মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেয়ারবাজার

পিপলস লিজিং

নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেলেই আমানতকারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের (পিএলএফএসএল) মতো প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলে আমি জানি না। তবে যারা প্রতিষ্ঠানটিকে পর্যায়ে নিয়ে এসেছে, তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান একনাবিনের প্রতিবেদন পেলেই আমানতকারীদের সুরক্ষার বিষয়ে সরকার পাশে থাকবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার কতটুকু থাকতে পারবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির দায় সম্পদের পরিমাণ জানতে হবে। তবে আমানতকারীদের টাকা দ্রুত ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে পিএলএফএসএলের আমানতকারীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার আমানতকারীদের সঙ্গেই আছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে একজন অবসায়ক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা নিরীক্ষার কাজ চলছে। তাদের বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীদের পক্ষে আতিকুর রহমান আতিক গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, পিপলস লিজিংয়ের ক্ষুদ্র আমানতকারীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ রেখে এখন তা ফেরত না পেয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন। তারা কোথায় গেলে টাকা ফেরত পাবেন, সেটার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না। অবস্থায় হাজারো আমানতকারী তাদের পরিবারের সদস্যরা একটি অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন। টাকা থেকে অনেক অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংসারের ব্যয় নির্বাহ, ছেলেমেয়ের লেখাপড়া চিকিৎসা খরচ চলত। এখন সব বন্ধ আছে। ক্ষুদ্র ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয় আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি অসাধু চক্র সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুসারে আমাদের সর্বশান্ত করে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তারা বিভিন্ন কৌশলে, নামে-বেনামে আমানতকারীদের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। পরিকল্পনা করেই তারা প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আমরা শঙ্কিত যে, এভাবে চলতে থাকলে চক্র সব দায়দেনা থেকে মুক্তি পাবে এবং বিদেশে টাকা পাচার হয়ে যাবে। আমানতকারীদের সব সঞ্চয় লুট করে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকসহ অন্যরা বিদেশে সেকেন্ড হোম বানাচ্ছেন। ধরনের পরিস্থিতিতে আমরা অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। অর্থমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি। আমানতকারীদের পক্ষে সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রশান্ত কুমার দাস, রানা ঘোষ, সামিয়া বিনতে মাহবুব, আবু নাসের বখতিয়ার কামার আহমেদ।

প্রসঙ্গত, ক্রমাগত লোকসানের মুখে থাকা পিপলস লিজিংকে অবসায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর কোম্পানিটিকে অবসায়নের জন্য উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে একজন অবসায়কও নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পিপলস লিজিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসান হাজার ৩২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ। ২৮৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির বিতরণকৃত ৬৬ শতাংশই ঋণই খেলাপি হয়ে পড়েছে। অবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা হারিয়েছে পিপলস লিজিং।

নিরীক্ষক পিনাকী অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস তাদের কোয়ালিফায়েড অপিনিয়নেও পিপলস লিজিংয়ের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাবসিডিয়ারি কোম্পানি পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টসহ ২০১৮ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ১৫৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আর তাদের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে হাজার ৩২৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির চলতি সম্পদের তুলনায় দায়ের পরিমাণ দশমিক ১১ গুণ বেশি।

সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরে পিপলস লিজিংয়ের সম্মিলিতভাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে টাকা ৫২ পয়সা, আগের হিসাব বছর যা ছিল ২৬ টাকা ৬৮ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত) এককভাবে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে টাকা ২৪ পয়সা, আগের হিসাব বছর যা ছিল ২৭ টাকা পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত) ৩১ ডিসেম্বর সম্মিলিতভাবে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ৫৯ পয়সা, এককভাবে যা ৬৫ টাকা ২৬ পয়সা। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সম্মিলিত এককভাবে শেয়ারপ্রতি নিট দায় ছিল যথাক্রমে ৬০ টাকা পয়সা ৬০ টাকা পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)

লিস্টিং রেগুলেশনের ধারা ৫০() অনুসারে, চলতি বছরের ১৪ জুন থেকে প্রথম দফায় ১৫ কার্যদিবসের জন্য পিপলস লিজিংয়ের শেয়ার লেনদেন স্থগিত রাখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এর পর থেকেই প্রতি দফায় ১৫ কার্যদিবস করে কোম্পানিটির লেনদেন স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ। সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর ষষ্ঠ দফায় কোম্পানিটির লেনদেন আরো ১৫ কার্যদিবস স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন