বুধবার | নভেম্বর ২০, ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

ইস্পাত খাতে চীনের বিনিয়োগ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে ৫ কোটি টন

বণিক বার্তা ডেস্ক

বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক ব্যবহারকারী দেশ চীন। দ্রুত অগ্রসরমান অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের কারণে বৈশ্বিক ইস্পাতের উৎপাদন ব্যবহারের অর্ধেকের বেশি দেশটির দখলে। তবে দেশটি এখন ইস্পাতের বৈশ্বিক বাজার মোকাবেলায় উৎপাদন বাড়াতে জোরেশোরে কাজ করে যাচ্ছে। যার অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ইস্পাত খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে চীন। ফলে অঞ্চলে ইস্পাতের উৎপাদন সক্ষমতা পাঁচ কোটি টন বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, চীনে আগামী বছর ইস্পাতের চাহিদার প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি থাকবে। সময় দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা দশমিক শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস থাকলেও সেটি কমে শতাংশে আসতে পারে।

তবে এর বিপরীত চিত্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে। আগামীতে ইস্পাতের বৈশ্বিক ব্যবহারের সবচেয়ে বেশি হতে পারে অঞ্চলের দেশগুলোয়।  প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ইস্পাতের চাহিদা বাড়বে দশমিক শতাংশ। যেখানে আগের প্রাক্কলনে দশমিক শতাংশ বৃদ্ধির কথা জানানো হয়। অঞ্চলে অবকাঠামো খাতের দ্রুত প্রসারের কারণে ইস্পাতের চাহিদা বাড়বে। কারণেই উদীয়মান এসব বাজার ধরতে চীন এখন অঞ্চলের ইস্পাত খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চলেছে।

সাউথ-ইস্ট এশিয়া আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইনস্টিটিউটের (এসইএআইএসআই) মহাসচিব তান ইয়ং জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ইস্পাত খাতে মেগা প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে গত দু-তিন বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় বিশেষ করে ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়ায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে চীন।

২০০৭ সালে এসইএআইএসআইয়ের মহাসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তান ইয়ং। চলতি মাসেই তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তার বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোয় বর্তমানে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত অল্প পরিসরে উৎপাদন সক্ষম ছোট প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে চীন।

এরই মধ্যে বার্ষিক ৩০ লাখ থেকে এক কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন কয়েকটি মেগা প্রজেক্টে বিনিয়োগ করেছে চীন। এর মধ্যে চীনের দ্বিতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এইচবিআইএস গ্রুপ ফিলিপাইনের বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। লক্ষ্যে গত বছরের ডিসেম্বরে ফিলিপাইনের স্টিল এশিয়া ম্যানুফ্যাকচারিং করপোরেশন দেশটির রাষ্ট্রীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ফিভিডেকের সঙ্গে ৪৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগের একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে এইচবিআইএস। ফিলিপাইনের মিসামি ওরিয়েন্টাল প্রদেশে মেগা প্রকল্প তৈরি হতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এটাই হবে দেশটির প্রথম সমন্বিত ইস্পাত কারখানা। যার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা হবে ৮০ লাখ টনের বেশি। তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হয়ে উৎপাদনে আসতে পারে। যদিও বিনিয়োগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এর বাইরে গত সেপ্টেম্বরে ফিলিপাইনের স্টিল এশিয়ার সঙ্গেও ১০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের সমঝোতা স্মারক সই করেছে এইচবিআইএস। বাতাঙ্গাস প্রদেশে সমন্বিত ইস্পাত প্রকল্পে তৈরির কথা রয়েছে।

এছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চীনের পানহুয়া কোম্পানি মিসামি ওরিয়েন্টাল প্রদেশে একটি সমন্বিত ইস্পাত কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করেছে।

তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে ইস্পাত ব্যবহার বৃদ্ধির পূর্বাভাসের সঙ্গে সঙ্গে অনিশ্চয়তা আছে বলে মনে করেন তান ইয়ং। তার মতে, মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ, ব্রেক্সিট ইস্যুকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতির কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ইস্পাত ব্যবহার কমে আসার শঙ্কা রয়েছে। এর পরও এসব দেশের বাজারে প্রভাব বিস্তার করতে শীর্ষ উৎপাদক দেশ চীন বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন