বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২১, ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

কৃষক লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

কৃষিজমিতে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষি রক্ষায় আবাদি জমিতে শিল্প-কারখানা স্থাপন না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা উন্নত হব, শিল্পায়নে যাব। কিন্তু সেটা কৃষককে ত্যাগ করে নয়, কৃষিকে ত্যাগ করে নয়। কারণ কৃষি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, খাদ্য দেয়, পুষ্টি দেয়, সবকিছু করে। তাই আমরা উন্নয়ন প্রকল্পটা এমনভাবে নিই, যাতে কৃষক সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনফসলি জমিতে কোনো শিল্প-কারখানা স্থাপন করতে দেয়া হবে না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শিল্প স্থাপনের জন্য আমরা ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিয়েছি, যাতে কোনো কৃষিজমি নষ্ট না হয়। যেখানে-সেখানে ইন্ডাস্ট্রি করবে, এটা হতে পারবে না। তিনফসলি জমিতে তো অবশ্যই না।

শিক্ষিত তরুণদের কৃষির প্রতি অনীহা দূর করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যারা লেখাপড়া শেখে, তারা আর মাঠে যেতে চায় না। কৃষকের ছেলে, যার বাবা কৃষিকাজ করে লেখাপড়া শিখিয়েছে, তাকে অবশ্যই মাঠে যাওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, দুই পাতা পড়েই মনে করে আমি কেন যাব? আমার মনে হয় ওই চিন্তা থেকে দূরে থাকা দরকার। জায়গাটায় আমাদের কৃষক লীগের একটা ভূমিকা থাকা দরকার। আমি মনে করি, স্কুলজীবন থেকে মাঠে যাওয়ার অভ্যাসটা আমাদের থাকা দরকার।

এবার কৃষকের ধান কাটতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছিল। তখন ছাত্রলীগকে বলেছিলাম, তোমরা এখন মাঠে চলে যাও, সবাই ধান কাটার কাজে কৃষকদের সঙ্গে হাত লাগাও।

এটা লজ্জার কিছু না। নিজের কাজ নিজে করাতে লজ্জার কিছু থাকে না। নিজের ফসল নিজে উৎপাদন করব, নিজের খাবার নিজে খাব, তাতে লজ্জার কী আছে? কোনো কাজে লজ্জার কিছু নেই। বলেছি, সব কাজ করার মতো ক্ষমতা রাখি, প্রয়োজনে আমিও যাব। আমি আমার গ্রামে বলে রেখেছি, তোমরা যখন ধানের বীজতলা রোপণ করবা বা ধান কাটবা আমাকে খবর দিবা, দরকার হলে আমিও যাব। কারণ আমার এতে কোনো লজ্জা নেই।

বিএনপির আমলে সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা মনে করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আপনাদের মনে আছে, কৃষকরা সার চাইতে গিয়েছিল বলে তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। বিএনপির আমলে মৃত্যুবরণ করেন অনেক কৃষক। আর আওয়ামী লীগ সরকারে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমাদের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে সারের দাম কমিয়ে দিলাম। আমরা চার দফায় সারের দামে ভর্তুকি দিয়েছি।

কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বীজ সরবরাহের জন্য বঙ্গবন্ধুর চালু করে যাওয়া বিএডিসিকে অলাভজনক দেখিয়ে বিএনপি সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সব সময় লাভ-লোকসান দেখলে চলে না। কোনটা আমার দেশের মানুষের জন্য প্রযোজ্য, কোনটাতে দেশের মানুষ বেশি উপকার পাবে, সেটাই আমাদের দেখতে হবে। যে কারণে ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ কৃষিকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করেছিল।

রফতানিতে কৃষিপণ্যের প্রাধান্য নিশ্চিত করার পরিকল্পনার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রতিটি মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশ কেবল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ না, বরং উদ্বৃত্ত। আমরা এরই মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি নীতি-২০১৮ প্রণয়ন করেছি। এটি বাস্তবায়নও করে যাচ্ছি। কৃষি খাতে ভর্তুকি দিচ্ছি। আপনারা জানেন, ভর্তুকি দিতে গেলেই বিশ্বব্যাংক আপত্তি জানায়। তারা বলেছিল, কৃষিতে ভর্তুকি দেয়া যাবে না। ভর্তুকি দিলে আমরা টাকা দিতে পারব না। আমি বলেছিলাম, আপনাদের টাকা দেয়া লাগবে না। আমি যদি সরকার গঠন করতে পারি, নিজের টাকায় কৃষকদের সহায়তা দেব। গত ১১ বছর ধরে আমরা কৃষি খাতে ভর্তুকি প্রদান করছি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ দিয়েছি ১৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা।

সরকারপ্রধান বলেন, আমরা দুই কোটির বেশি কৃষককে কৃষি কার্ড করে দিয়েছি। তারা দোকানে কার্ড দেখালে খুব কম মূল্যে কৃষিসামগ্রী নিতে পারবেন। কোনো অনিয়ম যেন না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। আমরা সমগ্র বাংলাদেশে ১০ টাকায় কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করেছি। কোটি লাখ ৫১৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।

কৃষিকাজে সহযোগিতায় কৃষক লীগের অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগপ্রধান। তিনি বলেন, আমাদের একটা নীতি ছিল, একটা লোক তিনটা গাছ লাগাবে। আমি আশা করি, কৃষক লীগের প্রতিটি কর্মী গাছ লাগাবে। আমরা মনে করি, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। স্লোগানটা অহেতুক না, বাস্তব।

কৃষক লীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, কৃষি সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কৃষক লীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা, সর্বভারতীয় কৃষাণ সভার সাধারণ সম্পাদক অতুল কুমার অঞ্জন প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন