শনিবার | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

শেষ পাতা

২০২০ সালে ২২ দিন সরকারি ছুটির ৮ দিনই সাপ্তাহিক বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২০ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সাধারণ নির্বাহী আদেশে ছুটি মিলিয়ে আগামী বছর ২২ দিন ছুটি থাকছে। এর মধ্যে আটদিনই সাপ্তাহিক বন্ধের দিন অর্থাৎ শুক্র শনিবার। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক নিয়মিত বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জানাতে ব্রিফিং করেন বিদায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগামী বছর সাধারণ ছুটি ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি হবে আটদিন। এর বাইরে বিভিন্ন ধর্মের চাকরিজীবীদের জন্য আলাদাভাবে ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে মুসলমানদের জন্য পাঁচদিন, হিন্দুদের জন্য আটদিন, বৌদ্ধদের জন্য পাঁচদিন খ্রিস্টানদের জন্য রয়েছে আটদিন। এর বাইরে শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য আরো দুদিন ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

দিনের কাজ দিনে শেষ করা মন্ত্রিপরিষদের বড় অর্জন: চার বছর মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর আজ থেকে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন শফিউল আলম। নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে শফিউল আলম বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে আমার শেষ সেশন ছিল, তাই মন্ত্রিসভা আমাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে। আজকে ঠিক চার বছর পূর্ণ করলাম। ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর শুরু করেছি, ২৮ অক্টোবর শেষ করলাম। সবার দোয়ায় আমি আজ (গতকাল) রাতেই ওয়াশিংটন যাচ্ছি।

চার বছরের দায়িত্ব পালনে অর্জন নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাদের ক্যাবিনেটের অনেকগুলো অর্জন আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজে খুবই সন্তুষ্ট। আপনারা বুঝতে পারেন কিনা জানি না। আমাদের অনেক বড় একটি পরিবর্তন হলো, আমরা দিনের কাজ দিনে শেষ করি। আজকে ক্যাবিনেট মিটিং, আজকে প্রসিডিং সই-টই হয়ে শেষ। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করে চূড়ান্ত। আর যদি বেশি বড় হয়, তবে হয়তো রাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফাইল পাঠাই। রাতেই তিনি সই করে দেন।

বিদায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শুধু ক্যাবিনেট মিটিং না, ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি, অন্য যে মন্ত্রিসভা কমিটিগুলো আছে সবগুলোয় আমরা নিয়মটা অনুসরণ করি। সমন্বয় সভা বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে সভাসহ আমাদের নিজস্ব যে মিটিংগুলো আছে, সেগুলো একইভাবে করি। হয়তো ১০টায় আমরা মিটিং করলাম, ১২টা-১টার দিকে আমরা রেজল্যুশন শেষ করে দিই। চর্চা আমরা অব্যাহত রেখেছি। এটাতে আমরা নিজেরা স্যাটিসফায়েড যে কাজটা শেষ করে দিলাম। পেন্ডিং থাকল না।

শফিউল আলম আরো বলেন, গত কয়েক বছরে আমাদের এপিএ (বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি), এনআইএস (জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল), সিটিজেন চার্টার, আরটিআই সবগুলোর ব্যাপারে আমরা ডকুমেন্টেশন করেছি। সবগুলোর ব্যাপারে গাইডলাইন, গাইডবুক দেয়া আছে। কেউ যদি কোনো বিষয়ে বুঝতে চায়, তবে আমাদের গাইডলাইন অনুসরণ করলে সুবিধা হবে। সবকিছু ডকুমেন্টেড আছে, আমাদের ওয়েবসাইটেও দেয়া আছে। এনআইএস এপিএতে আমরা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে গেছি। উপজেলা পর্যায়ে এপিএ হয়, এটায় আমরা ভালো ফল পেয়েছি।

দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার জন্য সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছি, খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে। আপনারা প্রাইভেট সেক্টরে কাজ করেন, আমরা সরকারি কাজ করি রকম কখনো মনে হয়নি। আমরা একসঙ্গে কলিগের মতো কাজ করেছি। সবাই মিলে কাজ করেছি। আপনাদের যথেষ্ট সহযোগিতা পেয়েছি আমরা। এর পরও আমাদের পক্ষ থেকে যদি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে, কোনো কিছুর ব্যত্যয় হয়ে থাকে, আপনারা নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন, আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। সবাই ভালো থাকবেন।

গতকালের বৈঠকে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৯-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন