বুধবার | নভেম্বর ২০, ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

টেলিকম ও প্রযুক্তি

অসদাচরণের অভিযোগ

গুগল নির্বাহীরা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে খতিয়ে দেখছে অ্যালফাবেট

বণিক বার্তা ডেস্ক

গুগল নির্বাহীরা অসদাচরণের অভিযোগগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তা নিয়ে তদন্তে নেমেছে প্যারেন্ট কোম্পানি অ্যালফাবেট ইনকরপোরেশনের পরিচালনা পর্ষদ। অতীতে নারী কর্মীদের প্রতি গুগলের শীর্ষ নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগগুলোর সুষ্ঠুভাবে তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে সহায়তার জন্য স্বতন্ত্র একটি আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে, যা অভিযোগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। এসব অভিযোগ তদন্তের সঙ্গে অ্যালফাবেটের প্রধান আইন কর্মকর্তা সরাসরি যুক্ত থাকবেন। খবর সিএনবিসি।

বৈশ্বিক সার্চ জায়ান্ট গুগল কয়েক বছর ধরে নানা ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে। কর্মী বাহিনীতে বৈচিত্র্যহীনতা এবং মানবাধিকার ও নীতিনৈতিকতা বর্জন করে চীনের জন্য বিশেষ সার্চ ইঞ্জিন চালুরড্রাগনফ্লাই প্রকল্প হাতে নেয়ার পাশাপাশি নারী কর্মীদের প্রতি শীর্ষ নির্বাহীদের অসদাচরণের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়। গুগলের সাবেক শীর্ষ নির্বাহীদেরও আক্ষেপ করে বলতে দেখা গেছে, অ্যালফাবেট নিয়ন্ত্রিত গুগলের বিরুদ্ধে এত ভুল পদক্ষেপ নেয়ার অভিযোগ কেন? শুরুতে আমলে না নিলেও এখন অসদাচরণের মতো অভিযোগ নিয়ে বেশ নড়েচড়ে বসেছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরের শুরুর দিকে অ্যালফাবেটের পর্ষদ পরিচালকরা বিভিন্ন অভিযোগে করা মামলা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত ও মোকাবেলার জন্য একটি মামলা-মোকদ্দমাসংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করেন। ওই সময় কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গুগলের বিরুদ্ধে অংশীদারদের অভিযোগগুলো তদন্ত শুরু করে এ কমিটি। এবার শীর্ষ নির্বাহীরা অসদাচরণের অভিযোগগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তা তদন্তে নতুন কমিটি গঠন করল প্রতিষ্ঠানটি।

গুগলের নীতিভ্রষ্ট প্রতিভা হিসেবে সবার আগে সাবেক অ্যান্ড্রয়েড বিভাগের প্রধান অ্যান্ডি রুবিনের নাম উঠে আসে। অধীনস্থ এক নারী কর্মীর সঙ্গে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ থাকার পরও ২০১৪ সালের অক্টোবরে বীরের বেশে প্রতিষ্ঠান ছেড়েছিলেন তিনি। এমনকি আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকার পরও ওই সময় তাকে ৯ কোটি ডলার দেয়ার চুক্তি করেছিল গুগল।

অবশ্য চলতি মাসেই নির্বাহীদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন অসদাচরণের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিতে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে গুগল। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নির্বাহীদের অসদাচরণের অভিযোগ এবং এসব অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া নিয়ে বিশ্বব্যাপী একযোগে কর্মীরা বিক্ষোভ করেছিলেন। অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় পরিবর্তন তারই ফল বলে মনে করা হচ্ছে।

অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পরও গুগল যে তিন নির্বাহীকে রক্ষা করেছিল, রুবিন তাদের অন্যতম। এ ধরনের দুটি ঘটনায় গুগল জ্যেষ্ঠ নির্বাহীদের প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়েছিল। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকার পরও গুগল ছাড়ার বিনিময়ে তাদের বিপুল অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হয়।

গত সপ্তাহে কর্মীদের উদ্দেশে এক বিবৃতিতে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই জানান, অতীতে আমরা নানা ইস্যুতে সব সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এমন নয়। অতীতের বিষয়গুলোর জন্য আমরা দুঃখিত। অর্থাৎ একটা বিষয় খুবই স্পষ্ট যে আমাদের অভ্যন্তরীণ কিছু পরিবর্তন দরকার। কর্মীদের নানা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিতে গুগল আরো স্বচ্ছ হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন