বুধবার | নভেম্বর ২০, ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় জ্বালানি তেল উত্তোলন লক্ষ্য কমাবে কুয়েত

বণিক বার্তা ডেস্ক

জলাবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে বিশ্বজুড়ে তোড়জোড় চলছে। জার্মানিসহ উন্নত বিশ্ব অপেক্ষাকৃত কম কার্বন নিঃসরণকারী নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ঝুঁকছে। পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবস্থা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদে পেট্রোলিয়াম উত্তোলন সক্ষমতা লক্ষ্য কমিয়ে আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কুয়েত। ওপেকভুক্ত কোনো দেশের এমন সিদ্ধান্ত এটিই প্রথম। খবর ব্লুমবার্গ অয়েলপ্রাইস ডটকম।

জানা গেছে, কুয়েতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রায় সংশোধন আনতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন সক্ষমতা সীমিত রাখার কথা বিবেচনা করছে। মূলত পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রবণতার আশঙ্কা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপসাগরীয় দেশটি।

বছর দুয়েক আগে কুয়েত ঘোষণা দেয়, ২০৪০ সাল নাগাদ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন সক্ষমতা বাড়িয়ে দৈনিক গড়ে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত করবে। বর্তমানে দেশটির জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন সক্ষমতা দৈনিক গড়ে ৩০ লাখ ব্যারেল।

পূর্বঘোষিত ওই লক্ষ্যমাত্রা থেকে সরে এসে সম্প্রতি কুয়েত জ্বালানি তেল উত্তোলনের নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনেকখানি কমিয়ে নির্ধারণ করেছে। ২০৪০ সাল নাগাদ দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন সক্ষমতা ধরা হয়েছে দৈনিক গড়ে ৪০ লাখ ব্যারেল। এছাড়া ২০২০ সাল নাগাদ উত্তোলন সক্ষমতা দৈনিক গড়ে ৩১ লাখ ২৫ হাজার ব্যারেলে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল দৈনিক গড়ে ৫০ লাখ ব্যারেল।

আরব উপসাগরীয় দেশটি গত বছরের শুরুর দিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন সক্ষমতা বাড়াতে খাতে ৫০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। কেপিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজার আল-আদসানি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বলেন, উত্তোলন বাড়াতে পরের পাঁচ বছরে খাতে ১১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এরপর থেকে ২০৪০ সাল নাগাদ খাতে আরো ৩৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

এছাড়া গত এপ্রিলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি বছর থেকেই কুয়েত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু করবে। জানুয়ারিতে দেশটির দৈনিক উত্তোলন সক্ষমতা ছিল গড়ে লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। বছরের শেষ নাগাদ উত্তোলন বাড়িয়ে দৈনিক গড়ে ৬০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত করার ঘোষণা দেন কেপিসি প্রধান।

উল্লেখ্য, ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে সৌদি আরব, ইরাক সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএনই) পরই কুয়েতের অবস্থান। সেপ্টেম্বরে দেশটি দৈনিক গড়ে ২৬ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন