বুধবার | নভেম্বর ২০, ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেয়ারবাজার

দুদিনে দেড় শতাংশের বেশি বেড়েছে ডিএসইএক্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

থেমে থেমে দরপতনের মধ্যে গত দুদিনে দেশের পুঁজিবাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের কার্যদিবসে সূচকটি বেড়েছিল দশমিক ৫৪ শতাংশ। ডিএসইর পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। সূচকের পাশাপাশি দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে। বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার প্রভাবে গতকাল একদিনে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ৯৪ কোটি টাকা।

বাজারবিশ্লেষকরা বলছেন, টানা দরপতনের কারণে অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ারদর বর্তমানে বেশ আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে গতকাল ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি আইপিওর শেয়ার লেনদেনের প্রথম দিন থেকেই সার্কিট ব্রেকার আরোপে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই ক্রয় চাপের কারণে ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক, যা লেনদেন শেষ হওয়া অবধি বজায় ছিল। টেলিযোগাযোগ খাত ব্যতীত অন্যান্য বড় মূলধনি খাতের শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। এর ফলে গতকাল দিন শেষে আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৫১ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৭৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স।

ডিএসইর প্রধান সূচকের পাশাপাশি শরিয়াহ সূচক ডিএসইএসও বেড়েছে। দিনের ব্যবধানে প্রায় ৮ পয়েন্ট বেড়েছে ডিএসইএস। গতকাল ১ হাজার ৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে সূচকটি, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৮১ পয়েন্ট। ব্লুচিপ সূচক ডিএস-৩০ ১৭ পয়েন্ট বেড়ে দিন শেষে ১ হাজার ৬৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৬৩৭ পয়েন্ট।

গতকাল ডিএসইতে সূচক বাড়ার পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেনও বেড়েছে। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে ৩৮৫ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৩০৭ কোটি টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ২২১টির, কমেছে ৮১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৯টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, ডিএসইর লেনদেনের মোট ১৫ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ দখলে নিয়েছে বস্ত্র খাত। ডিএসইর লেনদেনের ১২ শতাংশ করে দখলে নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ব্যাংক এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত। ৬ শতাংশ দখলে নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, সাধারণ বীমা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত।

স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ দশ সিকিউরিটিজ ছিল ন্যাশনাল টিউবস, ব্র্যাক ব্যাংক, জেনারেশন নেক্সট, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, ভিএফএস থ্রেড, স্কয়ার ফার্মা, সিটি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, ফার্মা এইড ও সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স।

ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকার কোম্পানিগুলো হলো শমরিতা হসপিটাল, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, সিনোবাংলা, বসুন্ধরা পেপার মিল, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, সেন্ট্রাল ফার্মা, আলহাজ টেক্সটাইল ও হাক্কানী পাল্প।

অন্যদিকে গতকাল দর কমার দিক দিয়ে শীর্ষ কোম্পানিগুলো হচ্ছে রহিম টেক্সটাইল, ন্যাশনাল টিউবস, এমএল ডায়িং, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড,

বাটা সু, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, বিজিআইসি ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

দেশের আরেক শেয়ারবাজার সিএসইতেও গতকাল সূচক বেড়েছে। দিনের ব্যবধানে স্টক এক্সচেঞ্জটির প্রধান সূচক সিএসসিএক্স  প্রায় ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ৮ হাজার ৭৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৮ হাজার ৬৭৮ পয়েন্টে। সিএসইতে গতকাল লেনদেন হওয়া ২৬০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৭৬টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়েছে ৫৫টি আর অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির বাজারদর।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন