবের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধনের আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকেই ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করে না, অথচ ডিএফপি থেকে রেট কার্ড নেয়। মন্ত্রী হয়ে আমি দেখেছি এমনও পত্রিকা আছে, যার ঢাকায় সার্কুলেশন এক হাজার, সারা দেশে পাঁচ হাজার। অথচ সুবিধা নেয়ার জন্য ঘোষণা দেয় দেড় লাখ। এসব বন্ধ করে তাদের শৃঙ্খলায় আনা হবে। পত্রিকাগুলো আমাদের কাছে সার্কুলেশনের এক হিসাব দেয়, ট্যাক্স অফিসে আরেক হিসাব দেয়। সরকারি দুই দপ্তরে দুই হিসাব চলবে না। তাদের নজরদারি শৃঙ্খলায় আনা হবে।

বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে পণ্য আমদানির নাম করে যারা বাজারে পণ্য বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় বেসরকারিভাবে বন্ডেড ওয়্যারহাউজের অনুমোদন ছিল না। সরকার তাদের অনুমতি দিয়েছে। তবে তাদের পণ্য বাজারে চলে আসে, এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। যেখানে যেখানে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, আপনারা সেসব সেক্টর ধরে রিপোর্ট করুন। তাহলে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে আমাদের সুবিধা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্র্যাবের সভাপতি আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক দীপু সারোয়ার, সহসভাপতি মিজান মালিক, ক্রীড়া সাংস্কৃতিক সম্পাদক জিএম তসলিম উদ্দিন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন