মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

পাইকারিতেই ১১০ টাকা ছাড়িয়েছে পেঁয়াজের কেজি

নিজস্ব প্রতিবেদক

অব্যাহতভাবে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে গতকালই পাইকারিতে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ১১০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। একইভাবে দাম বেড়েছে রাজধানী ঢাকা দিনাজপুরের হিলিতেও।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে গতকাল প্রতি কেজি ইন্ডিয়ান সাউথ নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১১০-১১২ টাকায়। খুচরা বাজারগুলোয় বিক্রি হচ্ছে আরো বেশি দামে। বিভিন্ন খুচরা বাজারে এদিন ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১২০-১২৫ টাকায়। তবে মিয়ানমার মিসর থেকে আমদানি করা এর চেয়ে কম দামে বিক্রি হতে দেখা যায়।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার ঈদের আগে খাতুনগঞ্জে আমদানীকৃত প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৩০-৩২ টাকায়। ঈদের পর আগস্টের শেষ দিকে একই পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৪৫ টাকা কেজি দরে। পরবর্তী সময়ে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে কয়েক দফায় বাড়ে পেঁয়াজের দাম। সেপ্টেম্বরে ভারত থেকে সরবরাহ কমতে থাকলে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৬০-৬৫ টাকায় উঠে যায়। তবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ভারত তাদের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিলে পণ্যটির দাম এক লাফে কেজিপ্রতি ৯০-১০০ টাকায় উঠে যায়। কিছুদিন আগে দাম সামান্য কমলেও বর্তমানে পেঁয়াজের বাজার ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৯০ টাকা। কিন্তু মজুদ ফুরিয়ে আসায় প্রতিদিনের আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। কারণে অল্প পরিসরে যেসব পেঁয়াজ আসে, সেগুলো নিমিষেই বিক্রি হয়ে যায়। আবার চীন, মিসর মিয়ানমার থেকে যে পেঁয়াজ আসছে, সেগুলো দ্রুত পচনশীল। ফলে চাহিদার অতিরিক্ত পেঁয়াজ আমদানি করছেন না ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স বাঁচামিয়া সওদাগর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. আইয়ুব বণিক বার্তাকে বলেন, যে পরিমাণ চাহিদা, সে অনুপাতে সরবরাহ নেই। তাই দাম বাড়ছে। দেশে পেঁয়াজের যে মজুদ ছিল, তা শেষ হয়ে গেছে। ফলে বৈশ্বিক নির্ভরতার ওপর চলছে দেশের পেঁয়াজের বাজার। ভারত বাংলাদেশের নতুন উৎপাদন মৌসুম ছাড়া বাজার স্বাভাবিক হবে না। এজন্য বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজের আমদানি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি উদ্যোগে হলেও আমদানি করা প্রয়োজন।

পুরনো এলসির বিপরীতে ভারত পেঁয়াজ রফতানি না করায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পণ্যটির সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে মাত্র একদিনের ব্যবধানে হিলিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। একদিন আগে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১০ টাকায়।

সরেজমিন হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারকের গুদাম ঘুরে দেখা গেছে, বন্দরের কোনো আমদানিকারকের গুদামেই পেঁয়াজ নেই। একজন আমদানিকারকের গুদামে অল্প কিছু পেঁয়াজ থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে ১১০ টাকা কেজি দরে। দুদিন আগেও পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকায়।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মাহফুজার রহমান বাবু বলেন, কয়েক দফা বৈঠক শেষে অক্টোবর আগের এলসির এক হাজার টন পেঁয়াজ রফতানি করে ভারত। বাকি পেঁয়াজ দুর্গা পূজার ছুটি শেষে রফতানির কথা বলা হলেও ২২ অক্টোবর মাত্র ৫০ টন পেঁয়াজ রফতানি করে দেশটি। বন্দর দিয়ে বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানি একেবারে বন্ধ রয়েছে। ভারতীয় রফতানিকারকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাতে নভেম্বরের শেষ দিকে পেঁয়াজ রফতানিতে হয়তো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে পারে দেশটি।

এদিকে মিসর তুরস্ক থেকে দু-একদিনের মধ্যে পেঁয়াজের বড় চালান দেশে পৌঁছলে দাম কমে আসবে বলে সরকারের তথ্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আমদানিকারকদের উৎসাহিত করতে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে এলসি মার্জিন সুদের হার হ্রাস করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক পদক্ষেপ নিয়েছে। স্থল নৌবন্দরগুলোয় আমদানীকৃত পেঁয়াজ দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাসের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সে মোতাবেক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমদানীকৃত পেঁয়াজ খালাস করা হচ্ছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকে বর্ডার ট্রেনের মাধ্যমে টেকনাফ বন্দর দিয়ে আমদানীকৃত পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি হাটগুলোয় বিক্রীত পেঁয়াজ দ্রুত সারা দেশে নির্বিঘ্নে পৌঁছে যাচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন