বৃহস্পতিবার | নভেম্বর ২১, ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

প্রথম পাতা

কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ‘কর্নেল কমান্ড্যান্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান সেনাপ্রধানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

আধুনিক যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার জন্য ইঞ্জিনিয়ার কোরের সব সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। নাটোরের কাদিরাবাদের ইঞ্জিনিয়ার সেন্টার অ্যান্ড স্কুল অব মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গতকাল সেনাবাহিনী প্রধানকে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের সপ্তম কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত করার পর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে আহ্বান জানান তিনি।

কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের জ্যেষ্ঠ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক জ্যেষ্ঠ সুবেদার মেজর অনারারি ক্যাপ্টেন রশিদ সেনাবাহিনী প্রধানকে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের কর্নেল কমান্ড্যান্ট র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এরপর তিনি কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের সদস্যদের উদ্দেশে দরবার গ্রহণ করেন। দরবার শেষে কর্নেল কমান্ড্যান্ট কোয়ার্টার গার্ড পরিদর্শন করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর আগে সেনাবাহিনী প্রধান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত অধিনায়কদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ইতিহাস ঐতিহ্যময় বীরত্বগাথায় সমুজ্জ্বল। স্বাধীনতার পর কতিপয় অফিসার সৈনিক নিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের আত্মত্যাগের গৌরবে গৌরবান্বিত কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের যাত্রা হয়। স্বাধীন দেশে স্যাপার্সের কোনো ইউনিট ছিল না, কোনো সেন্টার বা রেকর্ড ছিল না। পাকিস্তানিদের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বেশির ভাগ কর্মকর্তা সৈনিককে অন্তরীণ রাখা হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর সেনাবাহিনী কমান্ড কর্তৃক প্রদত্ত এক সমনে স্যাপার্স কর্মকর্তারা ঢাকায় একত্র হন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম এক ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যাটালিয়নের ফিল্ড কোম্পানিগুলোকে একেকটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। এছাড়া সদরঘাটের ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কোম্পানিকে ঢেলে সাজিয়ে রিভার সাপোর্ট ইউনিট নামে পুনর্গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোর আপন মহিমা, স্বকীয়তা বৈশিষ্ট্যে এরই মধ্যে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হয়েছে। আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ক্রমাগত উন্নতির সোপানে আরোহণ করে চলছে এবং সেনাবাহিনীর উন্নয়নের পাশাপাশি দেশ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

দেশ গঠনে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের অবদানের কথা উল্লেখ করে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, দেশের আর্থসামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে কোরের অবদান আজ জাতীয়ভাবে স্বীকৃত। কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের সৈনিক কর্তৃক স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক পরিবেশ রক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের মাধ্যমে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে। বিভিন্ন জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প, ঢাকা মহানগরীর মেগা প্রজেক্ট হাতিরঝিল এলাকায় সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প, ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে সরকার গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন সড়ক অবকাঠামো নির্মাণসহ এয়ারপোর্ট রোডে আন্ডারপাস, মিরপুর ফ্লাইওভার, রুমা থানচি ব্রিজ নির্মাণ, উখিয়া রামুতে বৌদ্ধবিহার নির্মাণ সংস্কার এবং পদ্মা বহুমুখী সেতুর সংযোগ সড়ক পদ্ধা সেতু রেলওয়ে লিংক প্রজেক্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করা হয়েছে। কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স এসব প্রকল্পে অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

কোরের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ২০১৮ সালের ২৫ জুন সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ায় সম্পর্ক সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করল। কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই আপনাদের সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। কর্নেল কমান্ড্যান্ট হিসেবে আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা হবে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর সব সদস্যকে নিয়ে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা। সেনাবাহিনীর প্রথাগত কাজের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে আমাদের অর্থনৈতিক অবকাঠামোগত উন্নতিসহ সব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যখনই সুযোগ আসবে তখনই তাতে অংশগ্রহণ করে দেশের অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। আমি এখন থেকে আপনাদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে তথা কোরের কল্যাণে যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণে সর্বদা সচেষ্ট থাকব। আমরা সবাই মিলে কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান আধুনিকতায় সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সদিচ্ছায় এরই মধ্যে সেনাবাহিনীর সম্প্রসারণ আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে। কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স আমাদের সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান সাপোর্টিং আর্মস। তাই বাহিনীর উন্নয়নে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন