শুক্রবার | ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পণ্যবাজার

ভারতের কৃষিপণ্য রফতানিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এমএসপি

বণিক বার্তা ডেস্ক

 কৃষকদের রক্ষায় কৃষিপণ্যে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়েছে ভারত সরকার ২০১২-১৩ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিভিন্ন কৃষি   কৃষিজাত পণ্যের এমএসপি ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এতে কৃষকরা কিছুটা লাভবান হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আন্তর্জাতিক কৃষিপণ্যের বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাতে বসেছে ভারত দাম বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের দাম অব্যাহতভাবে কমতির দিকে খুব শিগগিরই বাজার চাঙ্গা হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও দেখছেন না পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতিতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আমদানিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

বর্তমানে বিশ্ববাজারে কৃষিপণ্যের দাম ভারতের তুলনায় কম বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, বিশ্ববাজারে কৃষিপণ্যের দাম সামনের দিনগুলোতেও নিম্নমুখী থাকবে বাজারের হালের কারণেই আসিয়ান সম্মেলনে রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারত

আরসিইপি হচ্ছে একগুচ্ছ চুক্তি এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১৬টি দেশ এর মধ্যে ১০টি আসিয়ানভুক্ত; বাকিরা হলো চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ভারত গত সোমবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আসিয়ান সম্মেলনের শেষ দিন আরসিইপি চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও ভারতের আপত্তিতে তা হয়নি

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরসিইপির মতো চুক্তি রফতানি খাতকে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে কারণ এর ফলে রফতানির বিপরীতে আমদানি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আর ভারতের কৃষিপণ্যের বর্তমান এমএসপির কারণে সেটির সম্ভাবনা আরো প্রবল চুক্তির বিরুদ্ধে ভারতে কৃষক সংগঠনগুলো বিক্ষোভও করেছে

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে শেষ হওয়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হাজার ৮৬২ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য রফতানি হয়েছে সময় রফতানি কিছুটা বাড়লেও ২০১৩-১৪ অর্থবছরের চেয়ে ১৩ শতাংশ কম ওই বছর দেশটি রেকর্ড পরিমাণ কৃষিপণ্য রফতানি করে চলতি অর্থবছরে রফতানি এরই মধ্যে নিম্নমুখী এপ্রিল-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে হাজার ২৮৬ কোটি ডলার যেখানে গত বছরের একই সময় রফতানি আয় ছিল হাজার ৩৭৯ কোটি ডলার

কৃষি খাদ্যপণ্য-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ বিজয় সারদানা বলেন, ভারত সরকার যদি ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) আরসিইপির মতো চুক্তি করে, তাহলে এমএসপি রাখাটা অর্থহীন হবে কারণ আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে পণ্যের দাম বেশি এমন হলে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে না কিনে আমদানিতেই আগ্রহী হবে

এদিকে দক্ষিণ ভারতে ভুট্টা গমের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে কিন্তু বর্ধিত এমএসপির কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে আমদানি বাড়িয়েছে অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে কিনলে বেশি দাম পড়বে বলে জুসের কাঁচামালও আমদানি করা হচ্ছে

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় না করে এমএসপি নির্ধারণ করা হলে ভোক্তারা আমদানি করা পণ্য ব্যবহারের দিকে ঝুঁকবে ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করবেন তাদের জীবনযাত্রার ওপর যা মারাত্মক প্রভাব ফেলবে মন্তব্য করেন বিজয় ভারদানা

কেয়ার রেটিংসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মদন সাবনাভিসও মনে করেন, এমএসপির ফলে ভারতের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিশ্বব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চাল গমের মতো কৃষিপণ্যের উচ্চ মজুদ রয়েছে এর বাইরে কৃষিপণ্য উৎপাদনের প্রধান অঞ্চলে অনুকূল আবহাওয়া, বাণিজ্যযুদ্ধ, জ্বালানি খরচ কম এবং চাহিদা কম থাকায় দাম আরো কমে যেতে পারে

বিশ্বব্যাংকের কৃষিপণ্যের মূল্যসূচক অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জুলাই-সেপ্টেম্বরে দাম কমেছে শতাংশ গত বছরের তুলনায় যা দশমিক শতাংশ কম এছাড়া চলতি বছর কৃষিপণ্যের দাম শতাংশ কমে যেতে পারে এপ্রিলের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বার্ষিক শতাংশ দাম কমে আগামী বছর কৃষিপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন