মঙ্গলবার | নভেম্বর ১২, ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬

টকিজ

‘দশ বছর ধরে এ চলচ্চিত্রের গল্প লালন করছি’

ফাহমিদা তাপসী

চনির্মাতা শাহনেওয়াজ কাকলীর ফ্রম বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের কথা এরই মধ্যে বেশ চাউর হয়েছে। যদিও শুটিং শুরু করেছিলেন বেশ রাখঢাক করেই, তবে গোপন থাকেনি তা। ফ্রম বাংলাদেশ নিয়ে তার কাছে জানার আছে অনেক কিছুই। ফলে যোগাযোগ করি নির্মাতার সঙ্গে। যখন ফোনে পাওয়া গেল, তখন তার ভেজা কণ্ঠই বলে দিয়েছে যে তিনি ঠিক ভালো নেই। আচমকা এমন পরিস্থিতিতে তাই প্রথম প্রশ্নটিই ছিল, কী নিয়ে মনের আকাশে মেঘ-বৃষ্টি অবাধ চলাচল করছে? তখন তার মুখেই শোনা হয় টি, কফি, ব্রাউনি, বাটার, মিল্কির গল্প। পাঁচটি নাম হচ্ছে শাহনেওয়াজ কাকলীর পোষা কুকুরের। এর মধ্যে বাটারকে নাকি দেখা যাবে ফ্রম বাংলাদেশ চলচ্চিত্রেও! দুদিন আগে কুকুরগুলোর মৃত্যু ঘটেছে বিষক্রিয়ায়। আর এটিই নির্মাতার মন খারাপের কারণ। যা- হোক, পোষা কুকুরগুলোর গল্প শুনতে শুনতে তার কাছে শোনা হয়েছে ফ্রম বাংলাদেশ নিয়েও অনেক কথা। কথোপকথনের খানিকটা পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো

লচ্চিত্রের নাম ফ্রম বাংলাদেশ কেন?

চলচ্চিত্রে সরাসরি যুদ্ধ দেখানো না হলেও গল্পটি পুরোপুরি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত।  স্পষ্ট করে বললে, যুদ্ধ চলাকালীন একটা পারিবারিক গল্প নিয়েই চলচ্চিত্রটি। যুদ্ধের সময় অনেক পরিবার দেশ ছেড়ে চলে যায়। ভিটেমাটি, সম্পত্তি সব ছেড়ে চলে যায় তারা। দেশ থেকে যারা চলে গিয়েছিল সে সময় বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে পাশের দেশ ভারতে, সে রকম এক পরিবারের গল্প এটি। দেশ ছেড়ে যারা চলে গিয়েছিল সে সময়, তারাই তো ফ্রম বাংলাদেশ। তাদের নিয়ে গল্প বলেই এমন নাম।

গল্পের ভাবনা মাথায় এসেছিল কখন?


এটা অনেক আগের গল্প। ১০ বছর হয়েছে গল্পের। এই দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদিনই মনের অজান্তে একটু একটু করে গল্পকে উন্নীত করেছি। অনেকটা সময় ধরে লালন করেছি মনের মধ্যে। একটা কথা না বললেই নয়, গল্পটা খুব ছোট আকারে আমাকে বলে মিশু মিলন। একদিন সে আমাকে তার গল্প ভাবনাটি জানায়। তখন তার মুখে শুনি একটা হিন্দু বাড়িতে একজন মুসলমান কাজের লোক ছিলেন যুদ্ধ চলাকালীন, সে বাড়ির গল্প। খুব ছোট আকারে শুনেছিলাম গল্পটি। তার মুখে শুনে আমি বেশকিছু প্রশ্নও করি মিশুকে সে সম্পর্কে। এরপর ওকে বলেছিলাম গল্পের একটা খসড়া যাতে করে নিয়ে আসে। আমার তখনই মনে হয়েছিল গল্পটা নিয়ে টেলিফিল্ম, চলচ্চিত্র কিছু একটা করা যায়। আর যেহেতু এটা ওর গল্প, তাই চাইছিলামও সে- যাতে এটি লিখে পাঠায়। যাতে গল্পটির স্বত্ব তার নামেই থাকে। যাই হোক, সে কয়েক দিন পরই গল্পটি লিখে নিয়ে আসে এবং আমরা দিনের পর দিন বসে সেটা উন্নীতকরণের চেষ্টা করে গেছি। গল্পটা পুরোপুরি দাঁড়িয়ে গেলে অনেকবার অনেকভাবেই এটি নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি কিন্তু কোনোভাবেই করা হয়ে উঠছিল না। শেষতক বছর ছবির কাজ শুরু করি।

কিন্তু ঠিক কখন মনে হলো, গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র বানানো যায়?

২০১২ সালে কলকাতায় একটা চলচ্চিত্র উৎসব আমার প্রথম ছবির স্ক্রিনিংয়ের জন্য যখন যাই, তখন সেখানের মানুষের কথা আমার ভেতরটাকে অনেক নাড়া দিয়েছিল। বাংলাদেশ নামটি শুনেই তাদের যে অনুভূতি দেখেছি, তা সত্যিই আমাকে খুব ভাবিয়েছে। কেউবা এসে তখন বলছিল, আপনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, কেউবা আবার জানাচ্ছেন যে তার নাকি বাড়ি ছিল ফরিদপুর, কেউ বলছেন বরিশাল। এমনকি একজন এভাবেও বলছিলেন, বাংলাদেশে তাদের যে বাড়ি ছিল, সে বাড়ির উঠানে একটা পেয়ারা গাছ ছিল। সবার কথা শুনে মনে হচ্ছিল সবাই যেন বাংলাদেশকে এখনো মনে-প্রাণে ধরে রেখেছেন। তাদের কথা শুনে মনে হচ্ছিল যেন তারা হাত বাড়ালেই বাংলাদেশকে ছুঁতে পারবেন, বাড়ির উঠানের সে গাছটাকে ধরতে পারবেন, সেই ফেলে আসা সময়টায় ফিরে যেতে পারবেন। সব মিলিয়ে অদ্ভুত টান এখনো তাদের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য। সেবার আমার মধ্যে এতটা খারাপ লাগার জন্ম নিল যে মনে হয়েছে এটা কী ভয়ংকর অনুভূতি, নিজের বাড়ি, দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া! আসলে গল্পটা কিন্তু তেমনই এক পরিবারের, যাদের নিজ দেশ ছেড়ে চলে আসতে হয়েছিল যুদ্ধের কারণে।


কতটুকু শুটিং শেষ হয়েছে?

আমার আসলে এখন সেই মানসিক অবস্থাই নেই যে ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে অ্যাকশন বলব। তবে কাজ তো আর কারো জন্য থেমে থাকবে না, এটা জানি। অন্যদিকে এখানে প্রবীণ অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদারের সময়ও নেয়া আছে, সেহেতু শুটিং পেছানোও কঠিন। অনেকটুকুই শেষ করে ফেলেছি। শেষের কিছু দৃশ্য নদীর কাছে শুটিং করা হবে। সেটুকু আমরা রেখে দিয়েছি। আরো দু-তিনদিন লাগবে হয়তো শেষ করতে। শিগগিরই বাকি অংশের কাজ শুরু করব। আর পোস্ট প্রোডাকশন মিলে আরো তিন-চার মাস লাগবেই পুরোপুরি শেষ করতে। 

ছবিটি মুক্তির বিষয়ে জানতে চাই

আসছে বছর বাংলাদেশের কোনো একটা বিশেষ দিনে মুক্তি দেয়ার ইচ্ছা রয়েছে। হতে পারে বিজয় দিবস বা এমন কোনো বিশেষ দিনে মুক্তি পাবে ফ্রম বাংলাদেশ। 

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন